ছবির ক্যাপশন:
চিকিৎসকদের সঙ্গে রোগীর স্বজনদের অসৌজন্যমূলক আচরণ ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসকরা। তারা জানান, নিরাপত্তাহীন পরিবেশে চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসকদের মনোবল ভেঙে পড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবায়। গতকাল শনিবার বেলা তিনটায় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সিনিয়র সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. এহসানুল হক তন্ময়ের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস।
তিনি বলেন, ‘রোড অ্যাকসিডেন্ট সারা বিশ্বেই ঘটে এবং এতে নানা ধরনের জটিল রোগী হাসপাতালে আসে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে তাদের চিকিৎসা দিই। কিন্তু রোগীর স্বজন কিংবা কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি যদি চিকিৎসকদের সঙ্গে অপ্রীতিকর আচরণ করে এবং হুমকি দেয়, তাহলে চিকিৎসকদের মনোবল ভেঙে পড়ে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপত্তার অভাবে ভবিষ্যতে জটিল দুর্ঘটনার রোগী গ্রহণ না করে রেফার্ড করতে বাধ্য হতে পারি। এতে সাধারণ জনগণই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ঢাকায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে দালালচক্র, ক্লিনিকের টানাটানি আর অতিরিক্ত খরচে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাবে।’ তত্ত্বাবধায়ক আরও বলেন, ‘চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত না হলে চুয়াডাঙ্গাবাসী যে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকার রাখে, তা থেকে তারা বঞ্চিত হবে।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে প্রিন্ট মিডিয়ায় কাদা ছোড়াছুড়ি করছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এসব ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’ ডা. বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গাবাসীর সহযোগিতা চাই। সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকলে আমরা নতুন উদ্যমে কাজ করব। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি নিতে বাধ্য হব।’
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন সদর হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আব্দুর রহমান ও ডা. মিলনুজ্জামান। এসময় উপস্থিত ছিলেন গাইনি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. আকলিমা খাতুন, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুজ্জামান মালিক খোকন, ডা. মাহবুবুর রহমান মিলন, চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের চিকিৎসক ডা. লায়লা শারমিন, গাইনি চিকিৎসক শাপলা খাতুনসহ সদর হাসপাতালের সকল চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
