ছবির ক্যাপশন:
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তঘেঁষা জেলা চুয়াডাঙ্গায় জেঁকে বসেছে শীত। উত্তরের হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে জেলাটি। কয়েক দিন ধরেই ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে কাপছে জেলাবাসী। টানা ৩ দিন ধরে দেখা মিলছে না সূর্যের। চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে তথ্যমতে, এই সপ্তাহের মধ্যেই শৈত্যপ্রবাহ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাপমাত্রা বেশি থাকলেও মেঘলা আকাশ, ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে জেলায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবী, নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্যমতে, গতকাল সোমবার সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৩ শতাংশ। এবং সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আদ্রতা ৯১ শতাংশ।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান বলেন, ‘আজকে (গতকাল) তাপমাত্রা বেশি, কিন্তু সূর্য না ওঠায় ঘন কুয়াশার কারণে শীতের অনুভূতিটা বেশি। এটি কোনো শৈত্যপ্রবাহ নয়। তবে এই মাসের শেষে কিংবা পরবর্তী মাসের শুরুর দিকে শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে।’
এদিকে, তীব্র শীতে বিপাকে পড়েছেন এ জনপদের মানুষ। দৈনন্দিন কাজে তাদের মারাত্মক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা কোর্ট মোড়ে বসে থাকা সিএনজি চালক রিফাত হাসান বলেন, ‘সেই সকালে বের হয়েছি, এখনো তেমন একটা ভাড়া পাইনি। শীতের কারণে রাস্তায় তেমন লোকজন নেই। ঠান্ডায় গাড়ি চালাতেও খুব কষ্ট হয়। এই কয়েকদিন তো সূর্যই উঠছে না। গাড়ি যখন চলে বাতাসের যে দাপট, ঠান্ডায় জমে বরফ হয়ে যাওয়া অবস্থা।’
দিনমজুর সিহাব জানায়, ‘শীত-গরম, বর্ষা যাই হোক আমাদের ঠিক সময়ে কাজে আসতেই হবে। আমরা দিন হাজিরায় কাজ করি। একদিন কাজ না করলে ওই দিনের টাকা আর পাবো না। তাই শীত পড়ুক আর গরম কাজে আমাদের আসতেই হবে। এই শীতে কাজ করতে খুব কষ্ট হয়। কাজ করতে গিয়ে একটু ব্যাথা পেলেই যেন মনে হয় মরে যাচ্ছি। গরম কাপড়েও শীত মানাচ্ছে না। হাত জমে বরফ, না পারছি ভারী কিছু তুলতে না পারছি ধরতে।’
