ছবির ক্যাপশন:
জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে নির্বাচনী পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজের পর আন্দুলবাড়ীয়া আনসারবাড়ীয়া রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন আখ সেন্টারে এ নির্বাচনী পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির অন্যতম নেতা সাইদুর রহমান সাইদুলের সভাপতিত্বে পথসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-কোষাধ্যক্ষ, বিজিএমইএ ও জেলা বিএনপির সভাপতি এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের এলাকার সন্তান। তাই কথা দিচ্ছি- আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে আমার নিজ গ্রামের স্মৃতিবিজড়িত ও আপনাদের দীর্ঘদিনের দাবিকৃত আনসারবাড়ীয়া রেলওয়ে স্টেশনটি পুনরায় চালু করা হবে এবং এখানে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য চুয়াডাঙ্গায় একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। মা ও শিশুদের জন্য আলাদা একটি আধুনিক মা ও শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি পরিবারকে একটি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার মাসে আড়াই হাজার টাকা পাবে এবং সেই টাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবে।’
বাবু খান বলেন, ‘আপনারা আমাকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিন। আমি আপনাদের সন্তান হিসেবে ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-দলমত নির্বিশেষে সবার সেবা করতে চাই।’ এরপর তিনি বলেন, ‘এ আসনে অতীতে যারা ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন, তারা হয় চুয়াডাঙ্গা থেকে, নাহয় আলমডাঙ্গা থেকে এসেছেন। আমাদের এলাকাবাসীকে তাদের কাছে যেতে হয়েছে। কিন্তু আমি এ এলাকারই সন্তান। তাই যদি আমি নির্বাচিত হই, আপনাদের কাছে থাকব, হাতের নাগালে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন ভোটার একবার আমাকে বলেছিলেন- “আমি আপনাকে ধানের শীষে ভোট দেব, কিন্তু প্রতিশ্রুতি না রাখলে সন্তোষপুর মোড়ে আপনার গাড়ি আটকে দেব।” আমি তাকে বলেছিলাম, আমার গাড়ি আটকাতে হবে না, প্রয়োজনে আমার বাড়ির দরজাই বন্ধ করে দেবেন।’
বিএনপির প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু জোর দিয়ে বলেন, ‘আমি কখনো এমন প্রতিশ্রুতি দেব না, যেগুলো পালন করা সম্ভব না। অনেকেই নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দেন, মা-বোনদের বলেন নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিলে নাকি জান্নাত পাওয়া যাবে! আমি এ ধরনের প্রতিশ্রুতি দিই না। জান্নাত-জাহান্নাম নির্ভর করে আল্লাহর ওপর এবং আমাদের আমলের ওপর।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি যে প্রতিশ্রুতিগুলো দেব, সেগুলো বুঝে-শুনেই দেব। অবহেলিত এ অঞ্চলের অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, মন্দির-গীর্জা, ঈদগাহ, কবরস্থান, মহাশ্মশান, সব জায়গার উন্নয়নই আমাদের লক্ষ্য। এছাড়া আমাদের ঘোষিত ৩১ দফার মধ্যে অন্যতম হলো- প্রত্যেক পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া এবং সুষ্ঠুভাবে তা বাস্তবায়ন করা।’
পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতিয়ার রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান সোনা, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ হাফিজুর রহমান হাফিজ, জীবননগর উপজেলা মহিলা দলের নেত্রী পেয়ারা বেগম, দর্শনা পৌর বিএনপিতে যোগদানকৃত ওলামা দলের অন্যতম নেতা হযরত মাওলানা নাজমুল হাসান বিপ্লবী।
এসময় উপস্থিত ছিলেন আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের সুপার ফাইভ নেতা রফু উদ্দীন, জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি সাইদুর রহমান বাবু, জেলা যুবদলের সদস্য ফিরোজ আলম, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মকবুল হোসেন, সহসভাপতি নান্নু মিয়া, সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম হোসেন, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন মহিলা দলের নেত্রী নারগিস আক্তার, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোল্লা বিপুল হোসেন দরবেশ, সদস্যসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মুক্তার, ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি সেলিম উদ্দীন প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান সোনা। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনায় দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
