ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় জমকালো আয়োজনে উৎসবমুখর পরিবেশে ‘নির্বাচনী অলিম্পিয়াড-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে অলিম্পয়াড ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান হয়। ‘সচেতন, সংগঠিত ও সোচ্চার জনগোষ্ঠীই গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যে দি হাঙ্গার প্রজেক্টের সহযোগিতায় সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক চুয়াডাঙ্গা জেলা কমিটির আয়োজনে গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণ কার্যক্রমের আওতায় এই নির্বাচনী অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক চুয়াডাঙ্গা জেলা কমিটির সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. সিদ্দিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ফারজানা কেতকী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সময়ের সমীকরণ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রফেসর সফিকুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাড. মারুফ সরোয়ার বাবু, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবু বকর সিদ্দিক, ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হাফিজুর রহমান, সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক মেহেরপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কনক আহমেদ, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট যশোর অঞ্চলের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী খোরশেদ আলম ও জেলা সমন্বয়কারী গিয়াস উদ্দিন। অনুষ্ঠানে সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক চুয়াডাঙ্গা জেলা কমিটির ডিস্ট্রিট ফ্যাসিলেটেটর মেহেরাব্বিন সানভীর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক চুয়াডাঙ্গা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুল ইসলাম সেলিম।
অলিম্পিয়াডে প্রথম হয়েছেন নিলুফা ইয়াসমিন, দ্বিতীয় জাহিদ হাসান, তৃতীয় মাহবুব ইসলাম আকাশ, চতুর্থ ওহিদুজ্জামান, পঞ্চম মুশফিকুর রহমান, ষষ্ঠ সুজাউদ্দীন, সপ্তম জসিম উদ্দীন, অষ্টম আবু বকর, নবম আজমিরা খাতুন ও দশম হয়েছেন সবুজ আলী। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে আয়োজনের সূচনা করা হয়। এরপর নেওয়া হয় এমসিকউ প্রশ্নে অলিম্পয়াড। মুক্ত আলোচনায় শিক্ষার্থীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন অতিথিরা। আয়োজনের শেষ পর্যায়ে কাঙ্খিত ফলাফল ঘোষণা করা হলে তৈরি হয় বিশেষ উদ্দিপনা। উৎসাহী শিক্ষার্থীদের করতালির মুখর পরিবেশে অতিথিরা প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের বিশেষ ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন। এছাড়া পরবর্তী ১০ জনের জন্য ছিল বিশেষ মেডেল ও সনদপত্র। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ আড়াইশত শিক্ষার্থীকেই দেয়া হয়েছে বিশেষ সনদপত্র। এছাড়া প্রথম দশে থাকা শিক্ষার্থীর জন্য থাকছে জাতীয় পর্যায়ের অলিম্পিয়াডে অংশ নেবার সুযোগ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা তরুণ ভোটারদের আগামী দিনের যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনে সচেতন হওয়ার এবং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার নিয়ে সুজন-এর চুয়াডাঙ্গা জেলা কমিটির সভাপতি প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান বলেন, তরুণ ভোটারদের সচেতন করতে সুজন দেশব্যাপী কাজ করে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ, আর তরুণরাই আগামীর ভবিষ্যৎ। প্রার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়ে জনসস্মুখে জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পূর্ণ বিকাশ এখনও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। তাই তরুণ সমাজকে ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন করতে হবে।’
রাজনীতিতে তরুণদের বিমুখতা ও উত্তরণের পথ নিয়ে চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাড. মারুফ সরোয়ার বাবু রাজনীতিতে মেধাবীদের গুরুত্বারোপ করে বলেন, স্বাধীনতার পূর্বে মেধাবী শিক্ষার্থীরা রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতেন, যা বর্তমান সময়ে অনেকটা হ্রাস পেয়েছে। রাজনীতির সুস্থ ধারা ব্যহত হওয়ায় যুবসমাজ এই ক্ষেত্র থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এই অচলাবস্থা কাটিয়ে রাজনীতিকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।’
গণতন্ত্রের উৎকর্ষ ও দেশপ্রেম নিয়ে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন বলেন, সকল শাসন ব্যবস্থার মধ্যে গণতন্ত্রই শ্রেষ্ঠ এবং এর বিকল্প কেবল গণতন্ত্রই। সুস্থ ধারার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতিতে সৎ ও দেশপ্রেমিক মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি। সবার সরাসরি রাজনীতি করার প্রয়োজন নেই, তবে হৃদয়ে দেশপ্রেম থাকলে দেশের সামগ্রিক পরিবর্তন ও উন্নয়ন সম্ভব।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে সচেতনতা নিয়ে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ফারজানা কেতকী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, সৎ ও যোগ্য প্রার্থীই কেবল সমাজকে সুন্দর রাখতে পারে। ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের সততা, চারিত্রিক দৃঢ়তা এবং দেশের প্রতি অঙ্গীকারকে প্রাধান্য দিতে হবে। দীর্ঘ সময় বাকস্বাধীনতা বিঘ্নিত হওয়ার পর এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের মত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরে পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একইসাথে তিনি শিক্ষার্থীদের পাঠাশোনার পাশাপাশি নির্বাচন ও ভোটাধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে পরিবার ও সমাজকে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান।
