ছবির ক্যাপশন:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা-১ (সদর ও আলমডাঙ্গা) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ তুঙ্গে। এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফের পক্ষে ব্যাপক গণসংযোগে নেমেছেন দলটির প্রবীণ নেতা-কর্মীরা। শারীরিক অসুস্থতা ও বয়সকে উপেক্ষা করে ধানের শীষের বিজয়ে তারা এখন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আলমডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে চষে বেড়াচ্ছেন বিএনপির প্রবীণ কর্মীরা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে তারা সাধারণ ভোটারদের বোঝাচ্ছেন কেন এবার ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট দেওয়া প্রয়োজন। প্রবীণ এই নেতাদের উপস্থিতিতে ভোটারদের মাঝেও ব্যাপক কৌতুহল ও উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।
গতকাল বুধবার আলমডাঙ্গার মাদ্রাসাপাড়াতে প্রচারণায় অংশ নেওয়া ইকবাল হোসেন মিয়া বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে দীর্ঘকাল রাজপথে ছিলাম। জীবনের শেষ বয়সে এসে আবার ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইতে বের হয়েছি। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দেখে আমরা অভিভূত।’ তারা ভোটারদের কাছে বিগত বছরগুলোর বঞ্চনার কথা তুলে ধরছেন এবং চুয়াডাঙ্গার-আলমডাঙ্গা উন্নয়নে শরীফুজ্জামান শরীফের নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করছেন।
ধানের শীষের প্রবীণ কর্মী পিণ্টু রহমান বলেন, ‘আমাদের দলের মুরব্বিরাই আমাদের শক্তির উৎস। তারা যেভাবে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন, তা আমাদের অনুপ্রাণিত করছে। তিনি আরও বলেন, ভোটাররা যদি কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তবে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ধানের শীষের জয় সুনিশ্চিত।’
চুয়াডাঙ্গায় এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে। ৩১ জানুয়ারি আলমডাঙ্গায় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের কর্মশালা পর্যবেক্ষণকালে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানিয়েছেন, ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন সেজন্য সব ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে সক্রিয় রয়েছে।
আগামী সপ্তাহে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জমে উঠবে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে বিএনপির বয়স্ক নেতা-কর্মীদের এই ‘ডোর টু ডোর’ ক্যাম্পেইন সাধারণ ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলে, তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত।
