ছবির ক্যাপশন:
নাজমুল সামি:
কয়েকদিন ধরে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা। আকাশ মেঘলা থাকায় টানা চার দিন সূর্যের দেখা মেলেনি। তাপমাত্রা খুব একটা না কমলেও সূর্যের অনুপস্থিতি ও হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। ফলে শীতে কাবু হয়ে পড়েছে জেলার জনজীবন। চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টা ও ৯টায় জেলার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওই সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল যথাক্রমে ৯৪ ও ৮৬ শতাংশ। সারাদিনই সূর্যের দেখা না মেলায় কনকনে ঠান্ডার অনুভূতি বিরাজ করে। এর সঙ্গে জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যায় মৃদু হিমেল বাতাস, যা শীতের প্রকোপ আরও বাড়িয়ে দেয়।
কুয়াশা ও ঠান্ডার কারণে সকাল ও সন্ধ্যায় সড়কে মানুষের চলাচল কমে গেছে। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না অনেকেই। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, ভ্যানচালক ও খোলা আকাশের নিচে বসবাসকারী অসহায় ছিন্নমূল মানুষরা। চুয়াডাঙ্গা শহরের বড়বাজার এলাকায় কাজ করা দিনমজুর রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভোরে কাজে বের হতে হয়, কিন্তু এই ঠান্ডায় শরীর চলে না। কাজ না করলে ঘরে চুলা জ্বলে না, আবার কাজ করতেও কষ্ট হয়।’
একই এলাকার রিকশাচালক আব্দুল মালেক বলেন, ‘সকালে যাত্রীই পাওয়া যায় না। ঠান্ডায় মানুষ ঘর থেকে বের হয় কম। সারাদিন রিকশা চালিয়ে যা আয় হয়, তাতে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে গেছে।’ বাস টার্মিনাল এলাকায় চা বিক্রি করা একজন শ্রমজীবী মানুষ বলেন, ‘আগে সকালেই দোকানে ভিড় থাকত। এখন কুয়াশা আর ঠান্ডার কারণে লোকজন আসেই না। আয় কমে গেছে, কিন্তু সংসারের খরচ তো কমেনি।’
খোলা আকাশের নিচে থাকা এক ছিন্নমূল ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘রাতে ঘুমাতে পারি না। গায়ে দেওয়ার মতো ভালো কাপড় নেই। ঠান্ডায় শরীর কাঁপতে থাকে। কেউ যদি একটু কম্বল দিত, খুব উপকার হতো।’
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, ‘বর্তমানে এটি কোনো শৈত্যপ্রবাহ নয়। কুয়াশার কারণে সূর্য উঠছে না বলেই শীতের অনুভূতি বেশি হচ্ছে। তবে সামনের কয়েক দিনের মধ্যে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
আবহাওয়া পরিস্থিতি এমনই থাকলে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এ অবস্থায় শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকেই।
