চুয়াডাঙ্গার ভুলটিয়ায় লাইসেন্স ছাড়াই কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশে ইটভাটা

ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য, আইন লঙ্ঘন হলেও প্রশাসন নীরব

আপলোড তারিখঃ 2025-12-15 ইং
চুয়াডাঙ্গার ভুলটিয়ায় লাইসেন্স ছাড়াই কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশে ইটভাটা ছবির ক্যাপশন:

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ভুলটিয়া গ্রামে একটি অবৈধ ইটভাটা দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি সৃষ্টি করে চলেছে। স্থানীয় ‘আরএমবি ব্রিকস’ নামের এই ইটভাটাটি কেবল লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে না, বরং এর অবস্থান, কাঁচামালের ব্যবহার এবং কার্যক্রম- সবকিছুই সরাসরি পরিবেশ ও ইট প্রস্তুত আইন লঙ্ঘন করছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, জনস্বাস্থ্য সেবার কেন্দ্র কমিউনিটি ক্লিনিকের একেবারে লাগোয়া স্থানে ভাটাটি দিনের পর দিন ধরে সক্রিয় থাকায় এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে।


আরএমবি ব্রিকস-এর কার্যক্রম বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৮) এর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ধারা লঙ্ঘন করেছে। এই আইনের ধারা ৪ অনুযায়ী, কোনো সরকারি বা বেসরকারি স্থাপনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল বা ক্লিনিকের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন বা পরিচালনা করা যাবে না। ভুলটিয়ার কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশে ভাটাটি চালু থাকায় ধারা ৪(৩) এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হচ্ছে।


এই আইনের ধারা ৫ অনুযায়ী ভাটাটির চারপাশের বিশাল কৃষিজমি ও আবাদ সংলগ্ন এলাকায় ভাটাটি চালু থাকায় পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। এছাড়া, ইট তৈরির কাঁচামাল হিসেবে কৃষিজমির টপ সয়েল (উর্বর উপরিভাগের মাটি) কেটে এনে বিশাল পাহাড় করে রাখা হয়েছে। এটি ধারা ৫ এর সম্পূর্ণ পরিপন্থী, যা কৃষি জমির উর্বরতা নষ্ট করাকে নিষিদ্ধ করে। ধারা ৪ অনুযায়ী ভাটাটির লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। ধারা ৪ (১) অনুযায়ী, লাইসেন্স ছাড়া কোনো ইটভাটা স্থাপন, পরিচালনা, বা চলমান রাখা সম্পূর্ণ অবৈধ। নবায়ন না হওয়ায় এটি এখন একটি অবৈধ স্থাপনা হিসেবে গণ্য। এছাড়াও, টপসয়েল বহনকারী গাড়ির মাধ্যমে রাস্তায় কাদা-মাটি পড়ে যান চলাচলে বিঘ্ন এবং দুর্ঘটনার সৃষ্টি হওয়া পরিবেশ সংরক্ষণ ও জননিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দেয়।


লাইসেন্স নবায়ন না হওয়া সত্ত্বেও ভাটাটি দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে- জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালকের প্রত্যক্ষ মদদে লাইসেন্সবিহীন ভাবেই চলছে এই ভাটাটি। চুয়াডাঙ্গা পরিবেশ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘নবায়নবিহীন ভাবেই ভাটাটা চালু আছে ক্লিনিকের সামনে। আমাদের মোবাইল কোর্ট চালু আছে, মোবাইল কোর্টের সময় আমরা অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে  ব্যবস্থা নেব।’


কিন্তু এই অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের ধারণা, ভাটাটির মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় এবং এর পেছনে বড় ধরনের অর্থনৈতিক লেনদেন বা সুবিধা বিনিময়ের সম্পর্ক রয়েছে। একটি অবৈধ স্থাপনা চালু থাকার অর্থ হলো, এর বিপুল বিক্রির ওপর ধার্যকৃত রাজস্ব, ভ্যাট এবং আয়কর সম্পূর্ণভাবে সরকারের রাজস্বের খাতায় ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে, যা সরাসরি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (ঘইজ)-এর আইন লঙ্ঘন করছে।


ভাটাটির স্বত্ত্বাধিকারী মোতালেব বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা কোনো টপ সয়েল ব্যবহার করি না। আমাদের নবায়নের আবেদন দ্রুতই করব। আর মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি এনেছি, আমি নিজ খরচে কমিউনিটি ক্লিনিক করে দেব।’
অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পাশে এভাবে অবৈধভাবে ভাটা চালু রাখা এবং পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের নীরবতা এক গভীর স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের জন্ম দিচ্ছে। দ্রুত কার্যকর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ভাটাটি সিলগালা করা এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)