গৌরবোজ্জ্বল মহান বিজয় দিবস আজ

আপলোড তারিখঃ 2025-12-16 ইং
গৌরবোজ্জ্বল মহান বিজয় দিবস আজ ছবির ক্যাপশন:

১৬ ডিসেম্বর আজ মহান বিজয় দিবস। বিজয়ের ৫৫ বছরে পা রাখলো বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে এ জাতি অর্জন করে তার শ্রেষ্ঠতম অর্জন। যথাযোগ্য মর্যাদায় এ দিবসটি উদ্যাপিত হচ্ছে। সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রেসিডেন্ট ও প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে এ দিবসটি উদ্যাপন শুরু হবে। পৌষের মিষ্টি রোদে উদ্ভাসিত প্রকৃতি। চারদিকে বইছে আনন্দধারা। ফসলের প্রাচুর্যের সাথে বিজয়ের গল্প যেন একসূত্রে গাঁথা। ’৭১-এর এমন দিনেই বাংলাদেশ স্পর্শ করেছিল মুক্তির মাইলফলক। ৫৫ বছরে বিজয়ের পরম্পরায় সাম্য প্রতিষ্ঠার ইশতেহার নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নতুন প্রজন্মের। আর অগ্রজদের প্রত্যাশা রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থার আধিপত্যবাদ দূর করে সম্মিলিতভাবে গড়তে হবে নতুন বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদরাও থাকছেন এবারের বিজয় উদ্যাপনে। ২৪ শের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নতুন গণতান্ত্রিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন এক মাতৃভূমি গড়ার প্রত্যাশা দেশের আপামর মানুষের।


পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে যখন এ দেশের ঘুমন্ত নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের ওপর ট্যাংক-কামানের মতো ভয়ঙ্কর মারণাস্ত্র নিয়ে গণহত্যার পৈশাচিকতায় মেতে উঠেছিল, তখন থেকেই শুরু হয়েছিল প্রতিরোধ সংগ্রাম। সে রাতেই তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের ঘোষণায় দেশের স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন দেশের ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তাদের ছিল না যুদ্ধের প্রশিক্ষণ, ছিল না কোনো উন্নত সমরাস্ত্র। সেই বীর সন্তানরা যুদ্ধের ময়দানে ছুটে গিয়েছিলেন শত্রুর মোকাবিলায়। জীবনের মায়া তাদের কাছে ছিল তুচ্ছ। যার কাছে যা ছিল, তাই নিয়েই দেশের বীর সন্তানরা শত্রুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মরণপণ লড়েছিলেন মুক্তির সংগ্রামে।
দীর্ঘ ৯ মাস হানাদার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশের বীর সন্তানেরা। ৩০ লাখ মানুষের প্রাণ, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম আর বিপুল সম্পদহানির মধ্যদিয়ে ১৬ ডিসেম্বর মুক্তির সংগ্রামে সফল হয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। জাতিকে মুক্ত করেছিলেন পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে। ছিনিয়ে এনেছিলেন চূড়ান্ত বিজয়। একটি স্বাধীন ভূখণ্ড ও লাল-সবুজের পতাকা। জাতি আজ এই বিজয়ের আনন্দের দিনে গভীর কৃতজ্ঞতা ও পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী বীর সন্তানদের। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট ও প্রধান উপদেষ্টা পৃথক বাণী দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন তার বাণীতে বলেছেন, ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। এ দিনটি আমাদের জাতীয় গৌরবের প্রতীক, স্বাধীনতার চূড়ান্ত সাফল্যের স্মারক। স্বাধীনতার প্রকৃত সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হলে গণতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরমতসহিষ্ণুতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং ঐক্যের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।


বিজয় দিবসের বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আজ ১৬ ডিসেম্বর, এ দেশের বিজয়ের ৫৪ বছর পূর্তির দিন। মহান বিজয় দিবস। এই দেশের মানুষ চিরকাল এই দিনটির জন্য গর্ববোধ করবে। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাঙালি জাতি এক বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামে বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের নাম সংযোজিত করেছিল। এর মাধ্যমেই মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনার স্বীকৃতি মেলে। প্রতি বছর দেশের মানুষ এই দিনটিকে আনন্দ উচ্ছ্বাসের মাধ্যমে পালন করে। তিনি বলেন, গত ১৬ বছর ধরে পক্ষ-বিপক্ষ সৃষ্টি করে ঔপনিবেশিক ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ নীতির মাধ্যমে দেশকে বিভাজিত করে বাংলাদেশকে লুটেপুটে খেয়েছে গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ। এই বিভাজনকে সহ্য করতে পারেনি দেশের মানুষ। ফলে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ফের শুরু হয় লড়াই-সংগ্রাম। অবশেষে ’৭১ এর রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের ভেতর দিয়ে এক নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়।


বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা বার্তায় বলেন, আজ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধের পর জাতি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করে। আমি এদিনে দেশবাসীসহ প্রবাসী বাংলাদেশিদের জানাই শুভেচ্ছা। সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণে ভরে উঠুক তাদের জীবন। এই দিনে ৯ মাসব্যাপী স্বাধীনতা যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে এবং বাংলাদেশ নামের একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন সেই সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের জানাই গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। আমি স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। বিদেশি শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে যেসব মা-বোন সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন- আমি জানাই তাদের সশ্রদ্ধ সালাম। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ডাকে শুরু হওয়া স্বাধীনতা যুদ্ধ ওই বছর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জিত হয় পাক হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করার মাধ্যমে। দেশের অদম্য বীর মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে এ বিজয় ছিনিয়ে আনে। তাই ১৬ ডিসেম্বর জাতির অহঙ্কার, আনন্দ আর বেদনার এক মহাকাব্যিক দিন। আজকের এ মহান দিনে আমি সেসব বীর সেনাদের সশ্রদ্ধ অভিবাদন জানাই।
এ ছাড়া এ দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলও শুভেচ্ছা বার্তা দিয়েছে। দেশজুড়ে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদ্যাপন করা হচ্ছে। দিনের শুরুতে দেশের সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং রাতে গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনা আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো প্রকাশ করেছে বিশেষ ক্রোড়পত্র। ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো মাসব্যাপী প্রচার করছে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান। এ ছাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও উপাসনার আয়োজন করা হয়েছে। সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ, বঙ্গভবন, প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনসহ ভিভিআইপি ও ভিআইপি চলাচলের স্থানগুলোতে র‌্যাবের দৃশ্যমান উপস্থিতি ও টহল অব্যাহত থাকবে। বিদেশি কূটনৈতিক মিশনের আশপাশেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)