ছবির ক্যাপশন:
দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে লোহা পিটিয়ে দা, নিড়িং, হাসুয়া, কাঁচি, কোদাল ও কুড়ালসহ নানা ধরনের কৃষি উপকরণ তৈরি করে আসছেন পংকজ কর্মকার। ডুগডুগি হাটের গোরস্থানের অপর পাশে অবস্থিত একটি ছোট কামারশালায় আজও নিয়মিত লোহা পিটিয়ে জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
পংকজ কর্মকার জানান, ১৭ বছর বয়সে বাবা ও দাদার কাছ থেকে এ পেশার হাতেখড়ি নেন তিনি। তার পরিবারে চৌদ্দ পুরুষ ধরে এই কামারশিল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকার ইতিহাস রয়েছে। তবে সময়ের পরিবর্তনে কাজের ধরনেও এসেছে পরিবর্তন। আগে লাঙ্গলের ফালা পোড়ানোর কাজ নিয়মিত থাকলেও বর্তমানে যান্ত্রিক লাঙ্গল ব্যবহারের কারণে সেই কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, কোনো কোনো দিন ৪ হাজার টাকা, আবার কোনো দিন ২ হাজার টাকা, কখনো কখনো ৫০০ টাকা আয় হয়। আয় নির্ভর করে কাজের পরিমাণ ও মৌসুমের ওপর। পংকজ কর্মকার ৩ ছেলে ও ১ মেয়ের জনক। তার দুই ছেলে স্বর্ণের দোকানে কাজ করেন এবং ছোট ছেলে বাবার সঙ্গে কামারশালায় কাজ করে সহযোগিতা করছে।
পংকজ কর্মকার আরও জানান, লোকনাথপুর, পরানপুর, জয়রামপুর, ছোট দুধপাতিলা ও কাদিপুরসহ প্রায় ১০টি গ্রামের কৃষকরা তার কাছে এসে প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ তৈরি করে নিয়ে যান। তিনি বলেন, ‘আমি চারবার স্ট্রোক করেও এই কাজ করে যাচ্ছি। বয়স হয়ে গেছে, এখন আর আগের মতো কাজ করতে পারি না। তবে ছেলে সহযোগিতা করে বলেই এখনো টিকে আছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাড়িতে বসে থাকতে ভালো লাগে না। কৃষকদের সঙ্গে কাজ করতে করতে গল্পগুজব হয়, সময় কেটে যায়। এ অঞ্চলের কৃষকরা আমার কাজ পছন্দ করে বলেই আজও ছুটে আসে।’
বর্তমান সময়ের পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, আগে ধান ও পাট কাটার মৌসুমে কাঁচি, নিড়িং ও হাসুয়ার চাহিদা বেশি থাকলেও এখন কৃষি প্রযুক্তির উন্নতির ফলে ১২ মাসই কাজ থাকে। ফলে আয়-রোজগারও আগের চেয়ে তুলনামূলক ভালো। শেষে তিনি বলেন, ‘ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে ভালোই দিন কাটছে। যতদিন শরীর সায় দেয়, ততদিন লোহা পিটিয়ে কৃষকদের সেবা দিয়ে যেতে চাই।’
