ছবির ক্যাপশন:
দর্শনা কেরুজ চিনিকল আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ১০২ কোটি ২১ লাখ টাকার নতুন বয়লিং হাউজে ‘স্লো ফায়ারিং’-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বেলা তিনটায় মিলের ফ্যাক্টরির ভেতর দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে বয়লিং হাউজের আগুন নিক্ষেপ করে উদ্বোধন করে কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর রাব্বিক হাসান বলেন, ১৯৩৮ সাল থেকে মিলটি একইভাবে চলছে। আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বিএমআরআই কাজ এগিয়ে চলছে। বয়লিং হাউজ মিলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ জন্য আমরা পরীক্ষামূলকভাবে আগে থেকেই দেখে নিচ্ছি কোনো ত্রুটি রয়েছে কি না। সমস্যা থাকলে দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে। প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের কাজ প্রায় শেষের দিকে। আশা করছি- এ বছরই নতুন বয়লিং হাউজে আখ মাড়াই শুরু করতে পারবো।
তিনি আরও বলেন, ২০১২ সালে প্রকল্পটি দুই বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় ১৩ বছর পেরিয়ে গেছে। প্রকল্পের দায়িত্ব নতুন করে বিএমটিএফকে দেওয়া হয়েছে এবং তারা ইতিমধ্যে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। আশা করছি- আগামী ৫ ডিসেম্বর থেকেই ২০২৫-২৬ মাড়াই মৌসুমে নতুন বয়লিং হাউজ দিয়ে যাত্রা শুরু করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএমআর প্রকল্পের পিডি ফিদা হোসেন বাদশা, বিএমটিএফের ডিরেক্টর ম্যানেজার বেলায়েত হোসেন, কেরুজ চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক (কারখানা) সুমন কুমার সাহা, মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) আশরাফুল আলম ভুঁইয়া, মহাব্যবস্থাপক (এডিএম) মীর্জা গালিব, মহাব্যবস্থাপক (যন্ত্রাংশ) ইসমাইল হোসেন মোল্লা। দোয়া পরিচালনা করেন কেরু জামে মসজিদের পেশ ইমাম সামসুজ্জোহা আজাদী।
২০১২ সালে ‘বিএমআর অব কেরু অ্যান্ড কোং (বিডি) লিমিটেড’ নামে প্রকল্পটির অনুমোদন দেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষের কথা থাকলেও সময়সীমা সাতবার বাড়ানো হয়। প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪৬ কোটি টাকা, যা সংশোধিত হয়ে দাঁড়িয়েছে ১০২ কোটি টাকায়। দীর্ঘ ১৪ বছরেও প্রকল্প পুরোপুরি শেষ হয়নি।
সম্প্রতি শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে গত ১৭ আগস্ট একনেক সভায় অষ্টমবারের মতো প্রকল্প সংশোধনের অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন সময়সীমা অনুযায়ী ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে আধুনিকায়ন প্রকল্প সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
