কেরু চিনিকলের টারবাইন বিকল, উৎপাদন বন্ধ

ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বাসভবন ঘেরাও করলেন ক্ষুব্ধ আখচাষিরা

আপলোড তারিখঃ 2026-01-04 ইং
কেরু চিনিকলের টারবাইন বিকল, উৎপাদন বন্ধ ছবির ক্যাপশন:

দর্শনার কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডের চিনি উৎপাদন ইউনিটের টারবাইন বিকল হয়ে পড়ায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আখচাষিরা। মিল বন্ধের প্রতিবাদে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বাসভবন ঘেরাও করেছেন ক্ষুব্ধ আখচাষিরা। গতকাল শনিবার বেলা ১১টা থেকে কেরু চিনিকলের চিনি উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি বহুল আলোচিত আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় মিলটি চালু করা হয়। তবে মিলটি ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা চলার পর বারবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কখনো কখনো মাত্র এক ঘণ্টা চালানোর পরই উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ছে। এতে মিল গেটে শত শত পেয়ার ট্রলি, কুষ্টিয়া থেকে আখবোঝাই ট্রাকসহ তিন দিন ধরে অপেক্ষমাণ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া কেরুর বিভিন্ন ফার্ম থেকে আখবোঝাই অর্ধশতাধিক ট্রাক্টর-ট্রলি ঢোঙ্গারপাড় এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।


মিলটি বারবার বন্ধ হওয়ার বিষয়ে কেরু চিনিকলের ফ্যাক্টরি ম্যানেজার সুমন কুমার দাস বলেন, মিলটি বর্তমানে ট্রায়াল রান চলছে। এ সময় কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। যেসব যন্ত্রাংশে সমস্যা হচ্ছে, সেগুলো ঠিক করার কাজ চলমান রয়েছে।


একজন ফোরম্যান জানান, মিল চালু রাখতে হলে ৩৮ কেজি স্টিম প্রেসার প্রয়োজন হলেও ৪০ কেজি হলে সবচেয়ে ভালো কাজ করে। কিন্তু নতুন মিলটি পর্যাপ্ত স্টিম তুলতে পারছে না। যেখানে ৪০০ থেকে ৪৫০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা প্রয়োজন, সেখানে কাক্সিক্ষত তাপমাত্রা উঠছে না। ফলে মিলটি বারবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া রোলার জ্যাম হয়ে যাওয়ায় তা মেরামতের জন্য কিছু সময় মিল বন্ধ রাখা হয়েছে।


মিল বন্ধ থাকায় প্রচণ্ড শীতের মধ্যে মিল গেটে অপেক্ষমাণ কৃষকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গত ২ জানুয়ারি শুক্রবার দুপুরের দিকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন আখচাষিরা। একপর্যায়ে প্রায় ৩০-৩৫ জন আখচাষি কেরু চিনিকলের ১ নম্বর বাংলোতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসানের বাসভবন ঘেরাও করেন। পরে তিনি দ্রুত মিল চালুর আশ্বাস দিলে কৃষকরা মিল গেটে ফিরে যান। তবে আশ্বাসের পরও মিল চালু না হওয়ায় পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে আখ ওজন করে ঢোঙ্গারপাড়ে ফেলে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।


গতকাল শনিবার মিল গেটে উপস্থিত আখচাষিরা সাংবাদিকদের কাছে তাদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। রামনগর গ্রামের কৃষক টুটুল (৫৫), শ্যাম্পুর গ্রামের শাহিন (৪৬), প্রতাপপুরের রেজাউল ইসলাম (৪০), পরাণপুর গ্রামের রাসুল (৩২), সুবতপুরের বাহার আলী (৪২) ও শিংনগর গ্রামের আব্দুল্লাহ বলেন, সকাল থেকে মিল গেটে অপেক্ষা করছি। কখন মিল চালু হবে, কখন আখ নামিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবোÑএর কোনো নিশ্চয়তা নেই। নতুন মিল চালু হলেও বারবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই কনকনে শীতে আমাদের চরম কষ্ট হচ্ছে।


উল্লেখ্য, ২০১২ সালে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে কেরু চিনিকলের আধুনিকায়ন কাজ শুরু হয়। পরবর্তীতে বরাদ্দ বাড়িয়ে প্রায় ১০৪ কোটি টাকা করা হয়। ২০১৪ সালে প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ ১৩ বছর পর গত ১ জানুয়ারি ২০২৬ সালে মিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়। কিন্তু চালুর পর থেকেই মিল স্বাভাবিকভাবে চলতে না পারায় কেরু ও পার্শ্ববর্তী চিনিকল এলাকার আখচাষিদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


এ বিষয়ে কেরু চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, মিলটি নতুন হওয়ায় কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। মাঝে মাঝে যন্ত্রাংশ জ্যাম হয়ে যাচ্ছে। ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজ করছেন। আশা করছি আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে মিলটি চালু করা সম্ভব হবে। তবে রাত ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মিলটি চালু করা সম্ভব হয়নি।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)