ছবির ক্যাপশন:
শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যদিয়ে চুয়াডাঙ্গা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক শারমিন আক্তার।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘কেবল পাঠ্যবইয়ের শিক্ষায় শিক্ষিত হলেই চলবে না, ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব বর্তমান বিশ্বে অপরিসীম। চুয়াডাঙ্গা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা দেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’ তিনি শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া চর্চার ওপর জোর দিয়ে আরও বলেন, সহ-শিক্ষা কার্যক্রম মানসিক বিকাশে সহায়ক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের ৩২৯ টিএসসি স্থাপন প্রকল্পের সহকারী প্রকল্প পরিচালক মনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘সরকার কারিগরি শিক্ষাকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। চুয়াডাঙ্গার এই প্রতিষ্ঠানটি এই অঞ্চলের কারিগরি বিপ্লবের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে। আধুনিক প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষ হতে হবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রকৌশলী হালিম মাহমুদ ভূঁইয়া। তিনি সমাপনী বক্তব্যে বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু সার্টিফিকেট প্রদান নয়, বরং একজন শিক্ষার্থীকে হাতে-কলমে শিক্ষা দিয়ে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তোলা। বার্ষিক এই আয়োজন তাদের ভেতরের সুপ্ত মেধা বিকাশে সাহায্য করবে।’ তিনি সকল শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান অনুষ্ঠানের সফল বাস্তবায়নের জন্য।
বক্তব্য পর্ব শেষে শুরু হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত নাচ এবং গানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো কলেজ প্রাঙ্গণ। আধুনিক গাওনার পাশাপাশি দেশাত্মবোধক গানের সুর দর্শকদের মোহিত করে। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। পরে একই স্থানে একটি অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
