ছবির ক্যাপশন:
প্রতিবেদক, দামুড়হুদা/আলমডাঙ্গা অফিস:
দামুড়হুদা উপজেলায় পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে রাইসা ব্রিকস, বর্ষা ব্রিকস, হিরো ব্রিকস ও দেশ ব্রিকসের চিমনি ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত দামুড়হুদা ও কার্পাসডাঙ্গায় লাইসেন্স না থাকার কারণে এসব অবৈধ ইটভাটার চিমনি ভেঙে দেওয়া হয়। অভিযান শেষে চুয়াডাঙ্গা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, দামুড়হুদা উপজেলায় যতগুলো অবৈধ ইটভাটা আছে, সবগুলো ক্রমান্বয়ে ভেঙে দেওয়া হবে এবং মেইন সড়কের পাশে, হাসপাতালের পাশে, প্রাইমারি স্কুলের পাশে কোনো ইটভাটা রাখা হবে না। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ বেগম, চুয়াডাঙ্গা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক নাইম হোসেন। অভিযানে সহযোগিতা করেন সেনাবাহিনী টিম, চুয়াডাঙ্গা গাংনী সিপিসি র্যাব লে. কর্নেল কমান্ডার আব্দুল ওয়াহিদ, চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইনের এসআই শাহজান আলির টিম, আনসারের টিম ও চুয়াডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের টিম।
এদিকে, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ২০টি ইটভাটার মালিকসহ প্রায় ২০ হাজার শ্রমিকের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। দামুড়হুদা উপজেলায় ৪টি ইটভাটা উচ্ছেদের ঘটনায় ভাটা মালিকরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় মোট ৮৩টি ইটভাটার মধ্যে আলমডাঙ্গা উপজেলায় রয়েছে ২০টি। প্রতিটি ইটভাটায় গড়ে ৩০০ শ্রমিক, গাড়িচালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীসহ প্রায় ৫০ হাজার মানুষের জীবিকা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত।
ইটভাটা নির্মাণ, কাচামাল সংগ্রহ, জ্বালানি ব্যবহারের ওপর ২০১৩, ২০১৯ ও ২০২২ সালের আইন কার্যকর থাকলেও অনেক ভাটার অনুমোদন নেই বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ৫০০ মিটারের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলে অনুমোদন বাতিলের নিয়ম নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
আলমডাঙ্গা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আসিরুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘এক মৌসুমে একটি ভাটায় আমরা ৪০-৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করি। যদি উচ্ছেদ করা হয়, তবে মালিক এবং হাজারো শ্রমিক পরিবার বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে।’ স্থানীয় শ্রমিকরা জানান, ভাটা বন্ধ হয়ে গেলে তাদের কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে যাবে, যা তাদের পরিবারকে চরম কষ্টে ফেলবে।
