টানা শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে চুয়াডাঙ্গা, তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস

দরিদ্র ও দিনমজুরদের জীবনে শীতের তীব্র প্রভাব

আপলোড তারিখঃ 2026-01-03 ইং
টানা শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে চুয়াডাঙ্গা, তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছবির ক্যাপশন:

দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা টানা তিন দিন ধরে মাঝারি থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়েছে। হাড়কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে শহর ও গ্রাম উভয় অঞ্চলের স্বাভাবিক জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, ছিন্নমূল, কৃষক ও দরিদ্র মানুষরা, যাদের প্রতিদিনের জীবিকা প্রত্যক্ষভাবে শীতের প্রভাবে ব্যাহত হচ্ছে।


গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় শহরের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের রেকর্ড অনুযায়ী সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেই সময়ে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। সকাল ছয়টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯.৫ ডিগ্রি। আবহাওয়া অফিস জানায়, জেলা জুড়ে টানা তিন দিন ধরে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ায় শীতের তীব্রতা একেবারেই বেড়ে গেছে।


চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, ‘পরবর্তী এক-দুই দিন শৈত্যপ্রবাহ সাময়িকভাবে দুর্বল হতে পারে। তবে মঙ্গলবার বা বুধবার থেকে পুনরায় ঠান্ডা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যেতে পারে।’


শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষরা। শহরের বড় বাজারে দেখা যায়, ইজিবাইক চালক ও দিনমজুররা প্রাতঃকালীন কাজ করতে পারছেন না। দিনমজুর রহিম উদ্দিন বলেন, ‘সকালবেলা শীত এতটাই কাঁপিয়ে দেয় যে কাজ করতে বের হওয়া দুঃসাধ্য। কাজে বের হলেও ঠান্ডায় হাত-পা কাঁপে, শরীর অবশ হয়ে যায়। আবার কাজ না করলে খাবারের জোগান হয় না।’


ভ্যানচালক আব্দুল মালেকও এ ধরনের শীতকে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ ঘর থেকে বের হয় না, যাত্রী কম। আয় অর্ধেকেরও কমে গেছে। এত ঠান্ডায় জীবনটা অনেক কষ্টকর।’


গ্রামাঞ্চলে শীতের দুর্ভোগ আরও তীব্র। খোলা আকাশের নিচে বসবাসরত ছিন্নমূল ও দরিদ্র মানুষদের রাত কাটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তিতুদহ এলাকার বৃদ্ধা রজিয়া খাতুন বলেন, ‘রাতে আগুন জ্বালিয়েও ঠান্ডা কমে না। ঘুমও ঠিকমতো হয় না। যদি কেউ কম্বল দিয়ে সাহায্য করতেন, তা খুব উপকার হতো।’ শীতের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বেড়ে গেছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত সমস্যা, সর্দি, কাঁশি ও নিঃশ্বাসজনিত রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকিৎসকরা সুপারিশ করছেন উষ্ণ পোশাক পরিধান, গরম পানি পান করা, এবং সম্ভব হলে শীতের সময়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে না যাওয়া।


স্থানীয়রা মনে করছেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা ও সমাজসেবী সংগঠনগুলো শীতবস্ত্র, কম্বল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে শীতার্তদের পাশে দাঁড়াতে পারে। তাঁরা আশঙ্কা করছেন, যদি শীতের এই তীব্রতা আরও কয়েকদিন চলতে থাকে, তাহলে দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)