ছবির ক্যাপশন:
ঝিনাইদহের ১৮৭টি কমিউনিটি ক্লিনিকে তীব্র ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ না থাকায় সেবাগ্রহীতারা জীবন রক্ষাকারী ওষুধ পাচ্ছেন না। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র ও অসহায় মানুষজন। বাধ্য হয়ে অনেকেই অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বেসরকারি ক্লিনিক বা ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনছেন। ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহের ৬ উপজেলার ৬৭ টি ইউনিয়নের ১৮৭টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এক বছর আগেও এসব ক্লিনিক থেকে জ্বর, সর্দি, কাশি, মাথাব্যথাসহ সাধারণ রোগের জন্য বিনামূল্যে ২৭ প্রকার ওষুধ সরবরাহ করা হতো। কিন্তু হাসিনা সরকারের পতনের পর ওষুধ সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা কৃষক বাবলু বিশ্বাস বলেন, কয়েক মাস ধরে মোহাম্মদপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ পাচ্ছি না। আগে তো সব রকম ওষুধ পাওয়া যেত। এখন আসলে শুধু কথা বলেই পাঠিয়ে দিচ্ছে। ববিতা খাতুন নামে আরেক সেবাগ্রহীতা জানান, তার ছোট মেয়ের জ্বর আর ঠান্ডা লেগেছে। আগেও এখান থেকে ফ্রি ওষুধ নিয়েছি, কিন্তু এখন ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। সরবরাহ না থ কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ নেই। তাই বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।
কালুহাটি কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রভাইডার মাজেদুল হক বলেন, তাদের কাছে রোগী আসেন, কিন্তু দেওয়ার মতো ওষুধ থাকে না। এতে রোগীরাও ক্ষুব্ধ হচ্ছেন, আমরাও বিব্রত হচ্ছি। এখন রোগী আসলে শুধু স্বাস্থ্য শিক্ষা দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি।
ওষুধ সংকটের বিষয়ে ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন মো. কামরুজ্জামান বলেন, আগে অপারেশন প্লানের মাধ্যমে ওষুধ কেনা হতো। ফলে কোনো ঘাটতি ছিল না। কিন্তু এখন ডেভলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রোগ্রামের (ডিপিপি) মাধ্যমে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। তিনি বলেন, এটা একটি রাজনৈতিক প্রকল্প। আগামীতে কোনো রাজনৈতিক সরকার আসলে হয়তো এই সংকট কেটে যাবে।
