চুয়াডাঙ্গায় এক দিনে তাপমাত্রা বেড়েছে ৩ ডিগ্রি, সারাদিনেও দেখা মেলেনি সূর্যের

তীব্র শীত অনুভূত, নতুন বছরের শুরুতেই শৈত্যপ্রবাহের শঙ্কা

আপলোড তারিখঃ 2025-12-29 ইং
চুয়াডাঙ্গায় এক দিনে তাপমাত্রা বেড়েছে ৩ ডিগ্রি, সারাদিনেও দেখা মেলেনি সূর্যের ছবির ক্যাপশন:

ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে কাপছে দেশের সীমান্তবর্তী জেলা চুয়াডাঙ্গা। কয়েকদিন ধরেই জেলায় সকাল-সন্ধ্যায় তাপমাত্রার তারতম্য বেশি অনুভূত হচ্ছে। মেঘলা আকাশ, ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে জেলায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে। দিনভর রোদের অভাবে জনজীবনে নেমে এসেছে ভোগন্তি। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবী, নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী।


চুয়াডাঙ্গায় একদিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা বেড়েছে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্যমতে, গত শনিবার সকাল ছয়টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ এবং সকাল ৯টায় তাপমাত্রা ও বাতাসের আদ্রতা ছিলো ১০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ৮৬ শতাংশ। গতকাল রোববার সকাল ৬টায় ও ৯টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৩.০ ডিগ্রি ও ১২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলেও শীতের প্রকোপ ছিল অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশি। কুয়াশায় ঢেকে ছিল সূর্য। সারাদিন দেখা মেলেনি সূর্যের। হিমেল বাতাস আর কুয়াশার চাদরে ঢাকা চুয়াডাঙ্গায় ব্যাহত হচ্ছে জনজীবন।


সকালে দেখা যায় এই তীব্র শীতেও খেজুরের রস বিক্রেতারা কাঁধে বাশের ঝোকায় মাটির হাড়িতে খেজুরের রস বিক্রি করছে। এসময় রস বিক্রেতা হামিদুল্লাহ বলেন, ‘ভোর বেলার রস খুব মিষ্টি হয়। আমার ৮টা গাছ আছে, আমি প্রতিবছরই রস বিক্রি করি। গ্লাস প্রতি ২০ টাকা করে বিক্রি করছি। শীত উপেক্ষা করেই আসতে হয় আমাদের। বেশি সকাল হলে রস নষ্ট হয়ে যায়।’


রিকশাচালক হাসান আলী বলেন, ‘এই শীতে রিকশা চালানো খুব মুশকিল। হাত পা জমে যায়। শীতের কাপড়েও শীত কমে না। সকাল সকাল বের হই যদি দু-একটা যাত্রী পাই সেই আশায়।’ রাজমিস্ত্রী রফিক জানায়, ‘শীত, গরম, বর্ষা যাই হোক আমাদের ঠিক সময়ে কাজে আসতেই হবে। আমরা দিন হাজিরায় কাজ করি। একদিন কাজ না করলে ওই দিনের টাকা আর পাবো না। তাই শীত পড়ুক আর গরম কাজে আমাদের আসতেই হবে।’


যেখানে দামি শীতের পোশাক, লেপ-কম্বলেও চুয়াডাঙ্গার এই হাড়কাঁপানো শীত মোকাবিলা খুব মুশকিল, সেখানে কিছু ছিন্নমূলের অসহায় মানুষদের দেখা যায় শহরের বিভিন্ন স্থানে খোলা আকাশের নিচে, ফুটপাতে, স্টেশনে ছেঁড়া ফাটা কাপড় আর পাতলা কম্বল বা কাঁথায় রাত্রিযাপন করতে। শীত যেন তাদের জন্য অভিশাপ। তবে জেলা প্রশাসন এবং পৌরসভা ও চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন মানবিক সংস্থার দেওয়া কম্বল ও শীতের কাপড় ছিন্নমূলের মানুষদের শীতের সাথে যুদ্ধে কিছুটা ঢাল হিসাবে কাজ করছে।  হাসাপাতালেও বাড়ছে রোগির চাপ, সল্প লোকবলে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।


চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান বলেন, ‘আজকে তাপমাত্রা বেশি কিন্তু সূর্য না ওঠায় ঘন কুয়াশার কারণে শীতের অনুভূতিটা বেশি। এটি কোনো শৈত্যপ্রবাহ নয়। তবে এই মাসের ৩০ তারিখের পর থেকে শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা রয়েছে।’

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)