ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গার কৃতী সন্তান ও মাটি-মানুষের গর্ব সিআইপি মোহা. সাহিদুজ্জামান টরিককে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক রেমিট্যান্স ক্যাটাগরিতে অনন্য অবদান রাখার স্বীকৃতি পাওয়ায়মোমিনপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় মোমিনপুর এলাকাবাসীর আয়োজনে নীলমণিগঞ্জ ফুটবল মাঠে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নীলমণিগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফুর। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব সিঙ্গাপুর (বিডিচ্যাম)-এর সভাপতি, বিশ্বের অনাবাসী প্রবাসীদের শীর্ষ সংগঠন এনআরবি ওয়ার্ল্ডের প্রেসিডেন্ট এবং সাহিদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিআইপি মোহা. সাহিদুজ্জামান টরিক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘৩১ বছর আগে আমি সিঙ্গাপুরে গিয়েছি। সেখানে থেকে অনেক পরিশ্রম করেছি। আমি একদিনে সিআইপি হইনি। কষ্ট করতে করতেই আজকের এই অবস্থানে এসেছি। কিন্তু কখনো নিজের শিকড় ভুলিনি। ব্যবসা শুরু করার পর থেকে প্রতি দুই-তিন মাস পরপর চুয়াডাঙ্গার মাটিতে ফিরে এসেছি। কারণ এই জেলার মানুষের কাছে আমার ঋণ আছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে পড়েছি, মাথাভাঙ্গা নদীতে সাঁতার শিখেছি। তাই এই মাটির ঋণ শোধ করতেই বারবার ফিরে আসি।’
সাহিদুজ্জামান টরিক বলেন, ‘নীলমণিগঞ্জের কাছেও আমরা অনেক ঋণী। আমার ছোট ভাই আরিফুজ্জামান এখানকার মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় এবং বর্তমানে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছে। আমরা প্রবাসীরা কাজ করতে ভালোবাসি, স্বীকৃতি পেলাম কি না- তা নিয়ে চিন্তা করি না। গত ১৫ বছর ধরে খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের মধ্যে আমি সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছি। এ বছর বাংলাদেশে ৮০ জন রেমিট্যান্স যোদ্ধাকে সিআইপি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে আমি ৯ম স্থানে আছি।’
তিনি বলেন, ‘আপনারাই আমার অভিভাবক। আপনাদের কাছে আমি শুধু টরিক- কোনো ভিআইপি বা সিআইপি নই। আমি আপনাদের ভাই, সন্তান- এই পরিচয়টাই আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়।’ নিজের পারিবারিক জীবনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার বাবা ২০১০ সালে ও মা ২০১৯ সালে মারা গেছেন। আমি একজন এতিম। চুয়াডাঙ্গার প্রতিটি মায়ের মুখে আমি আমার মাকে দেখি, আর দাড়িওয়ালা পাগড়ি পরা মানুষদের মধ্যে আমার বাবাকে খুঁজে পাই। পাঁচকমলাপুর হাফেজিয়া মাদ্রাসার প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী আমার সন্তানস্বরূপ। আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’
এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে সাহিদুজ্জামান টরিক বলেন, ‘রাস্তাঘাট, ঋণ ও কৃষকদের সমস্যার কথা শুনেছি। অনেক ব্যাংকের এমডি ও চেয়ারম্যান আমার বন্ধু। তাদের সঙ্গে কথা বলে কৃষকদের কীভাবে সহায়তা করা যায়, এলাকার উন্নয়ন কীভাবে করা যায়- সে বিষয়ে আমি চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।’ তিনি আরও বলেন, ‘১০-১২ বছর আগে পাঁচকমলাপুরের পাশে ১৮টি সংযোগ রাস্তা করার ব্যবস্থা করেছিলাম। ভবিষ্যতে ধানের শীষে ভোট দিয়ে যদি আমার ভাই শরীফুজ্জামানকে জয়যুক্ত করেন এবং দেশে বিএনপি সরকার গঠন হয়, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে চুয়াডাঙ্গাকে আর অবহেলিত বলা হবে না। বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।’
সাহিদুজ্জামান টরিক বলেন, ‘এই জেলায় ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাব রয়েছে। আমরা চেষ্টা করব চুয়াডাঙ্গায় মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে। আমরা এই জেলাকে কিছু নিতে আসিনি- দিতে এসেছি।’ আইনের শাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গায় গায়ের জোরের রাজনীতি চলবে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। কেউ আমার বা আমার ভাইয়ের সঙ্গে ছবি তুলে তা মাদকের লাইসেন্স হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না।’
সবশেষে তিনি বলেন, ‘১২ তারিখে আপনারা ধানের শীষে ভোট দিন। আমি চুয়াডাঙ্গায় থাকব। ধানের শীষে ভোট দিয়ে আপনারা আমার ভাই শরীফুজ্জামানকে বিপুল ভোটে জয়ী করবেন।’
অনুষ্ঠানে মোমিনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান শেখনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন নীলমণিগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান ও মোমিনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম। এসময় চুয়াডাঙ্গা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও জেলা ব্যবসায়িক ঐক্য পরিষদের সভাপতি ইয়াকুব হোসেন মালিকসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও মোমিনপুর এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
