ছবির ক্যাপশন:
‘নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করি’ প্রতিপাদ্যে চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে র্যালি, আলোচনা সভা, অদম্য নারী সংবর্ধনাসহ নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস। গতকাল মঙ্গলবার জেলা প্রশাসন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, জাতীয় মহিলা সংস্থা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে বক্তারা নারীর ক্ষমতায়ন, নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিতে সম্মিলিত সামাজিক-প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
চুয়াডাঙ্গা:
‘নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করি’ প্রতিপাদ্যে নানা আয়োজনে চুয়াডাঙ্গায় আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবসের পালন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও অদম্য নারীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিটি জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে বের হয়ে কোর্ট মোড় প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরবর্তীতে আলোচনা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নয়ন কুমার রাজবংশীর (সার্বিক) সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বের মধ্যে একটাই জাতি, যারা খুব শৈল্পিক আকারে মিথ্যা কথা বলতে পারে, সেটা হলো বাঙালি। আমরা শিক্ষিত-অশিক্ষিত জাতি গোত্র নির্বিশেষে সকলেই মিথ্যা কথা বলি। এই মিথ্যাটাও শিখেছে মায়ের থেকে। এখন বাবা-মা ও অন্যরকম মায়েরা কিন্তু সন্তানের জীবন গড়ে তুলে, কিন্তু বর্তমানে মায়েরা সন্তানের জীবন শেষ করে দিচ্ছে। আমার সন্তান রাস্তায় একজনের হাতে চড় খেয়ে এসেছে। বাবা-মা হিসেবে এটা মেনে নেওয়া খুব কঠিন, তবে আমি ঘটনা না শুনেই কেন তেলে বেগুনে জ্বলে উঠবো? এমনও তো হতে পারে আমার সন্তান এমন কোনো ভুল করেছে, যার কোনো ক্ষমা নেই। আমি আগে ঘটনা জানি, তারপর বিচার করি, কিন্তু তা হয় না। আমরা আগেই সন্তানের পক্ষ নিয়ে নিই। এক্ষেত্রে কী হচ্ছে- সন্তান বুঝে যাচ্ছে আমি যাই করি না কেন আমার পরিবার আমার সাথে আছে। এতে আপনি আপনার সন্তানকে সরাসরি না হলেও সন্ত্রাসী হওয়ার জন্য প্ররোচিত করলেন।’
অদম্য নারী পুরস্কার বিজয়ী জেসমিন খাতুন বলেন, ‘এনজিও থেকে লোন নিয়ে আমি গরু পালন শুরু করি। ধীরে ধীরে সেখান থেকে আমি আজ সফল। একটিট গাভী থেকে আজ আমার ২০টি গরু হয়েছে। আজকে আমি আর্থিকভাবে সচ্ছল।’ চুয়াডাঙ্গা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূর হোসেনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাকসুরা জান্নাত, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সোহেলী রশিদ, জাতীয় মহিলা সংস্থার কর্মকর্তা তাসলিম আহমদ চৌধুরি, জেলা শিক্ষা অফিসার জেসমিন আরা খাতুন, দুর্নীতি দমন কমিশনের ঝিনাইদহ সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বজলুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি প্রফেসর কামরুজ্জামান, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার রিফা, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ, জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আসলাম অর্ক প্রমুখ।
এসময় অনুষ্ঠানে ২৫-২৬ অর্থবছরে অদম্য নারী পুরস্কার শীর্ষক কার্যক্রমের আওতায় চুয়াডাঙ্গা জেলা পর্যায়ে ৫টি ভাগে ৫ জন শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী নির্বাচিত হন। এর মধ্যে অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে পুরস্কার গ্রহণ করেন জেসমিন খাতুন, সফল জননী নারী হিসেবে পুরস্কার গ্রহণ করেন রোকেয়া খাতুন, শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে পুরস্কার গ্রহণ করেন মৌসুমী জান্নাত সেতু, নির্যাতনের দুঃখ স্বপ্ন মুছে জীবন সংগ্রামে জয়ী নারী হিসেবে পুরস্কার গ্রহণ করেন নাছরিন আরা, সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদানের ওপর পুরস্কার গ্রহণ করেন রাজিয়া খাতুন।
আলমডাঙ্গা:
আলমডাঙ্গায় উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অফিসের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বেলা তিনটার দিকে আলমডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে র্যালিটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা হলরুমে এসে শেষ হয়। পরে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিস পান্না আক্তারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিষ কুমার বসু, সমাজসেবা অফিসার সাজ্জাদ হোসেন, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা হিরোজ কবির, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সেলিম রেজা। সভায় বক্তব্য দেন খন্দকার শাহ আলম মণ্টু, সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হামিদুল ইসলাম আজম, উদ্যোক্তা হেলেনা আক্তার কামনা, শরিফা খাতুন, ববিতা খাতুন প্রমুখ। এ বছর ৩ জনকে অদম্য নারী হিসেবে সম্মাননা ক্রেস্ট ও একজন সফল জননী হিসেবে পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।
দামুড়হুদা:
নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করি এই স্লোগানকে সামনে রেখে দামুড়হুদায় আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস পালন উপলক্ষে র্যালি, অদম্য নারীদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে প্রথমে পরিষদ চত্বর থেকে র্যালি বের হয় পরবর্তীতে পরিষদের সভাকক্ষে অদম্য নারীদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হোসনে জাহানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কেএইচ তাসফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান, আব্দুল ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ কামাল উদ্দিন, উপজেলা কৃষি অফিসার শারমিন আক্তার, উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু হাসান, প্রাণিসম্পদ অফিসার নিলিমা আক্তার হ্যাপী, সমবায় অফিসার হারুন অর রশিদ, সমাজসেবা অফিসার তোফাজ্জেল হক, একাডেমিক সুপারভাইজার রাফিজুল ইসলাম প্রমুখ।
আলোচনা সভা শেষে অদম্য নারী পুরস্কার কার্যক্রমের আওতায় অর্থনৈতিকভাবে সফলতা অর্জন, সফল জননী, শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন, নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে জীবন সংগ্রামে জয়ী নারী এবং সমাজ উন্নয়নে অবদান রেখেছেন যে নারী ক্যাটাগরিতে ৫ জনকে ফুলের শুভেচ্ছা, ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী দিয়ে সংবর্ধনা ও পুরস্কৃত করা হয়।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে বেগম রোকেয়া দিবস ও আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ-২০২৫ পালিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত হয় বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা এবং সমাজে বিশেষ অবদান রাখা অদম্য নারীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম ও জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাসিমা খাতুন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকার নিশ্চিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। আলোচনা সভার পরে, সমাজে বিশেষ অবদান রাখা অদম্য নারীদের সংবর্ধনা। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের মেধা, সাহস ও কর্মদক্ষতা দিয়ে সমাজকে আলোকিত করা কয়েকজন নারীকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহে আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস পালিত হয়েছে। দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের দপ্তরে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভার শেষে জেলার ৬ অদম্য নারীকে সম্মাননা প্রদান করে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসন, জাতীয় মহিলা সংস্থা এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা নারী অধিকার ও নারী শিক্ষার প্রসারে বেগম রোকেয়ার দূরদর্শী অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ। আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাইফুর রহমান, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ঝিনাইদহ কার্যালয়ের উপপরিচালক ইসরাত জাহান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসনেআরা, জেলা মহিলা অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম অফিসার মুন্সি ফিরোজা সুলতানা, জেলা মহিলা সংস্থার কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া সমাজে স্থায়ী উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা রোধে সকলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন। আলোচনা শেষে সফল নারী (অর্থনীতি) হিসেবে ফারজানা ববি বিশ্বাস, (শিক্ষা ও চাকর) রুপালী খাতুন, (সফল জননী) লতিফা বেগম, (জীবন সংগ্রামে জয়ী) শারমিন সুলতানা, (সমাজ উন্নয়নে অবদান) ফেরদৌসী বেগম ও (সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী) রেহেনা খাতুনকে 'অদম্য নারী' সম্মাননা প্রদান করা হয়।
