ব্যাকডেটে স্বাক্ষর করে শিক্ষককে ‘ফাঁসানোর’ চেষ্টা

চুয়াডাঙ্গা পৌর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিজ্ঞপ্তি জালিয়াতির অভিযোগ

আপলোড তারিখঃ 2026-01-08 ইং
ব্যাকডেটে স্বাক্ষর করে শিক্ষককে ‘ফাঁসানোর’ চেষ্টা ছবির ক্যাপশন:

চুয়াডাঙ্গা পৌর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য জালিয়াতি, ব্যাকডেটে স্বাক্ষর এবং একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে উদ্দেশ্যমূলকভাবে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়ে হয়রানি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষক ওই কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক আয়েশা আক্তার রিক্তা। ভুক্তভোগীর কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবের পত্রে জানা যায়, গত ১৪ ডিসেম্বর ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ উপলক্ষে কলেজে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ওই শিক্ষককে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন অধ্যক্ষ। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষকের দাবি, কলেজের পূর্বঘোষিত ছুটির বিজ্ঞপ্তিতে ওই দিন উপস্থিত থাকার কোনো নির্দেশনা ছিল না। পরবর্তীতে জালিয়াতির মাধ্যমে মূল বিজ্ঞপ্তিতে নতুন শর্ত জুড়ে দিয়ে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।


ভুক্তভোগী শিক্ষক বলেন, গত ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে কলেজের ৫৮ নম্বর বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১৪ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত শীতকালীন অবকাশ, বিজয় দিবস ও বড়দিন উপলক্ষে ছুটি ঘোষণা করা হয়। মূল বিজ্ঞপ্তিতে বুদ্ধিজীবী দিবসে উপস্থিত থাকার কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। কিন্তু পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠে যে, অধ্যক্ষ ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে ওই বিজ্ঞপ্তিতে লাল কালিতে “বিঃদ্রঃ ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ রবিবার বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক” বাক্যটি জোরপূর্বক যোগ করেন। এছাড়া বিজ্ঞপ্তিটি ১১ তারিখে প্রকাশিত হলেও সেটিকে বৈধতা দিতে ব্যাকডেটে (১০ ডিসেম্বর) স্বাক্ষর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি অফিসের দাপ্তরিক নথিতেও তারিখ ঘষামাজা করে পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।


ভুক্তভোগী শিক্ষক আয়েশা আক্তার রিক্তা আরও বলেন, ‘আমি দীর্ঘ চাকরিজীবনে কোনো জাতীয় দিবসে অনুপস্থিত থাকিনি। ১১ ডিসেম্বর কলেজ ছুটির পর ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই বিজ্ঞপ্তি পরিবর্তন করা হয়েছে। এমনকি সহকর্মীদের স্বাক্ষর নেয়ার ক্ষেত্রেও তারিখের ব্যাপক অসঙ্গতি রয়েছে। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করা এবং চাকরির ক্ষতি করার উদ্দেশ্যেই এই জালিয়াতির আশ্রয় নেয়া হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, ‘১০ বা ১১ ডিসেম্বর কলেজে উপস্থিত থাকলেও আমাকে সেই বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করতে বলা হয়নি, যা থেকে স্পষ্ট হয় যে বিষয়টি পরে সাজানো হয়েছে। আমি ইতোমধ্যে এই উদ্দেশ্যমূলক শোকজ নোটিশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছি। আমাকে হেনস্তা করা হলে আমি উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষ ও আইনের দ্বারস্থ হবো।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী জানিয়েছেন, বিজ্ঞপ্তির তারিখ ও শর্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। মূল নোটিশে প্রথমে এটি ছিলো না।


এ বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শামীমা সুলতানার বক্তব্যও অস্পষ্ট। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘আমি তো বিজ্ঞপ্তিটি লিখিনি। ওটা লিখেছে কেরানী। আমি বলেছি এটা তো এড়িয়ে গেছে। তারপর কেরানী বলেছে ম্যাডাম বাঁকা করে এটি লিখে দিই্। তারিখটাও কেরানীর ঠিক করে দেবার কথা ছিল। সে একটু অসুস্থ, হয়ত ভুলে গেছে। শিক্ষকদের সবার স্বাক্ষর করার আগেই বিজ্ঞপ্তিটি লেখা হয়েছে। কেউ অন্য তারিখে স্বাক্ষর করেননি। গণ্ডগোল করার উদ্দেশ্যে একটি স্বাক্ষর ২০ তারিখ করা হয়েছে। এই সবগুলো উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এখন করা হচ্ছে। আমি স্বাক্ষর করলেও যে বিজ্ঞপ্তিটি প্রস্তুত করেছে, তার কাছেও আপনারা জানতে চান।’ এসময় হুট করে তিনি এই প্রতিবেদকের সাথে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং বলেন, ‘এটার পেপার পত্রিকা করার কি আছে? আচ্ছা পোরিং করেন আপনারা। আমাদের তো কিছু করার নেই। টাকা দিলে তো সবই হয়।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)