হরিণাকুণ্ডুর বাজারে নকল ও ভেজাল সারের সয়লাব

উৎপাদন ব্যহত, প্রতারিত হচ্ছেন কৃষকরা

আপলোড তারিখঃ 2026-01-31 ইং
হরিণাকুণ্ডুর বাজারে নকল ও ভেজাল সারের সয়লাব ছবির ক্যাপশন:

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে পেঁয়াজ ও বোরো ধানের ভরা মৌসুমে নকল ও ভেজাল সার-কীটনাশকে বাজার সয়লাব হয়ে উঠেছে। এতে একদিকে কৃষকেরা প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়ছে কৃষি খাত। অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ কৃষক বাকিতে সার-কীটনাশক কেনায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিয়ে অনুমোদনহীন ও ভেজাল পণ্য সরবরাহ করছে।


কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, হরিণাকুণ্ডুর বিভিন্ন বাজারে নামি-দামি কোম্পানির মোড়কে নকল ও ভেজাল কীটনাশক দেদারসে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে সিনজেন্টা কোম্পানির নাম ব্যবহার করে ভেজাল গ্রোজিন দস্তা ও এমিস্টার টপ বিক্রি হচ্ছে বেশি। দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় এবং মোড়ক দেখে আসল-নকল চেনা কঠিন হওয়ায় কৃষকরা সহজেই প্রতারিত হচ্ছেন।


ফলসী ইউনিয়নের ফলসী গ্রামের কৃষক হাসান জানান, তিনি হরিণাকুণ্ডুর একটি এগ্রো পণ্য দোকান থেকে সিনজেন্টা কোম্পানির গ্রোজিন দস্তা সার কিনে প্রতি কেজি ২৭০ টাকা দরে ১০ কেজি সার ক্রয় করেন। জমিতে প্রয়োগের পর কোনো ফল না পেয়ে বিষয়টি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে জানান। পরে সিনজেন্টা কোম্পানির ফিল্ড অফিসার আজিজ নিশ্চিত করেন-এটি তাদের কোম্পানির পণ্য নয়।


অন্য কৃষক বাবুল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, অভিযোগ জানানোর পরও সংশ্লিষ্ট দোকানির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে সবচেয়ে বেশি ভেজাল বিক্রি হচ্ছে সিনজেন্টা এমিস্টার টপ নামের কীটনাশক, যা ধানের পচন রোগ দমনে ব্যবহৃত হয়। চাহিদা বেশি থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা এ সুযোগ নিচ্ছে।


একাধিক উপ-সহকারী কৃষি অফিসার স্বীকার করেছেন, কোম্পানির অনুমোদন ছাড়াই অনেক দোকানে কীটনাশক বিক্রি হচ্ছে। অধিকাংশ কৃষক বাকিতে পণ্য কেনায় দোকানিরা মেমু ছাড়াই অনুমোদনহীন ও ভেজাল কীটনাশক সরবরাহ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দোকানি জানান, হরিণাকুণ্ডুর বাজারে নামিদামি কোম্পানির মোড়কে ভরা ভেজাল কীটনাশক অর্ধেক দামে বিক্রি হচ্ছে।


এ বিষয়ে হরিণাকুণ্ডু উপজেলা কৃষি অফিসার শরীফ মোহাম্মদ তিতুমির বলেন, বাজারে ভেজাল ও নকল কীটনাশক থাকার বিষয়টি আমরা স্বীকার করছি। ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছি এবং কিছু দোকানের ভেজাল পণ্য জব্দ করে জরিপ করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে কৃষকদের অবশ্যই কীটনাশক কেনার সময় মেমু নিতে হবে, নইলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়।


অন্যদিকে ঝিনাইদহ জেলা কৃষি উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান বলেন, কৃষক যদি প্রতারিত হয়ে থাকেন, তবে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)