ছবির ক্যাপশন:
জীবননগরে তীব্র শীত, ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। হাড়কাঁপানো এই কনকনে শীতের মধ্যেই শুরু হয়েছে বোরো ধান রোপণের মৌসুম। প্রকৃতির প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে জীবননগর উপজেলার কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করছেন বোরো ধান চাষে। উপজেলার বিভিন্ন ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, সেচ পাম্প ও বৈদ্যুতিক মোটরের সাহায্যে জমিতে পানি দেওয়া হচ্ছে। কোথাও পাওয়ার ট্রলি, কোথাও আবার হালের গরু দিয়ে জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে। বীজতলা থেকে ধানের চারা সংগ্রহ করে জমিতে রোপণের কাজে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষক ও শ্রমিকরা। পরিবারের চাহিদা মেটানো ও বাণিজ্যিকভাবে লাভের আশায় বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান চাষে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যাচ্ছে মাঠজুড়ে।
ধান রোপণের শ্রমিক সুজন হোসেন বলেন, আমরা চুক্তিভিত্তিক প্রতি বিঘা জমিতে ধান লাগাতে ২ হাজার ৪০০ টাকা নিই। দড়ি দিয়ে লাইন করে লাগালে ৩ হাজার টাকা বিঘা পাওয়া যায়। ভোরে কুয়াশার মধ্যে বীজতলা থেকে ধানের চারা তুলে মাথায় করে ক্ষেতে এনে ধান রোপণ করি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করে দৈনিক ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা আয় হয়।
আরেক শ্রমিক গান্ডার আলী বলেন, এখন ধান লাগানোর মৌসুম, তাই কাজ বেশি। মৌসুম শেষ হলে কাজ কমে যাবে। তীব্র শীতের মধ্যেও ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমরা ধানের চারা রোপণ করছি। ঠান্ডা পানি আর কাঁদার মধ্যে কাজ করতে করতে এখন অভ্যাস হয়ে গেছে।
ধান চাষি জিয়ারুল ইসলাম বলেন, আমি দুই বিঘা জমিতে রড মিনি জাতের ধান লাগানোর প্রস্তুতি নিয়েছি। জমি ও চারা সব প্রস্তুত আছে। তবে সবাই একসঙ্গে ধান রোপণে নামেননি। আশিকুর রহমান নামের আরেক চাষি বলেন, এখন প্রচণ্ড ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশা পড়ছে। এই আবহাওয়ায় ধান লাগালে চারা হলুদ হয়ে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কয়েকদিন পর ধান লাগানোর পরিকল্পনা করেছি।
জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসার আলমগীর হোসেন বলেন, চলতি মৌসুমে জীবননগর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ৭ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সপ্তাহখানেক ধরে ধান রোপণের কাজ শুরু হয়েছে। তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলা রক্ষায় কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও তথ্য দেওয়া হচ্ছে
