ছবির ক্যাপশন:
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের অলিনগর গ্রামে কথিত দরবার শরীফের নামের এক অসহায় নারী ও তার কন্যার বৈধভাবে ক্রয়কৃত জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী নুরুন্নাহার আখতার অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামীর মৃত্যুর সুযোগ নিয়ে প্রতিপক্ষরা পরিকল্পিতভাবে জমিটি জবরদখল করেছে।
নুরুন্নাহার আখতার জানান, তাঁর স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমান জীবদ্দশায় দেনমোহর বাবদ ২৭ শতক জমি তাঁর নামে রেজিস্ট্রি করে দেন এবং মৃত্যুর আগে ৭ শতক জমি তাঁদের কন্যা হাবিবা নওসীনের নামে রেজিস্ট্রি করেন। পরবর্তীতে কন্যা হাবিবা নওসীন আরও জমি ক্রয় করেন এবং নুরুন্নাহার নিজ নামে থাকা জমিও কন্যার নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। এসব জমির বৈধ দলিলপত্র তাঁদের কাছে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, স্বামীর প্রথম পক্ষের দুই ছেলে সিরাজুল ইসলাম ও মিরাজুল ইসলাম গুন্ডাবাহিনী নিয়ে এসে তাঁকে ও তাঁর কন্যাকে মারধর করে বসতঘর থেকে বের করে দেন এবং জমিটি দখল করে নেন। পরে সেখানে নারী কল্যাণ সংস্থার সাইনবোর্ড সরিয়ে কথিত দরবার শরীফের সাইনবোর্ড লাগানো হয়। জমিতে মদন মস্তানের কবর রয়েছে—এমন দাবিও করা হয়, যা ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে সম্পূর্ণ মিথ্যা।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অলিনগর গ্রামে কোনো মাজার বা দরবার শরীফ নেই। স্থানীয় বাসিন্দা আক্কাস আলী জানান, প্রকৃত মদন মস্তানের মাজার কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার কাতলামারি গ্রামে অবস্থিত। কাতলামারির দরবার শরীফের খাদেম রেজাউল হকও বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
অন্যদিকে অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম দাবি করেন, জমিটি পৈতৃক সম্পত্তি এবং ভুক্তভোগীরা ভুয়া দলিল তৈরি করে জমি দখলের চেষ্টা করছেন। তিনি জানান, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায্য বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
