ছবির ক্যাপশন:
জনমহাসমুদ্রের ভালবাসায় সিক্ত হয়ে একান্ত শোক বিধুর পরিবেশে এই মৃত্তিকার জনপ্রিয়তম আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন। শোকাতুর অসংখ্য-অগণিত মানুষের কান্না ভেজা কালেমা উচ্চারণের মধ্যে মমতাময়ী মা’কে নিজের হাতে মাটির বুকে রেখে এলেন তার প্রিয়তম সন্তান তারেক রহমান। যে মাটি জন্ম দিয়েছিল এই মহিয়সীকে; সেই শস্যগন্ধী মাটির কন্যাকে মাটিতেই গতকাল দাফন করা হলো রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়। তার আগে জানাজায় ঢাকা মহানগরীর একাংশ জুড়ে জনমহাসমুদ্রের ভালবাসায় সিক্ত হন প্রিয় নেত্রী। এরকম বাংলাদেশ কখনো দেখেনি কেউ আগে। সারাদেশ থেকে, রাজধানীর প্রায় প্রতিটি গৃহ-অন্দর থেকে মানুষ নেমে এসেছিল বানের মাতো। সব সড়ক-পথমালা মিশে গিয়েছিলো রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ের জানাজা ঘিরে। যার বিশালতার কাছে খেই হারিয়েছে অতীতের সব ইতিহাস। দৃষ্টিসীমা যেখানে হারিয়ে যায় তার পরেও লোকারন্য। বেশুমার মানুষ চতুর্দিক থেকে পিঁপড়ার সারির মতো এসেছেন তাদের অকৃত্রিম দেশপ্রেমে উজ্জ্বল এ নক্ষত্রকে শেষ বিদায় জানাতে। পথ-ঘাট সব একাকার হয়ে যায়। হাঁটতে হাঁটতে অনেকে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন, তবুও চলার ক্ষান্তি নেই। লক্ষ লক্ষ রোদন সিক্ত কণ্ঠে কায়মনো বাক্যে অনুরণন হয়েছে ক্ষমা আর জান্নাতের প্রার্থনা। মানিক মিয়া এভিনিউ ছাপিয়ে মহাজনস্রোত আছড়ে পড়ে আশেপাশের কয়েক কিলোমিটার জুড়ে। দলমত-নির্বিশেষে শোকার্ত মানুষের এই ঢল প্রমাণ করে, তাদের বেগম খালেদা জিয়া মানুষের হূদয়ের কতটা গভীরে ঠাঁই করে নিয়েছিলেন। গণনা বিশ্লেষকদের ধারনা যে দেশে এমন বিশাল বড় জানাজা অতীতে হয়নি আর। কেবল বাংলাদেশ নয়,পৃথিবীর কোথাও এই নজির নেই।
গতকাল বুধবার বেলা ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বেগম জিয়ার জানাজা শুরু হয়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক জানাজার নামাজ পড়ান। তখন ঢাকা মানিক মিয়া এভিনিউয়ের আশেপাশের মাইলের পর মাইল সড়কগুলো কার্যত ছিলো স্থবির। জানাজাস্থল মানিক মিয়া এভিনিউ পূর্ণ হয়ে মানুষের ঢল ছড়িয়ে পড়েছিল উত্তরে জাহাঙ্গীর গেট, পশ্চিমে মিরপুর রোড এবং পূর্বে ফার্মগেট পেরিয়ে কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর ও মগবাজার পর্যন্ত। মাইকের আওয়াজ যতদূর পৌঁছায়, মানুষ ততদূরেই রাস্তায় কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়িয়েছেন। অনেকের চোখের কোণে জল,কেউবা হাত তুলে নীরবে দোয়া করছেন।এর আগে শীত উপেক্ষা করে মঙ্গলবার রাত থেকেই মানুষ মানিক মিয়া এভিনিউ, বিএনপি কার্যালয়, এভারকেয়ারসহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়েছিলেন। গতকাল বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ঢল রূপ নেয় এক বিশাল জনমহাসমুদ্রে।
শুধু দলীয় নেতা-কর্মী নন, জানাজায় অংশ নিয়েছেন গ্রামের চাষী, শহরের সাধারণ চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী, রিকশাচালক থেকে শুরু করে দেশের সর্বস্তরের মানুষ। ভিড়ের চাপে সংসদ ভবনের আশপাশের গাছ, ফুটপাত, এমনকি নিকটস্থ ভবনগুলোর ছাদও ছিল লোকে লোকারণ্য। জানাজার ঠিক আগমুহূর্তে খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের কান্নাবিজড়িত বক্তৃতার পর যখন তারেক রহমান তার মায়ের জন্য দোয়া চাইলেন, পিনপতন নীরবতায় তখন পুরো এলাকা যেন দেশনেত্রীর বিরহ-বেদনায় ভারী হয়ে ওঠে। সকলেই ছিলেন শোকে মূহ্যমান।
বেগম জিয়ার এই শেষ বিদায়ে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিরা। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, পাকিস্তান, জাপান, সৌদি আরবসহ ঢাকাস্থ ৩২টি দেশের কূটনীতিক ও প্রতিনিধিরা জানাজায় অংশ নেন। যার মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ভূটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পাকিস্তানের স্পিকার উপস্থিত ছিলেন। বিদেশি কূটনীতিকদের জন্য নির্ধারিত স্থানে দাঁড়িয়ে তারা এ সময় প্রত্যক্ষ করেন বাংলাদেশের মানুষের এই আবেগঘন বিদায় মুহূর্ত।
বেগম জিয়ার জানাজায় নারীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। জানাজাস্থলের মূল অংশে নারীদের প্রবেশাধিকার সীমিত থাকলেও আশপাশের নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে হাজারো নারী অশ্রুসজল চোখে বিদায় জানিয়েছেন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীকে। জানাজায় অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ ও নেতা-কর্মীরা জানান, বেগম খালেদা জিয়া আমৃত্যু জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, আজ কৃতজ্ঞ জাতি তার শেষ বিদায়বেলায় সেই ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। দীর্ঘ ৪৫ বছরের রাজনৈতিক লড়াইয়ে তিনি যে জনপ্রিয়তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, আজকের এই জনমহাসমুদ্র তারই প্রমাণ।
এর আগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে তারেক রহমানের গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাসায় নেয়া হয়। সেখানে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজার আগে পরিবারের সদস্যরা এবং আত্মীয়স্বজনরা তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। সকাল ১১ টা ০৫ মিনিটে গুলশান এভিনিউর ১৯৬ নাম্বার বাসভবন থেকে মা বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ নিয়ে তারেক রহমান নামাজে জানাজারস্থল জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার উদ্দেশে রওয়ানা করেন। সঙ্গে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ, সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং মরহুমার পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনগণ। জাতীয় সংসদ টানেলের ভেতর দিয়ে কফিন নিয়ে যাওয়া হয় জানাজাস্থলে। কফিনবাহী গাড়িটি মানিক মিয়া এভিনিউতে পৌঁছালে এক হূদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। জাতীয় পতাকায় মোড়ানো মরদেহের সঙ্গে লাল-সবুজ রঙের বাসে পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। জানাজার শুরুতে মুসলিম বিধান অনুযায়ী সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘আমার মা খালেদা জিয়া কারো মনে যদি কোনো কষ্ট দিয়ে থাকেন তাহলে ক্ষমা করে দেবেন। আর আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন। আমার মায়ের কোনো ঋণ থাকলে আমি পরিশোধ করে দেব। আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।’ জানাজা ঘিরে সংসদ ভবন ও মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র্যাবের পাশাপাশি ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। জানাজা শেষে মরদেহ দাফনের জন্য নেওয়া হয় জিয়া উদ্যানে জিয়াউর রহমানের মাজারে। এ সময় সড়কের দুপাশে অসংখ্য মানুষ দাঁড়িয়ে প্রিয় নেত্রীকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। সেসময় এলাকাজুড়ে শোক ও নীরবতার আবহ নেমে আসে। ভেসে আসে কান্নার আওয়াজ। দাফন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবীরা দায়িত্ব পালন করেন।
নিজ হাতে খালেদা জিয়াকে শায়িত করলেন তারেক রহমান:
বিএনপির চেয়ারপাসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে সবার আগে নেমেছেন বড় ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নিজ হাতে তিনি তার মাকে কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত করেন। বিকেল সোয়া ৪টার দিকে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে খালেদা জিয়াকে শায়িত করার কাজ শুরু হয়। এসময় তারেক রহমানকে কবরে নেমে যেতে দেখা যায়। মাকে কবরে শায়িত করে সাড়ে চারটার কিছুক্ষণ পর তিনি উঠে আসেন। কবরে শায়িত করার পর মায়ের কবরে সবার আগে মাটিও দেন তারেক রহমান। এছাড়া তিন বাহিনীর প্রধান, বিএনপির শীর্ষ নেতারা কবরে মাটি দেন। সেখানে কিছুটা দূরে অবস্থান করেন তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান, আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান, তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানসহ পরিবারের নারী সদস্যরা। দোয়া পড়ে একটি পাত্রে কবর থেকে নেওয়া মাটি স্পর্শ করতে দেখা যায় তাদের।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি:
সংসদ ভবনের পেছনে স্বামী জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই দাফন করা হয় খালেদা জিয়াকে। দাফনের আগে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে তার জানাজা। এটি যেন ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি। ৪৪ বছর আগে এই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতেই লাখো মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সেনাবাহিনীর একদল কর্মকর্তার ব্যর্থ অভ্যুত্থানে নিহত হন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ওই বছরের ২ জুন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাকে সংসদ ভবনের উত্তর পার্শ্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। শেষযাত্রায় ঐতিহাসিক জনসমাগম হয়েছিল। ঢাকার সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে জানাজায় অংশ নিয়েছিল। ৪৪ বছর পর খালেদা জিয়ার জানাজাও একই স্থানে অনুষ্ঠিত হলো। ইতিহাসের মিল দেখা যাচ্ছে। স্বামীর মৃত্যুই তাকে রাজনীতিতে টেনে আনে। কোনো রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ছাড়াই বিএনপির দায়িত্ব নেন তিনি। রাজপথের সংগ্রামের মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তোলেন। দলকে নির্বাচনে জিতিয়ে তিনবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দেশের প্রথম নারী সরকারপ্রধান হিসাবে ইতিহাসে স্থান পান। ১৯৮১ সালের ঢাকার সাথে বর্তমান ঢাকার তুলনা চলে না। তখন ঢাকার জনসংখ্যা এখনকার মতো ছিল না। কিন্তু রাষ্ট্রপতির জানাজায় লাখো মানুষের সমাবেশ হয়েছিল। সাধারণ মানুষের সেই অংশগ্রহণ জিয়ার জানাজাকে ইতিহাসে বিশেষ স্থান দিয়েছে। মায়ের কফিনের পাশে বসে কোরআন তেলাওয়াত করলেন তারেক রহমান: বেগম খালেদা জিয়ার কফিনের পাশে বসে কোরআন তেলাওয়াত করেছেন তার বড় ছেলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ওই পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়, মায়ের কফিনের পাশে বসে কোরআন তেলাওয়াত করছেন তারেক রহমান।
জানাজায় অংশ নেন রাজনৈতিক দল-সংগঠনের নেতা-কর্মীরা:
জানাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনীর প্রধান, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় নাগরিক পার্টির নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহ, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ও গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।
অংশ নেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনীর প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। আরও উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, আসিফ নজরুল ও আদিলুর রহমান খান, কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার, সাবেক নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, রুহুল কবির রিজভী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ দলটির নেতা-কর্মীরা।
তারেক রহমানকে বুকে টেনে নিয়ে সান্ত্বনা দিলেন প্রধান উপদেষ্টা:
সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় সম্মুখসারিতে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় বেগম খালেদা জিয়ার শোকাহত জ্যেষ্ঠপুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বুকে টেনে নিয়ে সান্ত্বনা জানান।
কঠোর নিরাপত্তা:
খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফন কার্যক্রম ঘিরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল, জাতীয় সংসদ ভবন ও জিয়া উদ্যান এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। রাত থেকে এভারকেয়ার হাসপাতাল, সংসদ ভবন ও জিয়া উদ্যান এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়া পুরো এলাকার নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেন।
তারেক রহমানের কাছে ভারতের শোকবার্তা: বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে দেশটির শোকবার্তা হস্তান্তর করেন। দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শোকবার্তা হস্তান্তর করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে এই তথ্য জানানো হয়েছে। পোস্টে বলা হয়, ‘গণতন্ত্রের মা’, ‘সাহস ও সংগ্রামের প্রতীক’ স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অঙ্গীকারাবদ্ধ আপসহীন নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকবার্তা পাঠিয়েছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত।
