ছবির ক্যাপশন:
মেহেরপুরে শৈত্যপ্রবাহে তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। বছরের সবচেয়ে বেশি শীত পড়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সকালে হালকা কুয়াশা ও মেঘাচ্ছন্ন আকাশ দেখা গেছে। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। হালকা বাতাসের সঙ্গে কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এই শীতে শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক—সবাই কাবু হয়ে পড়লেও সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ছোট ছোট শিশুরা কাঁপতে কাঁপতে স্কুলে আসছে। অনেক শিক্ষার্থী শীত সহ্য করতে না পেরে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, অতিরিক্ত ঠান্ডায় এত সকালে শিশুদের স্কুলে পাঠানো স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গতকাল সূর্যের দেখা মেলেনি এবং শীতের তীব্রতা ছিল সবচেয়ে বেশি। বড়দের পাশাপাশি শিশুরাও শীতে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য ক্লাস শুরুর সময় পরিবর্তন বা সাময়িক ছুটির দাবি জানান তারা।
কাজীপুর এলাকার এক শিক্ষার্থী অনিক আহমেদ বলে, ‘আজ খুব শীত লাগছে। তাই স্কুলে এসে আগুন পোহাচ্ছি। শীত হলেও স্কুলে আসতে ভালো লাগে।’ অভিভাবক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘শীতে আমাদেরই হাত ঝিনঝিন করছে। ছোট ছেলে-মেয়েদের স্কুলে আনতে খুব কষ্ট হচ্ছে। এমন আবহাওয়া থাকলে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনা করে কয়েকদিনের জন্য স্কুল ছুটি দেওয়া দরকার।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, আবহাওয়া খুবই প্রতিকূল। ছোট শিশুদের কথা চিন্তা করে সকাল ১০টার দিকে ক্লাস শুরু করা হলে ভালো হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় নেওয়ার অনুরোধ জানান তারা। কাজীপুর মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফিদা হাসান বলেন, ‘অতিরিক্ত শীতের কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। শিশুরা শীতে স্কুলে আসতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে ক্লাস এক ঘণ্টা পরে শুরু করা বা সাময়িক ছুটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।’
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জামিনুর রহমান জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। এমন আবহাওয়া আরও কয়েকদিন থাকতে পারে। তবে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।
গাংনী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এস. এম. জয়নুল ইসলাম বলেন, ‘এখনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ উল্লেখ্য, মেহেরপুর জেলায় আবহাওয়া অফিস না থাকায় পাশের জেলা চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের রেকর্ডকেই মেহেরপুর জেলার তাপমাত্রা হিসেবে ধরা হয়।
