ছবির ক্যাপশন:
আওয়াল হোসেন, দর্শনা:
কার্তিকের বিদায়ের পর অগ্রহায়ণের শুরুতেই উত্তরের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। কুয়াশায় ঢেকে আসছে সকাল, আর এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন দামুড়হুদার গাছি ও কৃষকেরা। শীতের আমেজ শুরু হতেই আগাম খেজুরের মিঠা রস সংগ্রহ এবং গুড় তৈরির কাজ শুরু করেছে কৃষকেরা। নতুন ধানের সুবাস আর খেজুর গাছের রস-মিঠা মিলে গ্রামবাংলায় ঘরে ঘরে পিঠা-পুলির উৎসবের আবহ তৈরি হতে শুরু করেছে।
চুয়াডাঙ্গার কৃষিবিদ আব্দুস সামাদ জানান, বর্তমানে তাপমাত্রা ১৫.৪ থেকে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে উঠানামা করছে। খেজুর গাছ থেকে রস নামা শুরু করে এবং কৃষকরা রস সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। খেজুর রস থেকে গুড় তৈরি শুরু হয়েছে ইতোমধ্যেই। কৃষক দেলোয়ার হোসেন জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণ মাত্রায় রস ও গুড় উৎপাদন শুরু হবে। উৎপাদন বাড়ছে, কিন্তু কমছে খেজুর গাছ।
দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিসার শারমীন আক্তার জানান, এ মৌসুমে উপজেলায় ২৫ হেক্টর এলাকায় প্রায় ৫৬ হাজার ২৫০ থেকে ৬০ হাজার খেজুর গাছ রয়েছে। প্রতিবছর এখানকার কৃষকেরা ১৩৭ থেকে ১৫০ মেট্রিক টন খেজুর গুড় উৎপাদন করে থাকেন। উৎপাদিত গুড় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। বাণিজ্যিকভাবে খেজুর রস ও গুড় উৎপাদন কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করছে। তবে বছর বছর খেজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে জানান তিনি।
অগ্রহায়ণ থেকে শুরু হয়ে ফাল্গুন পর্যন্ত চলে রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির কাজ। যতই শীত বাড়ে, ততই রস ও গুড়ের উৎপাদন বাড়তে থাকে। কৃষক আব্দুল হান্নান বলেন, ১৯৭৩ সাল থেকে রস সংগ্রহ করছি। এ বছর ৮০টি খেজুর গাছ প্রস্তুত করেছি। খাজা মিয়া বলেন, এ বছর ১৩০টি গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে প্রতিদিন ১০-১২ কেজি গুড় উৎপাদন করবো।
দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার ২৬০টি গাছ রয়েছে। বর্তমানে ৩–৪ কেজি হলেও এক সপ্তাহ পর প্রতিদিন ১০-১২ কেজি, আর এক মাস পরে ২৩ ভাঁড় গুড় উৎপাদন হবে।
