ছবির ক্যাপশন:
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াডোব গ্রামে আয়োজিত আলোচিত ওয়াজ মাহফিল অবশেষে বন্ধ হয়ে গেছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে মাহফিলের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। জানা গেছে, অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন তার বাবার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্থানীয় একটি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ফুটবল মাঠে এই ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করেন। বিদ্যালয়ের মাঠে বড় পরিসরে প্যান্ডেল, তোরণ ও মাইকের মাধ্যমে জমায়েত হওয়ায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে।
গত সোমবার দিবাগত রাতে মাহফিল চলাকালে গাংনী উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আনোয়ার হোসেনের স্বাক্ষরে আয়োজকদের নামে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে বলা হয়, রিটার্নিং কর্মকর্তার পূর্বানুমতি ছাড়া বড় জমায়েত, প্যান্ডেল ও তোরণ নির্মাণ করা নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী। এ বিষয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দিতে বলা হয় এবং ব্যর্থ হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। নোটিশ পাওয়ার পরপরই মাহফিলের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।
গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই প্যান্ডেল ও গেটের সাজসজ্জা খুলে ফেলা হয়। আগেই মাইক অপসারণ করা হয়। মাহফিল বন্ধ হওয়ার আগে সোমবার রাতে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আখেরুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রথম দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্বারী ও ইসলামী আলোচক মাওলানা জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ। ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী আবু ওবাইদা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গাড়াডোব জলিবিলপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মো. হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত এবং পুলিশ প্রশাসনের তালিকাভুক্ত একজন শীর্ষ এজেন্ট হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তিনি পুলিশের কাছে পলাতক বলেও দাবি করা হচ্ছে। এমন অবস্থায় তার অর্থায়নে বড় পরিসরে ওয়াজ মাহফিল আয়োজন নিয়ে এলাকায় তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় আলেম সমাজ ও সচেতন মহল অভিযোগ করেন, অনলাইন জুয়ার টাকায় ধর্মীয় আয়োজন করা ইসলাম ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তারা এ ধরনের আয়োজন বন্ধের পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এ বিষয়ে মাহফিলের বক্তা ও শিল্পীদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছে বলে জানা গেছে।
