শীতের দাপটে আলমডাঙ্গায় থমকে গেছে শ্রমজীবী মানুষের জীবন

কাজের সংকটে দিন কাটছে দিনমজুরদের

আপলোড তারিখঃ 2026-01-01 ইং
শীতের দাপটে আলমডাঙ্গায় থমকে গেছে শ্রমজীবী মানুষের জীবন ছবির ক্যাপশন:

আলমডাঙ্গায় জেঁকে বসেছে শীত। ঘন কুয়াশার সঙ্গে বইছে মৃদু হিমেল বাতাস। কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেছে পথঘাট। যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। ভোর থেকে নিম্নচাপের মতো ঝিরঝির করে ঝরছে কুয়াশা। গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। দুপুরে সূর্যের দেখা মিললেও তাপ খুব একটা নেই। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে শীত আরও বেড়ে যায়।


গতকাল বুধবার সকাল থেকেই শহরের কালিদাশপুর মোড়, ভূমি অফিসের পাশের এলাকা, লালব্রিজ মোড়, রেলস্টেশন সংলগ্ন বাসস্ট্যান্ড ও ব্রিজ মোড়ে জড়ো হন নানা বয়সী শ্রমজীবী মানুষ। কেউ পাখিভ্যান, কেউ সাইকেলে করে কোদাল, বেলচা, ঝুড়ি ও অন্যান্য কাজের সরঞ্জাম নিয়ে অপেক্ষা করেন কাজের আশায়। চোখে-মুখে স্পষ্ট হতাশা। কেউ বসে, কেউ দাঁড়িয়ে গল্প করে সময় কাটান। প্রতিদিন শতাধিক শ্রমিক এখানে শ্রম বিক্রি করতে আসলেও অনেকেরই কাজ জোটে না। অনেকে শূন্য হাতে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হন।


পাখিভ্যান চালকরা জানান, প্রচণ্ড শীতে মানুষ ঘর থেকে কম বের হওয়ায় যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। এতে আয় অর্ধেকেরও কমে গেছে। পাখিভ্যানচালক আখের আলী বলেন, আগে যেখানে প্রতিদিন ৭০০-৮০০ টাকা আয় হতো, এখন ৩০০-৪০০ টাকাও হচ্ছে না। শীতের কারণে পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে।


শ্রমিকরা জানান, বয়স্কদের তুলনায় তরুণ ও শক্তপোক্ত শ্রমিকদের কাজের চাহিদা কিছুটা বেশি থাকে। তবে গত কয়েক দিনে শীত বাড়ায় কাজের সুযোগও কমে গেছে। সকাল ১০টা পর্যন্ত অনেক শ্রমিক কোনো কাজ পাননি। ফলে অলস সময় কাটাতে হচ্ছে তাদের।


শহরের গোবিন্দপুর মহল্লার প্রবীণ দিনমজুর মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন সকাল সাড়ে সাতটায় রেলগেট মোড়ে এসে অপেক্ষা করি। কয়েক দিন ধরে প্রচণ্ড শীত পড়েছে। ঘর থেকে বের হওয়াই কষ্টকর। তারপরও কাজের আশায় আসি। এখন মাসে ৭-৮ দিনের বেশি কাজ হয় না। শীতে কাজ আরও কমে গেছে। আমরা মূলত চুক্তিভিত্তিক কাজ করি, দিন হাজিরার কাজে সংসার চালানো কঠিন।


কালিদাশপুর ইউনিয়নের মোনাকষা গ্রামের দিনমজুর আলম হোসেন বলেন, চার সদস্যের পরিবার নিয়ে শহর থেকে ছয় কিলোমিটার দূর থেকে সকালে আসি। কয়েকদিন ধরে কাজ পাচ্ছি না। শীত শুরুর পর মাসে ৮-১০ দিনের বেশি কাজ হচ্ছে না। এতে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছি। দোকানে বাকি জমছে। সংসার চালানো কঠিন হয়ে উঠেছে। সরকারি সহযোগিতা কামনা করছি।


ডাউকি গ্রামের দিনমজুর জাহিদ হোসেন বলেন, শীতের কারণে কাজ নেই বললেই চলে। একদিন কাজ করলে পরদিন বসে থাকতে হয়। চুক্তিভিত্তিক কাজ হলে কয়েক দিন কাজ করা যায়। কাজ করতে আপত্তি নেই, কিন্তু কাজই পাওয়া যাচ্ছে না। দ্রব্যমূল্য বাড়লেও আমাদের মজুরি বাড়েনি। তবে কয়েক দিন পর ধান রোপণ শুরু হলে কাজ বাড়বে বলে আশা করছি।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)