দেশের গন্ডি পেরিয়ে গুড় যাচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকায়

আপলোড তারিখঃ 2026-01-20 ইং
দেশের গন্ডি পেরিয়ে গুড় যাচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকায় ছবির ক্যাপশন:

আসিফ কাজল, ঝিনাইদহ:
কনকনে শীত ও অনুকূল পরিবেশ থাকায় এ বছর ঝিনাইদহ জেলার গাছিরা ব্যাপকভাবে খেজুরের গুড় উৎপাদন শুরু করেছে। ইতিমধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। ফলে জেলার হাট-বাজারগুলোতে বেড়েছে খেজুর গুড়ের বেচাকেনা। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার খেজুর গুড়ের মান ভালো থাকায় দামও পাচ্ছেন গাছিরা। হাটবাজারের পাশাপাশি অনলাইনে গুড়ের মার্কেট জমে উঠেছে।

ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৬টি উপজেলায় ১ লাখ ৪২ হাজার ২৩৫টি খেজুর গাছ রয়েছে। এর মধ্যে রস আহরণযোগ্য গাছের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার ৭৬০টি। চলতি শীত মৌসুমে জেলার ৬টি উপজেলা থেকে প্রায় ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ২৪১ লিটার খেজুর রস ও প্রায় ৮৭২ মেট্রিন টন খেজুর গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। জেলায় উৎপাদিত এসব খেজুর গুড় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকা এবং ইউরোপ আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়েছে।


ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বংকিরা গ্রামের আব্দুর রশিদ জানান, তিনি প্রতি বছর কানাডায় গুড় পাঠিয়ে থাকেন। গ্রামের আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে এক প্রবাসী তার কাছ থেকে গুড় কিনে থাকেন। তিনি বলেন, এক ভাড় গুড় ১৩০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৮০০ টাকায় বিক্রি করেন। একইভাবে কৃষ্ণপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম লিকু জানান, তার বড় ভাই আমেরিকা প্রবাসী। সেখানেও প্রতি বছর গুড় পাঠাতে হয়।


কোটচাঁদপুরের শিবনগর গ্রামের গাছি মহিরউদ্দীন জানান, গ্রামের সাধারণ গাছিরা সাবদারপুর হাটে গুড় বিক্রি করার জন্য আসেন। ওই হাটে ভেজাল গুড় খুব একটা আসে না। গুড়ের মান ভালো থাকায় বাইরের ব্যবসায়ীরা এখানে গুড় বিক্রি করতে আসেন। তিনি জানান, একজোড়া গুড় তিন হাজার টাকায় বিক্রি হয়।


ঝিনাইদহ শহরের ব্যাপারীপাড়ার আইনুন্নাহার আফসারী নামে এক নারী জানান, তিনি অনলাইনে গুড়ের ব্যবসা করেন। নিজের আত্মীয় স্বজন ও দেশের বিভিন্ন শহরের মানুষ তার কাছ থেকে গুড় কিনে থাকেন। তিনি সদর উপজেলার বংকিরা গ্রামের গাছি বাবলুর রহমানের কাছ থেকে ২৬০ টাকা কেজি গুড় কিনে বাইরে বিক্রি করেন।


কোটচাঁদপুরের সাফদারপুর গুড়ের হাটের ইজারাদার আবুল কাশেম বাবু বলেন, ঝিনাইদহ অঞ্চলে খেজুর গাছ কমে গেছে। তবে নতুন নতুন চারা আপনা-আপনি গজিয়ে উঠেছে। আগামীতে রস আহোরণযোগ্য গাছ বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, সরকার যদি খেজুর গুড়ের ঐতিহ্য ধরে রাখতে উদ্যোগ নেয়, তাহলে গাছিরা বাঁচবে। শীত এলে কৃষকরা এই খেজুর গাছের রস ও গুড় বিক্রি করে ভালো আয় করেন।


আবুল কাশেম বাবু জানান, প্রায় ৩৫-৪০ বছরের পুরোনো সাবদারপুরের হাট। প্রতি সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার এই গুড়ের হাট বসে। সপ্তাহে অন্তত ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার গুড় বেচাকেনা হয় এই হাটে। সরকারি সহায়তা পেলে গুড় উৎপাদন বাড়বে। যা দেশের অর্থনীতিতেও অবদান রাখতে পারে।


জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান বলেন, ঝিনাইদহ জেলায় ১ লাখ ৪২ হাজার ২৩৫টি খেজুর গাছ রয়েছে। এ বছর গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এর কারণ হলে কনকনে শীত ও ভালো আবহাওয়া। তিনি বলেন, জেলায় ছোটবড় ১৯৭টি হাটবাজারে গুড় বিক্রি হয়। এসব হাটে সপ্তাহে দুই দিনে পাঁচ কোটি টাকার গুড় বিক্রি হচ্ছে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)