ছবির ক্যাপশন:
মাত্র একদিনের বিরতির পর আবারও মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা। হিমেল বাতাস, কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডায় ফের স্থবির হয়ে পড়ছে স্বাভাবিক জনজীবন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ, দিনমজুর, রিকশা ও ভ্যানচালক এবং ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী।
গতকাল সোমবার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯২ শতাংশ। এর আগে টানা চার দিন জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। গত রোববার (৪ জানুয়ারি) একদিনের জন্য শীতের তীব্রতা কিছুটা কমলেও গতকাল থেকে পুনরায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, চলতি সপ্তাহজুড়ে জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। তিনি বলেন, আগামী ১১ অথবা ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত শীতের এই পরিস্থিতি চলার আশঙ্কা রয়েছে। এসময় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচেও নেমে যেতে পারে।
এদিকে, গত রোববার সারাদিন সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের প্রকোপ আরও বেড়ে যায়। হালকা কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসে জবুথবু হয়ে পড়ে জেলার জনপদ। গতকাল সোমবার সকালে সূর্যের আংশিক দেখা মিললেও ঠান্ডার তীব্রতা খুব একটা কমেনি। কনকনে শীতে প্রয়োজন ছাড়া মানুষজন ঘরের বাইরে বের হতে চাইছেন না। দোকানপাট খুলছে দেরিতে, রাস্তাঘাট ও বাজারগুলোতেও লোকসমাগম কম দেখা গেছে। তবে জীবিকার তাগিদে শীত উপেক্ষা করেই কাজে বের হতে হচ্ছে শ্রমজীবী মানুষদের।
চুয়াডাঙ্গা শহরের বড়বাজার এলাকায় কাজের অপেক্ষায় থাকা দিনমজুর আব্দুল করিম বলেন, ভোরের দিকে ঠান্ডা এতটাই বেশি থাকে যে শরীর ঠিকমতো সাড়া দেয় না। কাজ থাকুক বা না থাকুক, পেটের দায়ে বাইরে আসতেই হয়। রিকশাচালক মো. লাল মিয়া জানান, এই শীতে যাত্রী আগের তুলনায় অনেক কম। সকালে রিকশা চালানো বেশ কষ্টকর হয়ে উঠেছে। দিনশেষে আয়ও কমে যাচ্ছে। সদর উপজেলার এক নির্মাণ শ্রমিক সোহাগ হোসেন বলেন, কুয়াশা ও শীতের কারণে অনেক জায়গায় কাজ বন্ধ থাকে। তবুও পরিবারের কথা ভেবে ঝুঁকি নিয়েই কাজে যেতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন সামাজিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও শহরের একাধিক এলাকায় অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে কম্বল, শীতের কাপড় ও অন্যান্য শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত স্বেচ্ছাসেবীরা মাঠে থেকে শীতার্ত মানুষদের খুঁজে খুঁজে সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন। এতে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে শীতার্তদের মাঝে।
