ছবির ক্যাপশন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত এই ইশতেহারে দলটি ঘোষণা করেছে যে, সরকার গঠন করলে তারা ২৬টি অগ্রাধিকারভিত্তিক বিষয়ে কাজ করবে। এর মধ্যে রয়েছে যুবক ক্ষমতায়ন, নারীর নিরাপত্তা, প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ। এছাড়া ইশতেহারে ৪১টি ভিশন বিষয়ক প্রস্তাবও উপস্থাপন করা হয়েছে। ইশতেহারের মূল স্লোগান- ‘ইনসাফ, সুশাসন ও কর্মসংস্থান’ শুধু প্রতিশ্রুতির তালিকা নয়, বরং এটি রাষ্ট্র সংস্কারের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা। জামায়াতের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের দীর্ঘ রাজনৈতিক উত্তেজনা, ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন, দুর্নীতি ও সামাজিক অসঙ্গতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থাকে জটিলতায় ফেলেছে। এই প্রেক্ষাপটে তাদের ইশতেহার কেবল ভোটারদের উদ্দেশ্যে নয়; এটি সমগ্র রাষ্ট্র কাঠামোর পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতি।
জামায়াত ক্ষমতায় আসলে নারীদের মন্ত্রী করা হবে:
ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, নারীদের যেন চাকরি না ছাড়তে হয়, সে জন্য মায়েদের কর্মঘণ্টা কমানোর কথা বলেছি। অথচ এটা নিয়ে নানা কথা ছড়ানো হলো। আমরা নাকি নারীদের চাকরি করতে দিতে চাই না। আমরা চাই অনেক নারী মা হওয়ার পর চাকরি ছেড়ে দেন, তাদের যেন চাকরি না ছাড়তে হয়, সে জন্য কর্মঘণ্টা শিথিল করার কথা বলেছি। এতে ওই মা চাকরিও করতে পারবেন, আবার সন্তান লালন-পালন করতে পারবেন। ওই মায়েদের সন্তানদের জন্য ডে কেয়ার সেন্টার থাকবে। আর বেতনের ক্ষেত্রে ওই মা যত ঘণ্টা কাজ করবেন, মালিক ততটুকুর বেতন দিবেন, বাকি সময়ের বেতন দিবে সরকার।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় আসলে নারীদের মধ্য থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মন্ত্রী থাকবেন। তিনি বলেন, প্রতিবেশী সবার সাথে আমরা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই। একই সাথে আমরাও সম্মান ও বন্ধুত্ব চাই। ডা: শফিকুর রহমান বলেন, আমরা বেকার ভাতা নয়, যুবকদের হাতে কাজ তুলে দেবো। চা শ্রমিকদের জন্য ইনসাফ করা হবে। একজন চা শ্রমিকের সন্তান যেন একদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। তিনি বলেন, পাহাড়ে অশান্তি দূর করতে চাই। পাহাড়ি-বাঙালি দূরত্ব ও বৈষম্য দূর করতে চাই। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমি আজকে একজন আহত সৈনিক। গত কয়েকদিন চরিত্র হননে আমার ওপর চার দিক থেকে মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে। যারা আমার চরিত্র হননের চেষ্টা করেছে, তাদেরকে আমি ক্ষমা করে দিলাম। আমি প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার রাজনীতি এ দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের, এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইজহার, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জাগপার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ এবং আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসঙ্ঘ, ইউএনডিপি, আইআরআই, এনডিআই, ডেমোক্র্যাসি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনীতিবিদরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সিনিয়র সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পেশার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা। জামায়াত আমির বলেন, আমাদের ইশতেহার হলো জনবান্ধব, ব্যবসাবান্ধব, শান্তিবান্ধব ও শৃঙ্খলাবান্ধব। আমরা বেসরকারি ব্যবসাকে বেশি উৎসাহিত করতে চাই। শিল্প মালিকরা হবেন দেশের আইকন। তাদের আমরা শিশুর মতো যত্ন নিবো। ডা: শফিকুর রহমান বলেন, আমরা বৈষম্য ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই। যদি ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয় তা হলে দেশ ৭০ ভাগ ঠিক হয়ে যাবে। তরুণরা জীবন ও রক্ত দিয়ে নতুন দেশ গড়ার পথ তৈরি করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা তরুণদের আকাঙ্ক্ষার নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই। তাদের আমানত যেন আমরা রক্ষা করতে পারি, খেয়ানত যেন না হয় সে দিকে সবার খেয়াল রাখতে হবে। তিনি বলেন, এ দেশ সবার। দেশ ভালো থাকলেই আমরা ভালো থাকবো।
অগ্রাধিকারভিত্তিক ২৬টি বিষয় :
জামায়াতের ইশতেহারে ২৬টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- জাতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ : স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা। ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক মানবিক রাষ্ট্র : বৈষম্যহীন ও মানবকেন্দ্রিক প্রশাসন। যুব ক্ষমতায়ন : রাষ্ট্র পরিচালনায় তরুণদের অগ্রাধিকার। নারীর নিরাপত্তা : নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র। আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা : চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ। দুর্নীতি নিরোধ : সৎ নেতৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ : আধুনিক ও স্মার্ট সমাজ গঠন।
কর্মসংস্থান : প্রযুক্তি, শিল্প, কৃষি ও সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগ। অর্থনৈতিক সংস্কার : ব্যাংক ও আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ। নির্বাচনী সংস্কার : সুষ্ঠু নির্বাচন, পিআর পদ্ধতি, শক্তিশালী তত্ত্বাবধায়ক সরকার। মানবাধিকার রক্ষা : বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ। জুলাই বিপ্লবের স্বীকৃতি: শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন। কৃষিতে প্রযুক্তি বিপ্লব : আধুনিক সরঞ্জাম ও সহায়তা। ভেজালমুক্ত খাদ্য ও ‘তিন শূন্য ভিশন’- পরিবেশ, বর্জ্য ও বন্যা ঝুঁকি শূন্যে নামানো। শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ : ক্ষুদ্র-মাঝারি এবং ভারী শিল্পের সম্প্রসারণ। শ্রমিক কল্যাণ : মজুরি বৃদ্ধি, নিরাপদ ও মানসম্মত কাজের পরিবেশ। প্রবাসী অধিকার : ভোটাধিকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। নাগরিক সমঅধিকার : সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু ভিত্তিক নয়, নাগরিকভিত্তিক।
স্বাস্থ্যসেবা : আধুনিক ও বিনামূল্যে চিকিৎসা, বিশেষ করে গরিবদের জন্য। শিক্ষা সংস্কার : বিনামূল্যে শিক্ষার ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন। দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীলতা : ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা। যাতায়াত ব্যবস্থা : রাজধানী ও বিভাগীয় শহরগুলোর দূরত্ব কমানো, সড়ক/ রেল উন্নয়ন। আবাসন : নিম্ন-মধ্যবিত্তের জন্য স্বল্পমূল্যে আবাসন। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ : বিচার ও সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রেখে পুনর্জন্ম রোধ। সামাজিক নিরাপত্তা : আন্তর্জাতিক মানের সামাজিক নিরাপত্তা। সুশাসন : স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। রাষ্ট্র কাঠামোর মৌলিক সংস্কার : ইশতেহারের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো শাসনব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার। দলটি মনে করে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সঙ্কটের মূল কারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীভবন। একক প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা, দুর্বল সংসদ, অকার্যকর মন্ত্রণালয় তদারকি- এসব মিলেই তৈরি হয়েছে ‘ব্যক্তিনির্ভর শাসন’।
তাদের প্রস্তাবনা : সংসদকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা : ক্ষমতা বিতরণে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য। শক্তিশালী সংসদীয় স্থায়ী কমিটি : মন্ত্রণালয় ও নীতির কার্যকারিতা নিয়মিত পর্যালোচনা। মন্ত্রীদের নিয়মিত জবাবদিহিতা : জনসেবার মানোন্নয়নে বাধ্যতামূলক। স্বাধীন তদারকি কাউন্সিল : প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে। প্রশাসনে দলীয় প্রভাব কমানো : পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনতে। নির্বাচনব্যবস্থায় সংস্কার : জামায়াত মনে করে, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র কার্যত অর্থহীন। তাই ইশতেহারে নির্বাচনসংক্রান্ত নানা প্রস্তাব রাখা হয়েছে : শক্তিশালী তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা; প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতি : ছোট দল ও নতুন রাজনৈতিক শক্তির অংশগ্রহণ বাড়ানো; নির্বাচনী ব্যয়ের কঠোর সীমা; কেন্দ্রভিত্তিক সিসিটিভি নজরদারি ও স্বাধীন ও পেশাদার নির্বাচন কমিশন। জামায়াত মনে করে- পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে একক দলীয় আধিপত্য কমে বহুদলীয় ভারসাম্য সৃষ্টি হতে পারে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স : দুর্নীতি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও প্রশাসনের প্রধান বাধা। জামায়াতের ইশতেহারে এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত পদক্ষেপ- সরকারি সেবা ডিজিটালাইজেশন; ঘুষমুক্ত অটোমেটেড লেনদেন; সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের হলফনামা; অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত; দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল; সরকারি দফতরে সিসিটিভি। ইশতেহারে ‘আমার হিসাব, আমার টাকা’ নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করার কথা বলা হয়েছে, যেখানে নাগরিকরা সরাসরি সরকারি আয়-ব্যয়ের তথ্য দেখতে পারবে।
অর্থনীতি : সঙ্কট থেকে পুনরুদ্ধারের রূপরেখা:
অর্থনীতি ইশতেহারের সবচেয়ে বড় অধ্যায়। দলটি মনে করে, গত বছরগুলোতে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমেছে, শিল্প বিনিয়োগ স্থবির, বেকারত্ব বেড়েছে এবং দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের পরিকল্পনায় রয়েছে- জেলাভিত্তিক শিল্পাঞ্চল, রফতানিমুখী কারখানা, প্রযুক্তিভিত্তিক উৎপাদন; ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (ঝগঊ) : স্বল্পসুদে ঋণ, ট্যাক্স সুবিধা, উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ; কৃষিতে প্রযুক্তি বিপ্লব : যান্ত্রিকীকরণ, সংরক্ষণাগার, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য; যুব উদ্যোক্তা তহবিল : স্টার্টআপে সরকারি বিনিয়োগ; প্রবাসী কর্মসংস্থান : নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান ও দক্ষতা উন্নয়ন ও সরকারি চাকরিতে আবেদন ফি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ। এছাড়া রয়েছে- ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত সংস্কার; খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর ব্যবস্থা; রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যাংক পরিচালনা; কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা; ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধি ও বিদেশে অর্থপাচার রোধ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আর্থিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব। শিক্ষা ও মানবসম্পদ : দলটি মানবসম্পদকে দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে দেখছে। প্রস্তাবিত উদ্যোগে রয়েছে- ধাপে ধাপে বিনামূল্যে শিক্ষা; কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা; গবেষণা তহবিল বৃদ্ধি; শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও শিক্ষাব্যবস্থার রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তকরণ। এ ছাড়া ডাক্তার ও শিক্ষকদের জন্য পৃথক পাবলিক সার্ভিস কমিশনের কথাও বলা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা : নাগরিক অধিকার- স্বাস্থ্যকে নাগরিক অধিকার হিসেবে দেখা হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় রয়েছে- উপজেলা পর্যায়ে আধুনিক হাসপাতাল; গরিবদের বিনামূল্যে চিকিৎসা; ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণ; মেডিক্যাল সিট বৃদ্ধি ও টেলিমেডিসিন ব্যবস্থা। এতে শহর-গ্রামের স্বাস্থ্যবৈষম্য কমানো সম্ভব বলে উল্লে খ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণের অংশ হিসেবে- উন্নয়ন যেন ঢাকাকেন্দ্রিক না হয়, এ জন্য বিকেন্দ্রীকরণে জোর দেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে-স্থানীয় বাজেট স্বায়ত্তশাসন; উন্মুক্ত বাজেট সভা; সামাজিক নিরীক্ষা; নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে জবাবদিহিতা বাড়বে। সামাজিক ন্যায় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র : সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বিভাজন নয়, নাগরিকভিত্তিক অধিকার- এটাই জামায়াতের বার্তা। এ প্রসঙ্গে প্রস্তাবিত পদক্ষেপে রয়েছে- সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি; নারী ও শিশুর সুরক্ষা ও প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী সহায়তা। জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার পুনর্বাসনকে জামায়াত সামাজিক সংহতি বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে দেখছে।
পররাষ্ট্রনীতি : জাতীয় স্বার্থ ও ভারসাম্য:
জামায়াতের মতে, পররাষ্ট্রনীতি হবে জাতীয় স্বার্থভিত্তিক। জামায়াতের প্রস্তাবে রয়েছে- প্রতিবেশীদের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক; বাণিজ্য কূটনীতি জোরদার; প্রবাসী সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ। অর্থনৈতিক কূটনীতি বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কর্মসংস্থান থেকে খাদ্যনিরাপত্তা : বাংলাদেশের টেকসই রাষ্ট্রগঠন অর্থনীতি, সমাজ ও পরিবেশ- এই তিন স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে। বলা হয়েছে যুবসমাজের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান না থাকলে বিদেশমুখী ঝুঁকি বেড়ে যায়। কৃষি দুর্বল হলে খাদ্যনিরাপত্তা বিপন্ন হয়। পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে উন্নয়ন স্থায়ী হয় না। তাই রাষ্ট্রপুনর্গঠনের যে কোনো পরিকল্পনায় এই খাতগুলোকে সমন্বয় করা জরুরি। প্রবাসী কল্যাণ ও খাদ্য নিরাপত্তা : প্রবাসীদের ভোটাধিকার ও সংসদে প্রতিনিধিত্ব। স্কিল ডেভেলপমেন্ট জোন (ঝউত) ও দক্ষ প্রশিক্ষণ। খাদ্যে ভেজালমুক্ত সরবরাহ ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং। মাছ, গবাদিপশু ও প্রাণিসম্পদ উৎপাদন বাড়ানো।
পরিবেশ, জলবায়ু ও পানিসম্পদ :
‘তিন শূন্য ভিশন’ বাস্তবায়ন : পরিবেশ, বর্জ্য ও বন্যা ঝুঁকি শূন্যে নামানো। নদী পুনঃ খনন, সেচ প্রযুক্তি ও আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনা। দুর্যোগ-সহনশীলতা : আগাম সতর্কবার্তা, আশ্রয়কেন্দ্র ও কমিউনিটি অংশগ্রহণ। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও জুলাই যোদ্ধাদের স্বীকৃতি : মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে প্রশাসন, বাজেট ও শিক্ষা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা। জুলাই বিপ্লবকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি : জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদফতর। শহীদ ও যোদ্ধাদের মাসিক ভাতা, আবাসন, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ। পার্বত্য চট্টগ্রাম : শান্তিচুক্তি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন : মৌলিক সেবা সম্প্রসারণ ও বৈষম্য দূরীকরণ। পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা। বাংলাদেশের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো বা জিডিপি বৃদ্ধি নয়; এটি মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুযোগের সাথে সংযুক্ত। জামায়াতে ইসলামীর ইশতেহার শ্রমিক, কৃষক, প্রবাসী, নারী ও যুব সমাজকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের একটি সমন্বিত পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে।
