ছবির ক্যাপশন:
চুয়াডাঙ্গায় স্ত্রীর সাথে বিরোধে সেরেগুল (৬০) এবং আব্দুর রহমান (৮০) নামের পিতা-পুত্রকে কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপাড়া বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত সেরেগুল ইসলাম ওই পাড়ার আব্দুর রহমানের ছেলে এবং আব্দুর রহমান একই এলাকার মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে। আহত দুইজন বাবা-ছেলে এবং অভিযুক্তের সম্পর্কে চাচা শ্বশুর ও দাদা শ্বশুর।
আহতের ভাতিজা ভুক্তভোগী নারী রিনা খাতুন বলেন, ‘কয়েক মাস ধরে আমার স্বামী ইসলাম পাড়ার মণ্টুর ছেলে রিপন অন্য জায়গায় সম্পর্ক করেছে। আমার ভরণ-পোষণ দেয় না। আমার সাথে অশান্তি করে। এর আগে বৃহস্পতিবারে আমার স্বামীর সাথে সম্পর্ক হওয়া সেই মেয়ে লোকজন দিয়ে আমাকে মারধর করে। আমার স্বামী তবুও মারধর ঠেকায়নি। আমি তারপর ওই অবস্থায় একই এলাকার আমার দুঃসম্পর্কের দাদার বাড়িতে চলে যায়। এরপর আমি মারধরের জন্য সদর থানায় একটা অভিযোগ করেছি। আমার স্বামী আর স্বামীর বাড়ির লোকজন ভেবেছে আমার এই দুঃসম্পর্কের চাচা শ্বশুর এবং দাদা শ্বশুর আমাকে নিয়ে থানায় নিয়ে গেছে। কিন্তু তারা নিয়ে যায়নি।’ তিনি আরও বলে, ‘এরই জের ধরে আমার স্বামী, আমার শ্বশুরসহ কিছু লোকজন এনে আমার চাচা এবং আমার দাদা শ্বশুরকে অতর্কিতভাবে কোপানো শুরু করে।’
পরে স্থানীয়দের সহযোগীয় তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আফরিনা ইসলাম প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সেরেগুলকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। আর আব্দুর রহমানকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছুটি দেওয়া হয়।
জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আফরিনা ইসলাম বলেন, বিকেলে জরুরি বিভাগে মারামারি সংক্রান্ত দুইজনকে নিয়ে আসা হয়। এরমধ্যে সেরেগুল নামের আহত ব্যক্তির শরীরে জখমের বেশ কয়েকটি চিহ্ন আছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ভর্তি রাখা হয়েছে। আর আব্দুর রহমানকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছুটি দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা এ ঘটনার খবর পেয়েছি এবং হাসপাতালে আহতদের কাছে সার্বক্ষণিক হাসপাতালে নিয়োজিত সদর থানা পুলিশের টিম আছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
