ছবির ক্যাপশন:
জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অদূরে শামসুজ্জামান ডাবলুর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হাফিজা ফার্মেসি। এই ফার্মেসিতেই রাতে অভিযান পরিচালনা করে সেনাবাহিনী। অভিযানের সময় আশেপাশের দোকানদার ও ওই বাজারের নাইট গার্ডকে ডেকে নেয় তারা। প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে একজন ব্যবসায়ী জুয়েলকেও ওই রাতে সেনাবাহিনী ডেকে নিয়েছিলো।
তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমার পাশের দোকান ডাবলু ভাইয়ের।
আমি দোকানেই ছিলাম। তিন-চারজন এসে বলল, আসেন আমরা দোকান সার্চ করব। তারপর
তারা হুড়পাড় করে ভেতরে ঢুকল। তারা ড্রয়ার ভাঙার চেষ্টা করছিল। তখন আমরা
বললাম, চাবি আছে, চাবি দিয়ে খোলেন। এরপর খুলে তারা ড্রয়ারের টাকা-পয়সাগুলো
আমাদের দিয়ে দেয়। দোকানের পার্ট দুইটি। পিছনের দিকে কয়েকজন ঢুকেছিলো। ওদিকে
একটু অন্ধকারও ছিল। লাইট দেবার পর এ কার্টুন ও কার্টুনে হাতাহাতি করতে
করতে দুই-তিন মিনিটের মাথায় একজন বেরিয়ে এসে বলে পেয়েছি, পেয়েছি। তখন তারা
অস্ত্রটি দেখায়।’
সাদা কাগজে স্বাক্ষরের গুঞ্জনের বিষয়ে জানতে চাইলে
জুয়েল বলেন, ‘ওখানে তারা আমার নাম-ঠিকানা লিখে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। কিন্তু
ওখানে তো আর প্রশ্ন করা যায় না। আজ মঙ্গলবার বেলা একটার দিকে আমাকে
ডেকেছিলো। আমিই এতোটুকুই বলেছি। ওনারা যখন ধরে নিয়ে যায়, পাশেই যুবদলের
একটি পার্টি অফিস আছে। সেখানে ডাবলু ভাইকে নিয়ে যায়। তবে ওখানে কাউকে যেতে
দেয়নি।’
চুয়াডাঙ্গা জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাড.
মারুফ সরোয়ার বাবু বলেন, ‘বেলা ১টা বেজে ৫ মিনিটে জীববনগর হাসপাতালের মধ্যে
জব্দ তালিকা তৈরি করা হয়। সেখানে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, কয়েকজন বিজ্ঞ
আইনজীবীসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।’ এদিকে, রাতের ঘটনায় পরের দিন
দুপুরে জব্দ তালিকা লেখা নিয়েও তৈরি হয়ে ধোঁয়াসা। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা
গেছে, সেখানে জেলা প্রশাসক আপত্তি তুলে বলেন, ‘এখন লেখা হলে আমি এটা মানব
না। সাক্ষীদের বক্তব্য শোনার পরই এটি গ্রহণযোগ্য হবে। এসময় তিনজন সাক্ষীর
মধ্যে শুধু জুয়েলকেই হাজির করা হয় বলে জানা গেছে।’
