আজ দেশে ফিরছেন তারেক রহমান

এলো মাটি ও মানুষের কাছে ফেরার মাহেন্দ্র সময়

আপলোড তারিখঃ 2025-12-25 ইং
আজ দেশে ফিরছেন তারেক রহমান ছবির ক্যাপশন:

আজ সেই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রায় দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে আজ জনসমুদ্রে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করছেন বিএনপির কান্ডারি, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনেতা তারেক রহমান। লাখো কোটি নেতা-কর্মীর পথপ্রদর্শক এই শীর্ষ নেতাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত পুরো বাংলাদেশ। এটি স্মরণকালের সর্ববৃহৎ মহাসমাবেশ হবে বলে দৃঢ়প্রত্যাশা দলীয় নীতিনির্ধারকদের। সংবর্ধনামঞ্চ ঘিরে গতরাতেই মানুষের ঢল নেমেছে। রাজধানীর পাশেই এই বিশাল গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে দলের পক্ষ থেকে। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা সংলগ্ন ৩০০ ফিট সড়কে গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে জনতার অভিবাদন গ্রহণ ও দেশবাসীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাবেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠপুত্র তারেক রহমান। বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের (বিজি ফ্লাইট ২০২০) বোয়িং ৭৮৭-৯ মডেলের উড়োজাহাজটি সিলেট হয়ে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মাটি স্পর্শ করবে। সিলেট বিমানবন্দরে কোনোরকমের রিসিপশন কিংবা ভিড় না করার জন্য দলের পক্ষ থেকে নেতা-কর্মীদের নিষেধ করা হয়েছে। গতকাল স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় (বাংলাদেশ সময় মধ্যরাত) লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যুক্তরাজ্য ত্যাগ করেন তারেক রহমান। তাঁর সঙ্গে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও একমাত্র মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান ছাড়াও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও দলের প্রেস উইংয়ের প্রধান ড. সালেহ শিবলী, একান্ত সচিব আবদুর রহমান সানিসহ আরও একজন আসছেন।

ঢাকায় বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে সিনিয়র নেতা এবং দেশের বিশিষ্ট ও বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানাবেন। সেখান থেকে সরাসরি রাজধানীর পাশে পূর্বাচল রুটের ৩০০ ফিট সড়কে প্রস্তুত সংবর্ধনা মঞ্চে উঠে দলীয় নেতা-কর্মীসহ দেশবাসীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আগামী দিনে দলের করণীয় ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরবেন। দল ও দেশের ভবিষ্যৎ কান্ডারি তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার দেশে ফেরা নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনীতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছে সমগ্র দেশবাসী। তাঁর এ ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনকে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজে লাগানোর প্রত্যাশা আজ বিএনপিসহ সমগ্র জাতির। দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে সারা দেশ থেকে রেল-সড়কপথসহ বিভিন্ন মাধ্যমে লাখ লাখ নেতা-কর্মী ও সমর্থক ইতোমধ্যে নিজ উদ্যোগে রাজধানীতে এসে পৌঁছেছেন। অনেকে কয়েক দিন আগে থেকেই ঢাকায় অবস্থান করছেন। শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে লেখা নানান রংবেরঙের পোস্টার ও ব্যানার-বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে ঢাকা মহানগরী। এদিকে গতরাতেই প্রিয় নেতাকে নিয়ে নানারকমের আবেগঘন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গণসংবর্ধনাস্থল। জনসমাগমের দিক থেকে অতীতের সব রাজনৈতিক নেতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের রেকর্ড ভাঙার প্রত্যাশা করছে বিএনপি। এ প্রসঙ্গে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, ‘তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন অভ্যর্থনা কমিটি’র আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের জন্য এমন সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে, যা অতীতে আর কোনো রাজনৈতিক নেতাকে দেওয়া হয়নি। সাধারণ মানুষ যাতে দেখতে পায় সেজন্য প্রচুর পরিমাণে ডিজিটাল ও এলইডি স্ক্রিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। লাগানো হয়েছে সহস্রাধিক মাইক। স্থাপন করা হয়েছে মেডিকেল ক্যাম্প।’ বিএনপির দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বলছেন, ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের পর মইন উদ্দিন-ফখরুদ্দীন সরকার তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করে। ২০০৮ সালে তাঁকে মুক্তি দিয়ে উন্নত চিকিৎসার নামে যুক্তরাজ্যে নির্বাসনে পাঠানো হয়। নতুন পরিবেশ-পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে ব্যাপক উদ্দীপনা ও প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে। সারা দেশের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা উচ্ছ্বসিত ও উৎফুল্ল। এই গণসংবর্ধনায় উপস্থিতির দিক থেকে অতীতের সব আয়োজনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তারেক রহমানের দেশে ফেরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যার পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এ গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবে। তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এর আগে আরও দুবার দেশে এলেও তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেননি।


বরণে ব্যাপক প্রস্তুতি :
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সন্নিকটে পূর্বাচল রুটের ৩০০ ফিট এলাকায় গণসংবর্ধনার বিশাল আয়োজন করা হয়েছে। সর্বোচ্চ জনসমাগম নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুরো আয়োজন সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ রাখতে কাজ করছেন নেতা-কর্মীরা। নিরাপত্তা নিশ্চিতে দলের পাশাপাশি সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও নানান পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের জন্য ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে অশানুরূপ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে; যা ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হচ্ছে।


বাস-ট্রেন-ট্রাক-লঞ্চে আসেন নেতা-কর্মীরা :
সংবর্ধনায় অংশ নিতে ইতোমধ্যে সারা দেশ থেকে নেতা-কর্মীরা এসে পৌঁছেছেন। তবে ঢাকা ও আশপাশ জেলার নেতা-কর্মীরা আজ সকালে বিমানবন্দর এলাকায় চলে আসবেন। দলের শীর্ষ নেতারা তাঁদের নেতাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাবেন। এ ছাড়া ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থী, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। গতকাল থেকে আজ সারা দেশের ১০টি লাইনে স্পেশাল ট্রেন চলাচলের শিডিউল রয়েছে। কক্সবাজার থেকে পঞ্চগড়, খুলনা থেকে রাজশাহীসহ দেশের প্রায় প্রতিটি প্রান্ত থেকে ঢাকামুখী হচ্ছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। রেলওয়ে জানিয়েছে, স্পেশাল ট্রেন ও অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের মাধ্যমে আনুমানিক অর্ধকোটি টাকা রাজস্ব আয় হচ্ছে। তবে নির্বাচনি আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে নেতা-কর্মীদের প্রতি।


কাল ও পরশু যেসব কর্মসূচি :
তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনের কারণে সৃষ্ট অসুবিধার জন্য নগরবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছে দলটি। জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় এমন কর্মসূচি তারেক রহমান সমর্থন করেন না বলেও জানানো হয়েছে। গতকাল দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন অভ্যর্থনা কমিটির আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘জনদুর্ভোগ লাঘবেই রাজধানীর একপাশে ৩০০ ফিট সড়কের সার্ভিস লেনে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তারেক রহমান ছাড়া আর কেউ বক্তব্য দেবেন না। নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতায়াতে কাঞ্চন ব্রিজ ব্যবহারের জন্য। শুক্রবার জুমার পরে শেরেবাংলানগর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে যাবেন তারেক রহমান। সেখান থেকে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে যাবেন। পরদিন ভোটার তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে যাবেন আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে এবং এরপর জুলাই আন্দোলনে আহতদের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন শেরেবাংলানগর পঙ্গু হাসপাতালে। সেদিন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করতেও যাবেন তারেক রহমান।’


সারা দেশের লাখ লাখ নেতা-কর্মী ঢাকায় :
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দিতে সারা দেশের লাখ লাখ নেতা-কর্মী এখন ঢাকায়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাস-মিনিবাস, লঞ্চসহ নানা যানবাহনে তারা রাজধানীতে এসেছেন। পাশাপাশি স্পেশাল ট্রেনও ভাড়া করা হয়েছে। এদিকে তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন স্থানে মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। দীর্ঘ ১৮ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলের শীর্ষ নেতার প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে বিএনপির সর্বস্তরে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলায় তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বইছে প্রাণচাঞ্চল্য। দলের কান্ডারির প্রত্যাবর্তন বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি ও আশার সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় একটি ঐতিহাসিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। বিএনপি নেতারা মনে করছেন, তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন দলীয় রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আরও গতিসঞ্চার করবে। সংবর্ধনার দিনটি বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি স্মরণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)