সমমনাদের সঙ্গে আসন বণ্টন প্রক্রিয়া, বিএনপি ছাড়বে সর্বোচ্চ ৪০ আসন

সিদ্ধান্ত এ মাসেই, চলছে শেষ মুহূর্তের দরকষাকষি

আপলোড তারিখঃ 2025-11-26 ইং
সমমনাদের সঙ্গে আসন বণ্টন প্রক্রিয়া, বিএনপি ছাড়বে সর্বোচ্চ ৪০ আসন ছবির ক্যাপশন:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ মাসেই সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আসন বণ্টন প্রক্রিয়া শেষ করবে বিএনপি। ছাড়বে সর্বোচ্চ ৪০টি সংসদীয় আসন। এ নিয়ে চলছে শেষ মুহূর্তের দরকষাকষি। সূত্র জানায়, বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিন যুগপৎ আন্দোলনে থাকা সমমনা শরিক দলগুলো আসন বণ্টনের বিষয়ে দ্রুত ফয়সালা করতে দলীয় হাইকমান্ডকে চাপ দিচ্ছে। বিএনপি ঘোষিত ২৩৭ জন দলীয় প্রার্থী এখন নিজ নিজ সংসদীয় এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত থাকলেও সমমনা দলগুলো এখনো আসন বণ্টনের বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারছেন না। তবে আসন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে তাদের দরকষাকষি চলছে। বিএনপি তফসিল ঘোষণার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে চাইলে সমমনা দলগুলো চায় এ মাসেই। তাই শেষ পর্যন্ত এ মাসেই আসনবণ্টনের বিষয়ে ফয়সালা হচ্ছে বলে জানা যায়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র আড়াই মাস বাকি। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার করেছে। এবার যুগপৎ আন্দোলনের প্রায় ৪০টি দলকে নিয়ে নির্বাচন করতে চায় বিএনপি। সবগুলো দলকে আসন দিতে পারবে না। তবে যে  দলগুলোকে সংসদীয় আসন ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সে দলগুলোর সঙ্গেই চলছে দরকষাকষি। সমমনা দলের কাউকে কাউকে অবশ্য আরও আগেই সবুজ সংকেত দিয়েছে বিএনপি হাইকমান্ড।


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, চরম দুর্দিনে বিএনপিরঙ্গে যারা যুগপৎ আন্দোলনে ছিলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের কিছু আসন ছেড়ে দেওয়া হবে। যত দ্রুত সম্ভব এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সূত্র মতে, বিএনপি এবার ৩০০ আসনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪০টি আসন সমমনাদের জন্য ছাড়তে চায়। যদিও সমমনা দলগুলো প্রাথমিকভাবে প্রায় শতাধিক আসন দাবি করছে। যেসব আসন ছাড়লে বিজয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, এমন আসন খুব বেশি নেই বলে বিএনপির পক্ষ থেকে এক জরিপে শনাক্ত করা হয়েছে। তারপরও সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে চায়।


দীর্ঘদিন বিএনপি ছোট-বড় সমমনা প্রায় ৪০টি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করে আসছে। এখনো মাঝে মাঝে তারা একসঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। যুগপৎ আন্দোলন শুরুর আগেই বিএনপির পক্ষ থেকে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে বলা হয়েছিল একসঙ্গে আন্দোলনের পর নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হলে তারা জাতীয় সরকার গঠন করবে। এ কারণেই ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপির সঙ্গে সমমনা ৪০ দলও নির্বাচন বর্জন করে এক সঙ্গে আন্দোলন অব্যাহত রাখে। তবে এদের মধ্যে বেশ ক’টি দলকে আসন দিতে না পারলেও বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আসন না পাওয়া দলগুলোকে বিভিন্নভাবে মূল্যায়ন করার আশ্বাস দিয়েছে। গতবছর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই বিএনপি সমমনা দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করে। বিএনপি দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানাতে থাকলে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া শরিক দলগুলোও অনুরূপ দাবি জানাতে থাকে। এক পর্যায়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দেয়।


এর পর নির্বাচন কমিশনও নির্বাচনের প্রস্তুতি গতিশীল করে। এখন অপেক্ষা নির্বাচনের তফসিলের। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হবে বিধায় তফসিলের প্রস্তুতিতেও ইসির বাড়তি কিছু কাজ রয়েছে। বিশেষ করে গণভোটের জন্য আইন প্রণয়নের কাজ শেষ হলে সে আইন ফলো করে প্রস্তুতি চূড়ান্ত করবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমাদের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলাকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিছু আসন ছেড়ে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। কাকে কোথায় আসন ছাড়লে বিজয়ী করা সম্ভব হবে তা খাতিয়ে দেখা হচ্ছে। লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, আমরা নির্বাচনী প্রচারে মাঠে আছি অনেক আগে থেকেই। আশা করছি বিএনপির সঙ্গে আসন বণ্টনের বিষয়ে অতি শীঘ্রই চূড়ান্ত হবে।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিএনপির সঙ্গে নির্বাচন করতে আগ্রহী প্রায় ৪০ রাজনৈতিক দলের মধ্যে বেশ কটি দলই কোনো আসন পাবে না। আবার কোনো কোনো দল একাধিক আসন পাবে। যেই দলগুলো আসন পাবে না তারা সমমনা অন্য দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবে এবং ভোটের পর তাদের বিভিন্নভাবে মূল্যায়ন করা হবে। সমমনা ৪০ দলের বাইরে আরও কিছু রাজনৈতিক দল বিএনপির সঙ্গে ভোট করার ইংগিত দিয়ে রেখেছে। তবে যতগুলো দলই আসুক বিএনপি কোনোভাবেই ৪০টির বেশি আসন ছাড় দেবে না। যদিও ২০১৮ সালের নির্বাচনে বৃহত্তর জোট করায় শরিকদের ৫৯ আসন ছেড়ে দিয়েছিল বিএনপি।


বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা সমমনা দলগুলোর মধ্যে অধিকাংশ দলই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন দাবি করেছে। কোনো কোনো দল কয়েকটি করে আসন পাওয়ার দাবিও করেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে কাউকে কাউকে মৌখিকভাবে আসন ছাড়ার আশ্বাস দিলেও চূড়ান্তভাবে এখনো কাউকেই কথা দেয়নি। তবে যাদের সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে তারা এখন মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। বিএনপি চায় নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারলে জাতীয় সরকার গঠনের পাশাপাশি জাতীয় সংসদে আলোচনার ভিত্তিতে রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার বাস্তবায়ন করবে। এ জন্যই বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলো নির্বাচনী প্রচারে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবকে প্রাধান্য দিচ্ছে। 


এবার যেসব রাজনৈতিক দল বিএনপির সঙ্গে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- বিজেপি, এলডিপি, বিএলডিপি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), নাগরিক ঐক্য, ৬ দলের সমন্বয়ে গঠিত গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, ১১ দলের সমন্বয়ে গঠিত সমমনা জোট, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), বাংলাদেশ লেবার পার্টি, এনডিএম, গণঅধিকার পরিষদ, গণফোরাম, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ পিপলস পার্টি (বিপিপি), চার দলীয় গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য এবং বিভিন্ন ইসলামী ও বামপন্থি দল ও জোট। এর বাইরেও আরও কটি দল শেষ মুহূর্তে বিএনপির সঙ্গে নির্বাচন করতে পারে বলে সূত্র জানায়। 


এদিকে বিএনপির কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেয়ে ইতোমধ্যেই যারা নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন- ঢাকা-১৭ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। লক্ষ্মীপুর-৪ আসন থেকে জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব। কোনো কারণে তিনি নির্বাচন করতে না পারলে তার স্ত্রী তানিয়া রব নির্বাচন করবেন বলে জানা যায়। এছাড়া লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম, চট্টগ্রাম-১৪ আসন থেকে এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, পিরোজপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, ঝালকাঠি-১ আসন থেকে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, পঞ্চগড়-২ আসনে জাগপার সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, নড়াইল-২ আসনে এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, কুষ্টিয়া-২ আসনে দলটির মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন, কুমিল্লা-৭ আসনে এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, ঝিনাইদহ-২ আসনে দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি ও বাগেরহাট-১ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)