নানা আয়োজনে চুয়াডাঙ্গা মুক্ত দিবসে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক

আমরা চায় এমন খারাপ সময় যেন আর না আসে

আপলোড তারিখঃ 2025-12-07 ইং
নানা আয়োজনে চুয়াডাঙ্গা মুক্ত দিবসে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ছবির ক্যাপশন:

বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিলসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে চুয়াডাঙ্গা মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাত থেকে চুয়াডাঙ্গা শত্রুমুক্ত হওয়ায় দিনটি জেলায় বিশেষ গুরুত্বে পালিত হয়।


মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় স্মৃতির দিন ৭ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গা মুক্ত দিবস বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ৬টায় শহরের শহীদ হাসান চত্বরের শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে চুয়াডাঙ্গা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের পক্ষ থেকে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।


সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালিটি জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে কোর্ট মোড় প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় জেলা প্রশাসন চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।


সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) বি. এম. তারিক-উজ-জামান। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন।


জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা দীর্ঘকাল পরাধীন ছিলাম। এই পরাধীনতার শিকল থেকে বের হতে আমাদের পূর্ব পুরুষেরা অনেক লড়াই সংগ্রাম করেছে। আমরা তাদের শুধু নামেই জানি, চোখেও কখনো দেখিনি। তবে তাদের অবদান এই দেশে অপরিহার্য, ৪৭-এ যেমন একটা রূপ পেয়েছে, ৭১-এ যেমন একটা রূপ পেয়েছে , তেমনই ২৪ শে ও একটা নতুন রূপ পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ যখন খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে গেছে ঠিক তখন এমন আন্দোলন হয়েছে। তবে আমরা চায় এমন খারাপ সময় যেন আর না আসে, এমন আন্দোলনেরও যেন আর প্রয়োজন না হয়। ৭১-এ আমাদের মুক্তিযোদ্ধা ভাইয়েরা যুদ্ধ করেছিল। তারা হয়তো কখনো ভাবেনি ৯০-এ এসে আবার স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন হবে এবং অনেক মানুষ মারা যাবে। ঠিক তেমনই ২৪-এ এসে এত বড় আন্দোলন হবে কেউ ই ভাবেনি। বলা যায় না ভবিষ্যতে এমন আন্দোলন আবার না হয়! আমরা যুগে যুগে রক্ত দিয়েছি। এটার ইতিহাস জানা খুব প্রয়োজন।


চুয়াডাঙ্গা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ইউনিটের সদস্যসচিব আব্দুল হান্নান বলেন, আজ আমাদের খুব আনন্দের দিন। ৭ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গা, ৬ ডিসেম্বর মেহেরপুর ও ৮ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া মুক্ত হয়েছিলো। সেই স্মৃতিই আজও আমাদের আন্দোলিত করে। হানাদারদের বর্বরতা ছিল ভয়ংকর। আজকের প্রজন্ম সেই চিত্র দেখলে ভীত হয়ে যেত।
তিনি যুদ্ধের বেদনাময় স্মৃতি তুলে ধরে জানান, একবার আমাদের ওপর হামলা হয়, তখন ওরা শুয়ে শুয়ে আমাদের ওপর গুলি করতে শুরু করে। ওরা গুলি শরীরে মারে না মারে পায়ে কারন পায়ে মারলে আর দৌড়াতে পারবো না তখন ওরা খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মারবে বল্লম দিয়ে, চাকু দিয়ে কাটবে। আমরাও পাল্টা গুলি করি। ঐদিন ভেবে নিয়েছিলাম আজ ই শেষ দিন। তবে সাহস আর বুদ্ধির জোরে বেচে ফিরেছিলাম আমরা৷ এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে আমাদের সাথে।


এসময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজেরে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মায়েশা মালেহা, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ও রোভার সদস্য কামাল হোসেন। আরও বক্তব্য দেন বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবেস উদ্দিন, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী কমিশনার এস এম আব্দুর রউফ শিবলু, চুয়াডাঙ্গা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আসলাম হোসেন অর্ক। 


আরও উপস্থিত ছিলেন, চুয়াডাঙ্গা সরকারী কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগী প্রধান ড. মুন্সি আবু সাইফ, ওয়ারিয়স অব জুলাইয়ের আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান, জুলাই যোদ্ধা হাসনা জাহান খুশবু সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মচারী কর্মকর্তাগণ, মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই যোদ্ধা, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক প্রমুখ।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)