ছবির ক্যাপশন:
আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর দিনই চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ নিজের বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করে গণসংযোগ শুরু করেছেন। পরে আলমডাঙ্গা উপজেলা শহরে ও চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরে গিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ করেন। আলমডাঙ্গায় এবং চুয়াডাঙ্গা শহরে তাঁর গণসংযোগে হঠাৎ করেই ব্যাপক লোকসমাগম হয়ে ওঠে। সাধারণ মানুষের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ গণসংযোগকে বিশাল মিছিলে পরিণত করে। মো. শরীফুজ্জামান শরীফের গণসংযোগকালে আলমডাঙ্গা শহর এবং চুয়াডাঙ্গা শহর ধানের শীষের স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া ও অংশগ্রহণ প্রচারণার প্রথম দিনেই আলোড়ন সৃষ্টি করে।
পিতা-মাতার কবর জিয়ারতের মাধ্যমে গণসংযোগের সূচনা:
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আলমডাঙ্গা উপজেলার পাঁচকমলাপুর গ্রামে হাজী শামসুজ্জোহা বিশ্বাস জামি’আ আরাবিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে পিতা-মাতার কবর জিয়ারতের পর পাঁচকমলাপুর গ্রামের ভোটারদের কাছে তিনি দোয়া চেয়ে গণসংযোগ শুরু করেন। এসময় চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘নির্বাচনের প্রথম দিন আমার বাবার হাতে গড়া এই মাদ্রাসা থেকে বাবা-মায়ের করব জিয়ারত করে আমরা তিন ভাই একসাথে চুয়াডাঙ্গাবাসীর কাছে দোয়া চাচ্ছি। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন যেন সুন্দর, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে হয়, তার জন্য আমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করেছি এবং চুয়াডাঙ্গাবাসীর কাছে আমরা দোয়া চাইব। আনুষ্ঠানিকভাবে এই পাঁচকমলাপুর থেকে আমাদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলো। জেলা বিএনপি আমাকে প্রচারণা করার জন্য একটি রোডম্যাপ প্রদান করেছে, আমি এই রোডম্যাপ অনুযায়ী ৯ তারিখ পর্যন্ত প্রচারণা চালিয়ে যাব। যাতে দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচনীর প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যেতে পারি, আমি সকলের কাছে দোয়া এবং ধানের শীষে ভোট চাই।’
এসময় শরীফুজ্জামান শরীফের মেজো ভাই ও চুয়াডাঙ্গার কৃতী সন্তান, বাংলাদেশ বিজনেস চেম্বার অব সিঙ্গাপুরের (বিডিচ্যাম) সভাপতি এবং বিশ্বের অনাবাসী প্রবাসীদের শীর্ষ সংগঠন এনআরবি ওয়ার্ল্ডের প্রেসিডেন্ট মোহা. সাহিদুজ্জামান টরিক সিআইপি বলেন, ‘আমার ছোট ভাই শরীফুজ্জামান শরীফ চুয়াডাঙ্গা সদর এবং আলমডাঙ্গা থেকে ধানের শীষের প্রার্থী। বিএনপি থেকে নির্বাচন করছে। আমাদের যে পারিবারিক মাদ্রাসা, এই মাদ্রাসা থেকে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করে ভোটের কার্যক্রম শুরু করলাম। আমরা চুয়াডাঙ্গাবাসীর কাছে দোয়া চাই, যাতে আমরা এই ভোটে সফল হতে পারি। এই ভোটে আমরা সবার দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা করতে যাব এবং আমার ছোট ভাই যেন চুয়াডাঙ্গা থেকে নির্বাচিত হতে পারে, আল্লাহ তায়ালার কাছে আমরা এই দোয়া করে আমরা ভোটের কার্যক্রম শুরু করলাম।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য অ্যাড. ওয়াহিদুজ্জামান বুলা, খন্দকার আব্দুল জব্বার সোনা, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটু, আলমডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান পিণ্টু, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা জেলা ইউনিটের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও প্রবাসী ব্যবসায়ী আরিফুজ্জামান আরিফ প্রমুখ। অশ্রুসিক্ত নয়নে দোয়া পরিচালনা করেন মোহা. সাহিদুজ্জামান টরিক সিআইপি।
আলমডাঙ্গা শহরে প্রথম গণসংযোগে হাজার হাজার নেতা-কর্মীর ঢল:
এরপর দুপুর ১২টায় আলমডাঙ্গা শহরের মিনি স্টেডিয়ামে পূর্বে থেকেই অপেক্ষমান ছিলেন হাজার হাজার নেতা-কর্মী। সেখানে গিয়ে নেতা-কর্মীদের সামনে হ্যান্ড মাইকে সংক্ষিপ্ত একটি বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ। সেখানে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আজকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রথম নির্বাচনী প্রচারণার দিন। আমার বাবার একটি মাদ্রাসা আছে, যেটা আমাদের পরিবার দ্বারা পরিচালিত হয়। আমরা বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছি। সর্বপ্রথম আলমডাঙ্গা উপজেলার এই জায়গা থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলো। আপনাদের সবার সাথে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। এমন কোনো গ্রাম, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন নেই, যেখানে আমার পদচারণা নেই। দুঃসময় থেকে শুরু করে আমি প্রত্যেকের বাড়ি গিয়ে, ফোন করে সংগঠিত করে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। আমরা ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য আন্দোলন করেছি। এই ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের সহযোদ্ধারা জীবন দিয়েছেন, বারবার জেল খেটেছেন। ১২ই ফেব্রুয়ারি এই দিনগুলোর প্রতিফলন ঘটানোর দিন। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারিতে আমাদের ১৭ বছরের কষ্ট, নির্যাতনের প্রতিফলন ঘটানোর দিন। সেই জন্য আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষে ১২ তারিখে ভোট দেওয়ার জন্য মানুষের দ্বারে-দ্বারে ভোট প্রার্থনা করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘দল থেকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেই সিদ্ধান্তের রোডম্যাপ অনুযায়ী প্রত্যেকটি ওয়ার্ড থেকে ইউনিয়নে আমি যাব। আমি ধানের শীষের প্রার্থী, দল আমাকে যেভাবে পরিচালনা করবে, সেইভাবে আমি নির্বাচন পরিচালনা করব।’ এরপর শহরের বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ শেষে পুনরায় একই স্থানে এসে একটি সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তব্য দেন আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শহিদুল কাউনাইন টিলু। তিনি বলেন, ‘আমরা আলমডাঙ্গা পৌরসভার মানুষের শুভেচ্ছা দিয়ে আজকে প্রথম নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছি। যদি এদিকে বিএনপি হারে, তাহলে আমাদের লজ্জার শেষ থাকবে না। বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাবে। এরই মধ্যে তারেক রহমানকে চুয়াডাঙ্গায় আনার জন্য আমাদের নেতা শরীফুজ্জামান শরীফ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আপনারা ধৈর্য্য ধারণ করুন। আমরা আলমডাঙ্গায় আজ থেকেই খোঁজ নেব- আপনারা প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে ভোট চেয়েছেন কি না। কোনো ইউনিয়নের সমন্বয় নেতৃবৃন্দ যদি তারা এই কাজে ব্যর্থ হন, তাহলে আমরা মনে করব তারা জামায়াতের এজেন্ট। জান্নাত আল্লাহ দেন নাকি জামায়েতের আমির দেন? আমাদের অনেক মা-বোন তাদের প্ররোচণায় পড়ে গেছেন, আমাদের তাদেরকে ভালো করে বোঝাতে হবে।’ এসময় আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আখতার হোসেন জোয়ার্দার, আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান আনিস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
চুয়াডাঙ্গা শহরে গণসংযোগে জনতার ঢল, স্লোগানে প্রকম্পিত শহর:
বিকেল চারটায় চুয়াডাঙ্গা শহরের টাউন ফুটবল মাঠ থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় বের হন মো. শরীফুজ্জামান শরীফ। চুয়াডাঙ্গা শহরের টাউন মাঠ থেকে শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, বড় বাজার, চৌরাস্তার মোড়, পুরাতন হাসপাতাল রোড, কোর্ট মোড়, কলেজ রোড ও হাসপাতাল রোড হয়ে ডিজিটাল মোড়ে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তব্য দেন মো. শরীফুজ্জামান শরীফ। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আজকে এই ধানের শীষের প্রথম নির্বাচনী প্রচারণা আমরা পাঁচকমলাপুর গ্রাম থেকে শুরু করে আলমডাঙ্গা পৌরসভা এবং চুয়াডাঙ্গা পৌরসভায় করেছি। প্রত্যেক ইউনিয়নে ইউনিয়নে মাইকে প্রচার শুরু হয়েছে, আমাদের নেতা-কর্মীরা আজকে থেকেই ইউনিয়নে ইউনিয়নে ও ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে লিফলেট বিতরণসহ ভোট প্রার্থনা করছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা এই ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য সংগ্রাম করেছিলাম। আমরা সুষ্ঠ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করেছি, এই আন্দোলন করতে গিয়ে আমাদের অনেক সহযোদ্ধা নিহত হয়েছেন, অনেক সহযোদ্ধা গুম হয়েছেন, অনেক নেতা-কর্মী বারবার জেলে গিয়েছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। যে কারণে আমরা আন্দোলন করেছি, তা আজ একযোগে চালিয়ে যাব এবং এই ধানের শীষের পক্ষে ভোটারদেরকে এক সাথে করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই নির্বাচনী প্রচারণার সময় আগামীকাল থেকে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে আমাদের দলের যে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি রয়েছে, সেই নির্বাচন কমিটি আমাকে একটা রোডম্যাপ দিয়েছে। সেই রোড ম্যাপ অনুযায়ী সমস্ত কর্মসূচি এই আসনে নির্বাচন কমিটি দ্বারাই পরিচালিত হবে। আমি সবার কাছে অনুরোধ রেখে শেষ করছি যে, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষতা বজায় রেখে এবং সবাইকে সহনশীল ধৈর্য্যশীল হয়ে আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রেখে আল্লাহর ওপর আস্থা রেখে আমরা এই ১২ তারিখটা অত্যন্ত সর্তকতার সাথে পার করব। আল্লাহ যেন আমাদের সহায় হন, আল্লাহ যেন আমাদের ধৈর্য্যশক্তি দেন, ধৈর্য্যধারণ করার তৌফিক দান করেন।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য অ্যাড. ওয়াহিদুজ্জামান বুলা, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিল্টন, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাড. এম এম শাহজাহান মুকুল, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি এম জেনারেল ইসলাম প্রমুখ।
