ছবির ক্যাপশন:
অবৈধ যানবাহন চলাচলের কারণে ঝিনাইদহের সড়ক মহাসড়ক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত সড়কে প্রাণ ঝরছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকলেও সড়ক মহাসড়কে থামানো যাচ্ছে না অবৈধ যান চলাচল। এদিকে সড়ক দুর্ঘটনায় ঝিনাইদহের বিভিন্ন উপজেলায় ২০২৫ সালে মাসে ৭৫ জন নিহত হয়েছে। ঝিনাইদহ হাইওয়ে পুলিশ, হাসপাতাল, জেলা পুলিশ ও পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত’র এই পরিসংখ্যান আরো বেশি।
প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বিভিন্ন রুটে গত এক বছরে সর্বোচ্চ ১৯ জন, হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় ৯ জন, শৈলকুপা উপজেলায় ১৮ জন, কালীগঞ্জ উপজেলায় ৯ জন, কোটচাঁদপুর উপজেলায় ১১ জন ও মহেশপুর উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৯ জন মানুষ। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগ সড়কে চলালকৃত অবৈধ যানবাহনের কারণে মারা গেছেন। এছাড়া কিশোর ও তরুণ কলেজ শিক্ষার্থীরাও দ্রুতগতিতে মটরসাইকেল চালানোর ফলে প্রাণ হারিয়েছেন।
নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের কর্মী সাকিব মোহাম্মদ আল হাসান মিজু জানান, সড়ক মহাসড়কে ইঞ্জিনচালিত অবৈধ যানবাহন বন্ধ না করা হলে মানুষ সড়কে ক্রমেই অনিরাপদ হয়ে পড়বে। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে বন্ধ করা যাচ্ছে না। আবার এ সব অবৈধ গাড়ি যারা চালান, তারাও হতদরিদ্র পরিবারের সদস্য।
ঝিনাইদহ ফোরামের সভাপতি অধ্যক্ষ প্রফেসর মহাব্বত হোসেন টিপু বলেন, বৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সড়কে এই মৃত্যুর মিছিল থামানো যাবে না। এ ক্ষেত্রে সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে যুক্ত করতে হবে।
ঝিনাইদহ আরাপপুর হাইওয়ে পুলিশের ওসি মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস জানান, সড়ক মহাসড়ক অবৈধ যানবাহন মুক্ত করতে প্রতি নিয়ত হাইওয়ে পুলিশ নসিমন, করিমন, আলমসাধু, লাটাহাম্বার ভটভটি ও ইজিবাইক আটক করে জরিমানা আদায় করছে। তরপারও তাদের থামানো যাচ্ছে না। জরিমানা দিয়ে তারা আবার হাইওয়ে সড়কে ফিরছে। তিনি আরও বলেন, হাইওয়ে পুলিশের একার পক্ষে অবৈধ যানচলাচল বন্ধ করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে যানবাহন চালক ও নাগরিকদের সবচেয়ে বেশি সচেতন হতে হবে।
