ছবির ক্যাপশন:
সেনা হেফাজতে মারা যাওয়া জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুর মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার আছরের নামাজের পর জীবননগর পৌর কেন্দ্র ঈদগাহ ময়দানে জীবননগর উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী, জেলা বিএনপি ও বিজিএমইএ’র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু।
তিনি বলেন, ‘কোন জায়গা থেকে শুরু করব, কোন জায়গা থেকে শেষ করব বুঝছি না। খালি এতটুকু বুঝি রাজনীতি করাটা একটা অপরাধ হয়ে গেছে আমাদের, বড় অপরাধ। আর বিএনপি করাটা বেশি অপরাধ হয়ে গেছে। একই কথার পুনরাবৃত্তি হবে। দীর্ঘ ১৭ বছর সংগ্রাম করলাম আমরা। একেকজনের জন্য একেক রকমের শাস্তি। কারো বিরুদ্ধে মামলা, কারো বিরুদ্ধে গায়েবি মামল, কারো বিরুদ্ধে দুদকের মামলা। মাসের পর মাস জেল খাটা। মাসের পর মাস, বছরের পর বছর কোর্টের বারান্দায় ঘোরাঘুরি করা। একটা সময় যখন মনে হচ্ছিল রাজনীতি আর করা হবে না আমাদের। সেই সময় আল্লাহর রহমতে স্বৈরাচার পতনের পর আমরা যখন নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু করলাম- রাজনীতি বুঝি করা যাবে। জানি না করা যাবে কী না, কিন্তু এটাও জানি দুই-চারজন পিছপা হলেও সবাই পিছপা হবে না। শোককে শক্তিকে রূপান্তরিত করা, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের সম্পর্কে মানুষের ধারণা পরিবর্তন করা, এটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’
ডাবলুর স্মৃতিচারণ করে বাবু খান বলেন, ‘আমরা সবাই বলতে পছন্দ করি। আমরা আমাদের নিজেকে জাহির করতে পছন্দ করি। আপনারা যারা তার সঙ্গে মিশেছেন, চলেছেন, তারা জানেন ছেলেটা কম কথা বলত। অনেক কম কথা বলত। যখন বলত একটা দুইটা কথাতেই সিদ্ধান্তটা জানিয়ে দিত, এটাই সিদ্ধান্ত। তো যারা কম কথা বলে, তারা ধারণ করে। ধারণ করার মাধ্যমে তারা মানুষের উপকার করে। এই ক্ষতি পূরণ হবার নয়। তারপরও আমাদের শোকে ভেঙে পড়লে হবে না। আমাদের ন্যায়ের পথে আইনের পথে থাকতে হবে।’
বিএনপির এই প্রার্থী আরও বলেন, ‘বলা হয় একটা পরিবারের সবচেয়ে যে দুষ্টু, সে বুঝি রাজনীতি করে। এই দুষ্টুরাই কিন্তু ১৯৭১ সালে অস্ত্র ধরেছিল। এই দুষ্টুরাই কিন্তু ৯০-এর আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়েছিল। এই দুষ্টু বালক-বালিকারাই কিন্তু এই ২৪-এর আন্দোলনকে সফল করেছে। যারা দূর থেকে বড় বড় কথা বলেন, বড় বড় লেখালেখি করেন, ভাষণ দেন, তাদের জ্ঞাতার্থে জানাতে চাই- এই দুষ্টুরা আছে বলেই বাংলাদেশ আজ স্বাধীন হয়েছে। আমরা সবাই ভালো থাকব। আশা করি এই দুঃখ-কষ্ট এই প্রাণ বৃথা যাবে না।’
দোয়া মাহফিলে শামসুজ্জামান ডাবলুর বড় ভাই শরিফুল ইসলাম কাজল বলেন, ‘আমরা যেন আমার ছোট ভাইয়ের হত্যার বিচার দেখে যেতে পারি। আপনারা সেই ব্যবস্থা করেন। আমরা সঠিক বিচার চাই।’
দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান কবীর, জীবননগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী, সিনিয়র সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, জীবননগর পৌর বিএনপির সহসভাপতি তাজুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিউদ্দিন শফি, জীবননগর পৌর যুবদলের আহ্বায়ক হযরত আলী, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব কামরুজ্জামান কামরুল, পৌর যুবদলের সদস্যসচিব মনির হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মোকলেছুর রহমান রাসেল, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আরসাফ হোসেন, সদস্যসচিব সুমন বিশ্বাস, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মোকছেদুর রহমান রিমন, জীবননগর ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রিংকু ও সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ। সভা উপস্থাপন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সদস্য শ্রাবণ।
