ছবির ক্যাপশন:
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াডোব গ্রামে মরহুম কিয়ামদ্দিন আলীর ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে মাহফিলের আয়োজন ও অর্থের উৎস নিয়ে এলাকাজুড়ে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, মাহফিলের আয়োজক হিসেবে পরিচিত আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অনলাইন জুয়া সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাহফিলের অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আনোয়ার হোসেন মেহেরপুর জেলায় অনলাইন জুয়ার একজন প্রভাবশালী এজেন্ট হিসেবে পরিচিত বলে অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক অভিযোগ ও মামলার কথা উঠে এসেছে। এ অবস্থায় বিপুল ব্যয়ে এমন ধর্মীয় আয়োজনকে কেউ কেউ কালো টাকা সাদা করার প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখছেন।
এলাকাবাসীর একাংশের প্রশ্ন, যেসব অর্থের সঙ্গে অনলাইন জুয়া, তরুণ সমাজের ক্ষতি ও পারিবারিক বিপর্যয়ের অভিযোগ জড়িত—সেই অর্থে ধর্মীয় আয়োজন কতটা গ্রহণযোগ্য? তারা জানান, একসময় আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল হিসেবে পরিচিত ব্যক্তি হঠাৎ করে লাখ টাকা ব্যয়ে মাহফিল আয়োজন করায় স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ তৈরি হয়েছে। সূত্র আরও জানায়, অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সিআইডি সম্প্রতি মেহেরপুর জেলায় ১৯ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। ওই তালিকায় আনোয়ার হোসেনের নামও রয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এদিকে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এত বড় আয়োজন কীভাবে অনুমতি পেল- তা নিয়েও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মেহেরপুর জেলা কমিটির সভাপতি সৈয়দ জাকির হোসেন বলেন, ‘অনলাইন জুয়ার কারণে তরুণ সমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এর বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করছি।’ ধর্মীয় আয়োজন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যদি অনলাইন জুয়ার অর্থে এ ধরনের আয়োজন হয়ে থাকে, তবে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রশাসনিকভাবে জুয়ার মূল উৎপাটন না হলে এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।’
ধর্মীয় নেতারাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গাংনী উপজেলা ওলামা পরিষদের সভাপতি মাওলানা রুহুল আমিন বলেন, ‘ইসলামে হারাম উপার্জনের অর্থ দিয়ে কোনো ধর্মীয় কাজ গ্রহণযোগ্য নয়। কেউ জেনে-বুঝে অনলাইন জুয়ার টাকায় আয়োজিত মাহফিলে অংশ নিলে সেটি ইসলামসম্মত হবে না। বক্তারা যদি বিষয়টি জানতেন, তাহলে অনেকেই হয়তো অংশ নিতেন না।’
প্রশাসনের বক্তব্য জানতে চাইলে গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মাহফিল আয়োজনের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের অনুমতি লাগে। এ বিষয়ে আমার কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই।’ মেহেরপুর জেলা প্রশাসক সৈয়দ এনামুল কবির জানান, ‘মাহফিল আয়োজনের আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ সুপারের কাছে প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। অনুমতি এখনো চূড়ান্ত নয়। নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে আয়োজক আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি শুধু একটি মাহফিলকে ঘিরে বিতর্ক নয়- এটি সমাজের নৈতিকতা, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের বড় প্রশ্ন তুলে ধরেছে।
