ছবির ক্যাপশন:
দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম দৈনিক প্রথম আলো ও দি ডেইলি স্টার-এর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, সাংবাদিকদের হেনস্তা, হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত ৮টায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাব সভাপতি রাজীব হাসান কচি। সভায় দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা-উপজেলায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও পত্রিকা অফিসে ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
প্রতিবাদ সভায় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড। অবিলম্বে প্রকৃত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবিরকে হেনস্তার ঘটনারও তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা একজন সাহসী কণ্ঠকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। একইভাবে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ওপর হামলা গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। প্রথম আলো ও দি ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের বিচার না হলে এ ধরনের হামলা আরও বাড়বে। গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।
সভা থেকে শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ডে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে দাবি আদায় না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন, এনটিভির জেলা প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধি জামান আখতার, সময় টিভির রিপোর্টার মাহফুজ মামুন, নয়া দিগন্তের জেলা প্রতিনিধি হুসাইন মালিক, স্টার নিউজ টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি জহির রায়হান সোহাগ, জনবাণীর জেলা প্রতিনিধি শামসুজ্জোহা রানা প্রমুখ। সভা শেষে শহিদ শরীফ ওসমান হাদীর রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।
