বাঁশের লাঠিতে তেল মাখিয়ে প্রস্তুত থাকতে বললেন জামায়াতের প্রার্থী রুহুল আমিন

ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন

আপলোড তারিখঃ 2026-01-14 ইং
বাঁশের লাঠিতে তেল মাখিয়ে প্রস্তুত থাকতে বললেন জামায়াতের প্রার্থী রুহুল আমিন ছবির ক্যাপশন:

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে। গত ১০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইটভাটা পাড়ায় আয়োজিত এক সভায় তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের মাঠে তৈরি হয়েছে চরম উত্তেজনা। উস্কানিমূলক বক্তব্য এবং লাঠিসোঁটা প্রস্তুত রাখার আহ্বানকে কেন্দ্র করে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, যা সরাসরি দেশের প্রচলিত নির্বাচনী আইনের পরিপন্থী।


ভিডিওতে দেখা যায়, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির রুহুল আমিন তার বক্তেব্যে বলছেন, ‘সামনের ১২ তারিখে একটি লড়াই হবে। এই লড়াইয়ে যারা মরার জন্য লড়াই করতে যাবে, তারাই জিতবে। এই লড়াইয়ে যারা রক্ত ঝরানোর জন্য যাবে, তারাই যাবে। আর এই লড়াইয়ে যারা বাঁচতে যাবে, তারাই হেরে যাবে। আপনাদের আরও একটি কথা বলতে চাই। খালি হাতে আমরা ভোট কেন্দ্র পাহারা দেব না। বাঁশের লাঠি তেল মাখাবেন ১১ তারিখ পর্যন্ত। সুন্দর করে রেখে দিয়ে ভোট সেন্টার পাহারার জন্য রেডি রাখবেন। আল্লাহ তালা তিতুমীরের বাঁশের কেল্লার মতো আমাদের বিজয় দান করুন। বাংলার মানুষের মনের আশা পূরণ করার জন্য আল্লাহ তায়ালা দাঁড়িপাল্লাকে বিজয় দান করুন।’


প্রার্থীর বক্তব্যে ‘মরার জন্য লড়াই’, ‘রক্ত ঝরানো’ এবং ‘লাঠিতে তেল মাখিয়ে রাখা’র মতো শব্দচয়নগুলো গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (জচঙ), ১৯৭২ এবং সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮-এর একাধিক ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। উক্ত আচরণ বিধিমালার ধারা ১১ (ক) অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কেউ এমন কোনো বক্তব্য প্রদান করতে পারবেন না যা কোনো প্রকার তিক্ততা সৃষ্টি করে কিংবা শান্তি-শৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিপন্থী হয়। প্রার্থীর এই বক্তব্য কেবল উত্তেজনাই সৃষ্টি করেনি, বরং সাধারণ ভোটারদের মনে বলপ্রয়োগের ভীতি তৈরি করেছে, যা ভোটারদের স্বাধীন ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা হিসেবে গণ্য হতে পারে।


নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার নামে সশস্ত্র বা লাঠিসোঁটা নিয়ে মহড়া দেওয়া বেআইনি। আচরণ বিধিমালার ধারা ১২ অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা তাহার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো প্রকার অস্ত্রশস্ত্র, লাঠি বা বিস্ফোরক দ্রব্য বহন করিতে পারিবে না। উক্ত প্রার্থী সরাসরি ‘১১ তারিখ পর্যন্ত লাঠিতে তেল মাখিয়ে রাখা’র নির্দেশ দিয়ে মূলত সহিংস কর্মকাণ্ডে প্ররোচনা দিয়েছেন। এটি দণ্ডবিধি (চবহধষ ঈড়ফব, ১৮৬০)-এর আওতায় উসকানিমূলক অপরাধ হিসেবেও বিবেচিত হওয়ার অবকাশ রাখে। এছাড়া ধর্মীয় অনুভূতি বা তিতুমীরের বাঁশের কেল্লার মতো সংবেদনশীল তুলনা দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা আচরণ বিধিমালার ধারা ২ ও ৮-এর পরিপন্থী, যেখানে ধর্মীয় উপাসনালয় বা অনুভূতি ব্যবহার করে প্রচারণা চালানো নিষিদ্ধ।


ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় অপর একজন প্রার্থী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ইতোমধ্যে অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবার জন্য অভিযোগটি জুডিশিয়ারি ইনকোয়ারি কমিটিতে পাঠিয়েছি।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)