ছবির ক্যাপশন:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ এবার চুয়াডাঙ্গা শহরের সাংগঠনিক ঐক্যের মাধ্যমে চূড়ান্ত জয়ের নকশা আঁকলেন। গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা চেম্বার অব কমার্স ভবনে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় শহর এবং সদর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সহযোগী সংগঠনের উপস্থিতি প্রমাণ করে, দল এখন সুসংগঠিত এবং জয়ের জন্য প্রস্তুত। চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভাটি পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল মালিক সুজন সঞ্চালনা করেন। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করেন সদর উপজেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম।
প্রধান অতিথি শরীফুজ্জামান শরীফ তাঁর আবেগময় বক্তব্যে অতীত সংগ্রামের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ভবিষ্যতে সুনির্দিষ্ট কৌশলে নির্বাচন করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘আমার চুয়াডাঙ্গা সদর ও পৌর বিএনপির সংগ্রামী ভাই ও বোনেরা, আপনারা ১৭ বছর ধরে রাজপথে থেকে আমাদের সাথে লড়ে গেছেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। বর্তমান আমরা যে কমিটি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি, এই কমিটি হলো ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় করা কমিটি। ওই সময় মানুষ বিএনপির খাতায় নাম লেখাতে চায়নি, ঠিক সেই দুঃসময়ে আপনারা বিএনপির খাতায় নাম লিখিয়েছিলেন। আপনাদের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।’
তিনি বলেন, ‘সামনে ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচনে আপনাদের সকলকে এক অদৃশ্য শক্তির সাথে নির্বাচন করতে হবে। তাই সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়তে হবে। আমাদের নেত্রী, আমাদের মা, তিন তিন বারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আমাদের নেতা জিয়াউর রহমান আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার ছিলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ছিলেন। আজকে তাদের সম্পর্কে সাধারণ মানুষের কাছে অনেক কিছু বলার আছে। এ জন্য আপনাদের দুটো সহজ টিপস দেব- পরিকল্পিত নির্বাচন করার জন্য আপনাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। শুধু মুখে বলে আসলে হবে না, চিঠি ইস্যু করতে হবে। প্রাক্তন নেতা এবং অসুস্থ যেসব নেতা আছেন, তাদের বাড়ি যেতে হবে এবং যারা মারা গেছেন, তাদের পরিবারের কাছেও যেতে হবে। তাদের মনে করিয়ে দিতে হবে যে, জাতীয়তাবাদী দল তাদের আজও মনে রেখেছে এবং তাদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছে।’
শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘আপনাদের উচিত জাতীয়তাবাদী দলের বাইরের যারা, তাদের ভোট অর্জন করা। নিজেদের ভোট তো আমরা পাবোই। যেই ভোট আমাদের না, সেই ভোট আমাদের অর্জন করতে হবে। যাকে আপনি ডাকলে মিছিলে আসছে, মিটিংয়ে আসছে, আপনার সাথে সবসময় থাকছে- তার কাছে ভোট চাওয়া তো ভোট করা না। আমরা সমাজের সবার কাছে যাবো, সবার কাছে ভোট চাইবো। আপনাদের সুস্পষ্টভাবে একটা কথা বলতে চাই- টিসিবি কার্ড, চাল-ডালের কার্ড, সার- এসব জায়গাতে যেন বিএনপির কোনো নেতা-কর্মীর সম্পৃক্ততা না দেখি। আপনি যখন দেখবেন কৃষকরা সার পাবে না, তখন কৃষকদের কাতারে দাঁড়িয়ে আপনি মানববন্ধন করবেন, আপনি তখন প্রতিবাদ করবেন আপনার কৃষক ভাইয়েরা সার পায়নি বলে। নিজেদের ভেতর কোনো হানাহানি, মারামারি এসব থেকে দূরে থাকতে হবে। এখন নির্বাচন করার সময়, সকলে এক হয়ে সবাইকে ভোট করার সুযোগ করে দিতে হবে। আপনাদের সকলকে উদার মানসিকতা নিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট নিয়ে আসতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা মহিলাদের দিয়ে ছোট ছোট টিম করেন, প্রতি বাড়িতে ১০-১৫ মিনিট সময় দেন। তাদের সাথে কথা বলেন, গল্প করেন। এই গল্পের ভেতর দিয়েই আপনি বুঝতে পারবেন ওই বাড়ির ভোটটা আপনি পাচ্ছেন কি পাচ্ছেন না। আপনি শুধু হ্যান্ডবিল দিয়ে চলে আসলে আপনার পরিশ্রমটাই বৃথা যাবে। ভোটারদের বোঝাতে হবে কেন তারা ধানের শীষে ভোট দেবে, তাদের আমাদের দল সম্পর্কে জানাতে হবে, আর যারা আমাদের ভোট দেবে, তাদের আরও বেশি উৎসাহিত করতে হবে। আজ এখানে ৬০০ মানুষকে দাওয়াত করা হয়েছে। আপনাদের কাল থেকে নির্বাচন পর্যন্ত সময় দেওয়া হলো, প্রত্যেকে প্রতিদিন একটি করে ভোট নিশ্চিত করবেন। তবে নিজেদের ভেতরের ভোট নয়, যারা আমাদের ভোট দেবে না, তাদের ভেতর থেকে প্রতিদিন একটি ভোট নিশ্চিত করবেন।’
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য খন্দকার আব্দুল জব্বার সোনা, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম নজু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান লিপটন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক পল্টু, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম মুকুট, চুয়াডাঙ্গা সাংবাদিক সমিতির সাবেক সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এম আর মুকুল, সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হাফিজুর রহমান মুক্ত ও সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুব হক মহাবুব।
এছাড়াও উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন জেলা মহিলা দলের সভাপতি রউফ উর নাহার রিনা, জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব ও বাড়াদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোবারক হোসেন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশীদ ঝণ্টু, জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাবলু, জেলা জাসাস-এর সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিনুর রহমান মোমিন, জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও চিৎলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ছালাম বিপ্লব, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদ মোহাম্মদ রাজিব খান, জেলা ওলামা দলের আহ্বায়ক মওলানা আনোয়ার হোসেন, সদস্যসচিব হাফেজ মওলানা মাহাবুল হক, জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহসভাপতি শেফালী বেগম, সাধারণ সম্পাদক জাহানারা পারভীন ও সাংগঠনিক সম্পাদক নাসরীন পারভীন।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পদ্ববিলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম সরোবর জোয়ার্দার হিমু, মোমিনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান শেখন, শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইফুল ইসলাম, নবগঠিত মাখালডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নূরগনী সামদানী, আলুকদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমির হোসেন ঢাকালে, চুয়াডাঙ্গা পৌর ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম, ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি শাকের আলী, ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কুদ্দুস মহলদার, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ ভাদু, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মিনহাজ উদ্দিন মন্ডল, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমেদ জোয়ার্দার স্বপন, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বজলুর রহমান বজলু, ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সহিদুল হক বিশ্বাস, সদর উপজেলার পদ্মবিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রায়হান কাজল, শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রুবেল, নবগঠিত মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমান লিটন, মোমিনুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছালাম, আলুকদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আখতিয়ার হোসেন আখতার, কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি হাবিবুর রহমান হবি, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নাসির উদ্দিন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খাজা মহিউদ্দিন, চুয়াডাঙ্গা পৌর ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আলী, ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম সোহেল, ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পল্লব আহমদ, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান লাল, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামিম আহমেদ, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান জোয়ার্দার পান্না, ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিলন হোসেন, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব বাপ্পি, সদর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মতিউর রহমান মিশর, সদস্যসচিব মহলদার ইমরান রিণ্টু, সদর উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক সাজিবর রহমান, সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর আলম, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এস এম হাসান, সদর উপজেলা ওলামা দলের সদস্যসচিব শরীফুজ্জামান সুমন, সদর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মাহাবুব, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক বিপুল হাসান হাজি, সদস্যসচিব আজিজুল হক আজিজুল, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রুবেল হাসান, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কৌশিক আহমেদ রানাসহ বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী।
