ছবির ক্যাপশন:
মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে চুয়াডাঙ্গার অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলো। গত ১০ মাসে এ জেলায় ট্রেনেকাটা পড়ে নিহত হয়েছে ১০ জন। যার বেশিরবাভাগই ঘটছে অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের কারণে। রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৩০টি রেলক্রসিং রয়েছে। যার মধ্যে ১৫টি রেলগেট রয়েছে অরক্ষিত। সেখানে কোনো গেটম্যান নেই। যার কারণে বৈধ গেটগুলোও মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এছাড়া রেলপথের ওপর দিয়ে চলাচলের জন্য মানবসৃষ্ট আরও ২৫-৩০টি রাস্তা রয়েছে।
খুলনা থেকে আন্তঃনগর, মেইল ও পণ্যবাহী ট্রেন প্রতিনিয়ত চলাচল করে এ জেলার রেলপথে। ট্রেন আসলে গেটের আশেপাশে থাকা সাধারণ মানুষ মাঝেমধ্যে গেটম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।
সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের আমিরপুর গ্রামের রেলপাড়া। যেখানে চলাচলের জন্য রেললাইনের ওপর দিয়ে রাস্তা তৈরি করেছে স্থানীয়রা। সেখান দিয়ে পথচারীসহ ছোট-বড় যানবাহনগুলো চলাচল করে প্রতিনিয়ত। এ বছরের ৮ জুলাই অরক্ষিত গেটম্যানহীন ওই রেলগেটে আন্তঃনগর রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে আমিরপুর গ্রামের জীবন আলী (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়। অসাবধানতাবশত ট্রেন আসা খেয়াল না করে রেললাইনের ওপর উঠে পড়েন জীবন নামের ওই যুবক। ট্রেনে ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে জীবনের মরদেহ প্রায় ১০০ মিটার দূরে চলে যায়। এ ঘটনার পর স্থানীয়রা আন্তঃনগর কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন আটকে স্থায়ীভাবে রেলগেট ও গেটম্যানের দাবি তুলে অবরোধ করেন।
স্থানীয়রা জানান, চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে নিয়মিত প্রাণ যাচ্ছে অনেকের। চুয়াডাঙ্গা জিআরপি ফাঁড়ির ইনচার্জ জগদীশ চন্দ্র বসু বলেন, গত দশ মাসে চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে মারা গেছে ১০ জন। পুলিশ প্রতিটি ঘটনার আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে। ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হওয়া একটি মর্মান্তিক ঘটনা।
অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের পাশে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী চায়ের দোকানদার সুজন আলী বলেন, চোখের সামনে অনেক দুর্ঘটনা হতে দেখেছি। রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে নজর দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
নিয়মিত অরক্ষিত গেটম্যানহীন রেলক্রসিংয়ে পারাপার হওয়া আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিনই চাকরিসূত্রে এই পথ দিয়েই চলাচল করি। এইদিক দিয়ে সহজে যাওয়া যায় তবে ঝুঁকিপূর্ণ। গেটম্যান না থাকায় আমাদের নিজ দায়িত্বে পারাপার হতে হয়। একবারতো পারাপার হওয়ার সময় ট্রেন অনেক কাছে চলে এসেছিল। পারাপার আমাদের সচেতনতা ও সাবধানতার বিকল্প নেই।
চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলার ভিতর ৩০টি বৈধ রেলগেট আছে যার মধ্য ১৫টি গেটে কোনো গেটম্যান নেই। বৈধ গেটগুলোর যেগুলোতে গেটম্যান নেই সেগুলো জনবল নিয়োগের কাজ চলছে। অতিসত্বর এগুলাতেও আমরা গেটম্যান দিবো।
তিনি আরও বলে, অবৈধধ রেলক্রসিংগুলো মানুষ বিভিন্ন সময় তৈরি করেছে। যেগুলো আমাদের রেলওয়ের অনুমোদন নেই। এসব স্থানগুলোই বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। পারাপারে সবাই সচেতন থাকলে এ ধরনের দুর্ঘটনা হ্রাস পাবে।
