আলমডাঙ্গায় সবজির দামে স্বস্তি, বাড়ছে চিনির দাম

শুল্ক কমায় রোজার আগে খেজুর আমদানিতে ইতিবাচক প্রভাব

আপলোড তারিখঃ 2026-01-07 ইং
আলমডাঙ্গায় সবজির দামে স্বস্তি, বাড়ছে চিনির দাম ছবির ক্যাপশন:

পবিত্র রমজান মাস আসতে এখনো এক মাসেরও বেশি সময় বাকি থাকলেও নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে আগাম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও রোজাকে কেন্দ্র করে দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন ভোক্তারা। এরই মধ্যে আলমডাঙ্গার বাজারে চিনির দাম বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৯৫ থেকে ১০০ টাকা। গত বছরের ডিসেম্বরে প্রতি কেজি চিনির দাম ছিল ৯০ টাকা। 
টিসিবি ডিলার সিরাজুল মিয়া জানান, গত এক মাসে চিনির দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে। আলমডাঙ্গা বাজারের মুদি ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন মিয়া বলেন, পাইকারিতে দাম বাড়ায় খুচরা পর্যায়েও চিনির দাম বেড়েছে। প্রতি প্যাকেট চিনিতে ব্যবসায়ীদের লাভ থাকে মাত্র ৪-৫ টাকা। বর্তমানে খোলা চিনি প্রতি কেজি ১০০ টাকায় এবং ব্র্যান্ডভেদে প্যাকেট চিনি ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সামনে দাম আরও বাড়তে পারে, এমন আশঙ্কায় অনেকে চিনি মজুত করছেন।


আলমডাঙ্গা বড় বাজারের মুদি ব্যবসায়ী ও বণিক সমিতির সভাপতি আরেফিন মিয়া মিলন জানান, প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) চিনিতে পাইকারি পর্যায়ে ৫০ টাকা বেড়েছে। বাড়তি দাম লেখা প্যাকেট চিনি এখনো অনেক দোকানে আসেনি।
এদিকে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে পেঁয়াজ, আলু ও শীতকালীন সবজির দামে। নতুন আলু ও পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। নতুন আলু পাওয়া যাচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়।


সরবরাহ বাড়ায় অধিকাংশ শীতকালীন সবজির দামও কমেছে। বাজার ও মানভেদে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে অনেক সবজি। শিম বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪৫ টাকায়, মূলা ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং ফুলকপি ও বাঁধাকপি ২০ থেকে ৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। শালগম ও পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় এবং ব্রোকলির দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা। তবে মৌসুমের বাইরে থাকা পটোল, করলা, ঢেঁড়স ও টমেটোর দাম তুলনামূলক বেশি, কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ টাকা।


ডিম ও মুরগির বাজারে কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৪০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরু ও খাসির মাংসের দামও অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিকে আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে খেজুরের বাজারে স্বস্তির খবর মিলছে। আলমডাঙ্গা বাজারের ফল ব্যবসায়ী খন্দকার মতিয়ার রহমান জানান, সরকার খেজুরের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ কমিয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। এতে আমদানি বাড়বে এবং খেজুরের দাম সহনীয় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।


ইতোমধ্যে শুল্ক কমানোর প্রভাব বাজারে পড়তে শুরু করেছে। গত এক সপ্তাহে ৫ কেজির মদিনা-মরিয়ম খেজুরের প্যাকেটের দাম ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা কমেছে। ইরানি মেগজল খেজুরের দাম কমে ৫ হাজার টাকায় নেমেছে। আজোয়া খেজুরে কেজিপ্রতি প্রায় ১ হাজার টাকা কমে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার টাকায়। এছাড়া মাশরুকে ৫০০ টাকা, সাবেরিতে ৭০০ টাকা এবং আলজেরিয়ান খেজুরে ২০০ টাকা কমেছে। আমদানি আরও বাড়লে রমজানজুড়ে খেজুরের বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)