ছবির ক্যাপশন:
জীবননগর উপজেলায় আম ও ড্রাগন বাগানের ফাঁকা জমিতে সাথী ফসল হিসেবে সরিষা চাষ করেছেন দুই কৃষক। পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত জমি কাজে লাগিয়ে বাড়তি আয় নিশ্চিত হওয়ায় এ উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নতুন সম্ভাবনা ও আশার সঞ্চার করেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, জীবননগর পৌরসভার পুরাতন তেঁতুলিয়া গ্রামের নজরুল ইসলাম তার দুই বিঘা ড্রাগন বাগানের মধ্যবর্তী ফাঁকা জমিতে সরিষা আবাদ করেছেন। একইভাবে উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের কয়া গ্রামের কৃষক মোজাফফর হোসেন বাপ্পি তার ছয় বিঘা আম বাগানের ভেতরে সাথী ফসল হিসেবে সরিষা চাষ করেছেন। তারা ভালো ফলন পাবেন বলে আশা করছেন।
জানা গেছে, জীবননগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শে পরীক্ষামূলকভাবে এই আবাদ শুরু করেছেন তারা। ফলন ভালো হওয়ায় আশা করছেন তারা। ভবিষ্যতে এ পদ্ধতি আরও বিস্তৃত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা। ড্রাগন চাষি নজরুল ইসলাম বলেন, কৃষি অফিসারের পরামর্শে পরীক্ষামূলকভাবে দুই বিঘা জমিতে সরিষা লাগাই। এখন গাছগুলো খুব ভালো হয়েছে। আশা করছি সামনে আমার বাগানের সব ফাঁকা জায়গায় এভাবে সরিষা চাষ করব।
কৃষক মোজাফফর হোসেন বাপ্পি বলেন, আমার আম বাগানের গাছগুলোর বয়স ১৫ থেকে ২০ বছর। শুরুতে সন্দেহ ছিল বাগানের ভেতরে সরিষা হবে কি না। কিন্তু এখন যে ফলন দেখছি, তা কল্পনারও বাইরে। যদি কৃষকরা তাদের বাগানের ফাঁকা জমিতে এভাবে সাথী ফসল চাষ করেন, তাহলে সবাই লাভবান হবেন। জীবননগর উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ৩২০ একর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে।
এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, এবারই প্রথম জীবননগরে আম ও ড্রাগন বাগানে পরীক্ষামূলকভাবে সরিষার আবাদ করা হয়েছে এবং ফলন অত্যন্ত সন্তোষজনক। আশা করছি আগামী মৌসুমে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ফলের বাগানের ফাঁকা জমিতে সরিষা চাষ করলে কৃষকরা বাড়তি আয় পাবেন, পাশাপাশি দেশের ভোজ্যতেল উৎপাদন বৃদ্ধিতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
