জীবননগরে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতি

পাঠদান বন্ধে অভিভাবকেরা ক্ষুব্ধ

আপলোড তারিখঃ 2025-11-28 ইং
জীবননগরে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতি ছবির ক্যাপশন:

জীবননগরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। দেশের অন্যান্য জেলার মতো চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগরেও তিন দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকেরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এই কর্মসূচি শুরু করেন তাঁরা। এতে বন্ধ রয়েছে পাঠদান কার্যক্রম। এদিকে, বার্ষিক পরীক্ষা সামনে রেখে শিক্ষকদের এমন কর্মসূচি পালনে ক্ষুব্ধ অভিভাবকসহ সচেতন মহল। তাঁরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে শিক্ষকদের দাবি আদায়ের কৌশলটি ন্যক্কারজনক।


জীবননগর পৌরসভার দৌলৎগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষকেরা বিদ্যালয়ে এসেছেন। কিন্তু তাঁরা কর্মবিরতি পালন করায় কোনো পাঠদান করাচ্ছেন না। শিক্ষকদের কেউ কক্ষে, আবার কেউ রোদে বসে আছেন। শিক্ষার্থীরা যত্রতত্র খেলাধুলা করছে। স্কুলটির সহকারী শিক্ষক আঞ্জুমান আরা বলেন, আমাদের তিন দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বানে কর্মবিরতি পালন করছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলবে।


ধান্যখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জালাল হোসেন  বলেন, এখন আমাদের কেন্দ্রীয় সংগঠন যে কর্মসূচি দিয়েছে, আমরা সেটা পালন করছি। কারণ, আমাদের দাবিগুলো দীর্ঘদিন ধরে মানা হচ্ছে না। দাবিগুলো হলো- সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল দশম গ্রেডে নির্ধারণ, ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির বিষয়ে জটিলতার অবসান এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি।


এদিকে বার্ষিক পরীক্ষা সামনে রেখে হঠাৎ এই আন্দোলন জোরদার করে শিক্ষকেরা অমানবিক কাজ করছেন বলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অভিভাবকসহ সচেতন মহল।


মহানগর উত্তরপাড়ার গ্রামের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক কান্তা খাতুন বলেন, দাবি আদায়ে সারা বছর দেশে আন্দোলন একের পর এক লেগেই থাকে। কিন্তু শিক্ষকেরা যখন আমাদের সন্তানদের জিম্মি করে, তাদের লেখাপড়া নষ্ট করে আন্দোলনে নামেন, তখন হতাশ হওয়া ছাড়া কী করার আছে।


রাজনগর পাড়ার  আরেক অভিভাবক সবুজ মিয়া  বলেন, কিছুদিন পরই বার্ষিক পরীক্ষা শিশুদের। এই সময়ে এসে কর্মবিরতি পালন করা শিক্ষকদের মোটেই ঠিক নয়। তাঁরা পরীক্ষা শেষ করে তারপর করতে পারতেন। আমাদের সন্তানদের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা দেখবে কে।


জীবননগর উপজেলা শিক্ষা কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি মো. সানোয়ার হোসেন বলেন, সরকার আন্তরিকতা দেখিয়ে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু বিগত ১৫ দিনে তার কোনো বাস্তবায়ন নেই। তাই আমাদের ১১টি সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা ঐকমত্যের ভিত্তিতে সারা দেশে এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন। আমরা আশা করব, সরকার দ্রুত আমাদের দাবি বাস্তবায়ন করবে।


চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা অফিসার শারমিন সেলিনা বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলায় সেভাবে শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করছে না। তবে কিছু কিছু স্কুলে ক্লাস নিচ্ছে না বলে আমরা জানতে পেরেছি। আমাদের যে সমস্ত কাজ আছে, সেগুলো শিক্ষকরা করছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যানুযায়ী, জীবননগর উপজেলায় ৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)