ছবির ক্যাপশন:
দর্শনায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড এশিয়া মহাদেশের অন্যতম ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান। তবে অভিযোগ উঠেছে, কিছু কর্মকর্তার অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে প্রতিষ্ঠানটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চরমভাবে ব্যর্থ হচ্ছে, যার ভোগান্তিতে পড়ছেন দর্শনার সাধারণ মানুষ ও কেরু কোয়ার্টারে বসবাসরত কর্মচারীরা। দর্শনা পৌর এলাকার রেলবাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও জনবহুল এলাকা। মিলপাড়া, বাজারপাড়া, আজমপুর, ইসলাম বাজার ও মোবারকপাড়ার হাজারো মানুষ এই এলাকা দিয়ে চলাচল করেন। কিন্তু মাঝেমধ্যেই কেরু কারখানা থেকে দুর্গন্ধযুক্ত বর্জ্য পানি বের হয়ে রেল বাজারসহ আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়। এতে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে।
বর্তমানে কেরুর আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় নতুন মিল চালু হওয়ায় শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ ও বর্জ্য পানিজনিত পরিবেশ দূষণ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে বাজারপাড়া এলাকায় কেরু কোয়ার্টারে বসবাসরত মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। চাকরির নিরাপত্তার কথা ভেবে দীর্ঘদিন মুখ না খুললেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তারা বাধ্য হয়ে প্রতিবাদে নামছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত রাতের বর্জ্য পানিতে রাস্তা ও ঘরের সামনের অংশ ডুবে গিয়ে নোংরা পানি ঘরের ভেতরেও ঢুকে পড়েছে। বর্তমানে কেরু কোয়ার্টারের অন্তত ১৫টি পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। তীব্র শীতের মধ্যেও ঘরের ভেতর নোংরা পানি নিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে তাদের। নামাজ আদায়সহ স্বাভাবিক জীবনযাপনও ব্যাহত হচ্ছে। কারণ ওই পানিতে কেবল কেরুর বর্জ্য নয়, ড্রেন ও টয়লেটের নোংরা পানিও মিশে রয়েছে। এতে সাপ, পোকামাকড়ের উপদ্রব দেখা দিয়েছে এবং শিশু ও বয়স্করা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
এই দূষিত পানির কারণে পুরো এলাকায় মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিকল্প পথ না জানায় অনেকেই বাধ্য হয়ে নোংরা পানির মধ্যদিয়েই যাতায়াত করছেন, যা বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। ভুক্তভোগীরা জানান, আগেও একাধিকবার এভাবে বর্জ্য পানি এলাকায় প্রবেশ করেছে। পরে পানি শুকিয়ে গেলে দেখা গেছে গাছপালা নষ্ট হয়ে গেছে। মশার বিস্তার তো লেগেই থাকে। দুর্গন্ধ এতটাই তীব্র যে শুধু রেল বাজার নয়, দর্শনার বিস্তীর্ণ এলাকায় বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
তারা অভিযোগ করেন, একাধিকবার মিল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং সর্বশেষ এক পরিবার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে অভিযোগ জানালে তিনি নাকি বলেন, ‘তোমাদের দুই টাকার জিনিসের জন্য লাখ টাকা নষ্ট করার সময় নেই। সমস্যা হলে অন্য কোথাও থাকতে পারো।’ ভুক্তভোগী ও এলাকার সচেতন মহল এই সমস্যা থেকে স্থায়ী সমাধান চান।
এ বিষয়ে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাব্বিক হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ওমর আল ফারুক গালিব বলেন, ‘বর্জ্য পানি বন্ধের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। পুরোনো ও নতুন মিল একসঙ্গে চালু থাকায় পানির পরিমাণ বেড়েছে। এ জন্য প্রতিদিন ড্রেন পরিষ্কার ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে কেরুর ড্রেন লাইনের সঙ্গে পৌরসভার ড্রেন যুক্ত থাকায় সমস্যা বাড়ছে। পৌরসভার ড্রেন আলাদা হলে এই সমস্যার মাত্রা অনেক কমবে।’
