ঝিনাইদহের সাবেক তিন জেলা প্রশাসকের ‘অনাহুত উন্নয়ন’ নিয়ে ক্ষোভ

টিআর-কাবিখার অর্থে সৌন্দর্য্য বর্ধনের নামে অপচয়

আপলোড তারিখঃ 2025-11-12 ইং
ঝিনাইদহের সাবেক তিন জেলা প্রশাসকের ‘অনাহুত উন্নয়ন’ নিয়ে ক্ষোভ ছবির ক্যাপশন:

ঝিনাইদহে তিনজন বিতর্কিত জেলা প্রশাসকদের অনাহুত উন্নয়ন নিয়ে শহরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সরকারি কোনো আনুষ্ঠানিক বরাদ্দ না থাকলেও তিনজন জেলা প্রশাসক নানা স্থাপনা নির্মাণ করে বিতর্কের জন্ম দেন। তবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তাদের করা এসব স্থাপনা এখন পরিণত হয়েছে অযত্নের প্রতীকে। তথ্য সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে ঝিনাইদহের সাবেক জেলা প্রশাসক মাহবুব আলম তালুকদার জেলা প্রশাসকের দপ্তরের সামনে সৌন্দর্য্য বর্ধনের জন্য ‘ডিসি মিনি ইকো পার্ক’ নির্মাণ করেন। এ কাজে আর্থিক সহায়তা করেন জাহেদী ফাউন্ডেশন। তবে বর্তমানে পার্কটি অব্যবস্থাপনায় পড়ে সৌন্দর্য্যরে পরিবর্তে শোভা বিনষ্ট করছে।


জাহেদী ফাউন্ডেশন ছাড়াও টিআর, কাবিখা ও কাবিটা থেকে বিধি বর্হিভুতভাবে অর্থ বরাদ্দ নেন জেলা প্রশাসক মাহবুব আলম তালুকদার। ৮ বছর আগে ‘ডিসি মিনি ইকো পার্ক’ নির্মাণ করা হলেও এই অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে কোনো আর্থিক বরাদ্দ না থাকায় ডিসি মিনি ইকো পার্কটি এখন ভাঙা হাটে পরিণত হয়েছে। এদিকে ২০১৮ সালে রাতের ভোটের কারিগর জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ একইভাবে তার প্রশাসকের দপ্তরের সামনে পদ্মপুকুর স্থাপন এবং পুরাতন ডিসি কোর্টের সামনে ঝিনুক আকৃতির স্থাপনা নির্মাণ করেন। সময়ের ব্যবধানে এসব স্থাপনাও এখন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জীর্ণ হয়ে পড়েছে।


সর্বশেষ ২০২৪ সালের রাতের ভোটের কারিগর ফ্যাসিস্ট জেলা প্রশাসক এস এম রফিকুল ইসলাম সরকারের অনুমোদন ছাড়াই একাধিক উন্নয়ন কাজ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে জেলা প্রশাসকের দপ্তরের সামনে অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের একটি সুউচ্চ ম্যুরাল স্থাপন করে তিনি বিতর্কের জন্ম দেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব উদ্যোগে সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার হয়নি এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনও নেওয়া হয়নি। গত ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর নির্মিত শেখ মুজিবের সেই ম্যুরালটি ভেঙে দেওয়া হয়।


জেলা প্রশাসক এস এম রফিকুল ইসলাম শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল স্থাপন করেই ক্ষ্যান্ত হননি, তিনি পুরোনো ডিসি কোর্টের বিশাল আঙিনায় বিধি বর্হিভুতভাবে লং টেনিস, ব্যাডমিনটন কোর্ট ও অফিসার্স ক্লাব তৈরি করেন। এই স্থাপনা তৈরি করতে গিয়ে তিনি জেলা নির্বাচন অফিসের সম্মুখভাগ দখল করে সৌন্দর্য্য বিনষ্ট করেছেন বলে অভিযোগ।


ঝিনাইদহ ফোরামের সভাপতি ও সাবেক অধ্যক্ষ মহাব্বত হোসেন টিপু বলেন, রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় এসব স্থাপনা এখন অসাড় হয়ে পড়েছে। পরিকল্পনা ছাড়া নির্মাণ মানেই অপচয়। বিশেষ করে পুরোনো ডিসি কোর্টের মধ্যে আগে বই মেলা, বৃক্ষমেলাসহ নানা অনুষ্ঠান হতো। কিন্তু সাবেক এক জেলা প্রশাসক তার নিজের পৈতৃক সম্পত্তি মনে করে বিতর্কিত সব স্থাপনা তৈরি করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকারি অফিসের সামনে কি করে লং টেনিস, কী কোর্ট ও অফিসার্স ক্লাবের সাইনবোর্ড উঠতে পারে? তিনি ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় অপরিকল্পিত স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানান।


ঝিনাইদহ সনাক সভাপতি এম সাইফুল মাবুদ বলেন, অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে মানুষ এসব কর্মকাণ্ড ভালো চোখে দেখছে না। সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। তিনি বলেন, এসব অনাহুত উন্নয়ন প্রকল্প একদিকে সরকারি সম্পদের অপচয় ঘটিয়েছে। ছাড়া এত ব্যয়বহুল কাজের অর্থ এল কোথা থেকে তার স্বচ্ছতা থাদা দরকার ছিল। সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি সাইদুল আলম লেন, ‘এসব উন্নয়ন আসলে উন্নয়ন নয়, লুটপাটের জন্যই করা হয়েছিল। জনগণের অর্থের জবাবদিহিতা থাকতে হবে।’


ঝিনাইদহের একাধিক অনাহুত উন্নয়ন নিয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল বলেন, এ ধরনের উন্নয়ন গ্রহণ করা ঠিক হয়নি। সরকারি দপ্তর বিশেষ করে গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধান ছাড়া এমন উদ্যোগ প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। তিনি বলেন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন করার ফলে তা গণপূর্ত বিভাগ দিয়ে রক্ষণাবেক্ষণ করা যাচ্ছে না। বিষয়টি গণপূর্ত বিভাগ দিয়ে দেখভাল করা যায় কি না তা কতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সম্পাদকীয় :

প্রধান সম্পাদকঃ নাজমুল হক স্বপন
ফোনঃ +৮৮০২৪৭৭৭৮৭৫৫৬

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ

বার্তা সম্পাদকঃ শরীফুজ্জামান শরীফ


বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়ঃ

অফিসঃ পুলিশ পার্ক লেন (মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা) কোর্ট রোড, চুয়াডাঙ্গা।

ইমেইলঃ dailysomoyersomikoron@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১-৯০৯১৯৭, ০১৭০৫-৪০১৪৬৪(বার্তা-বিভাগ), ০১৭০৫-৪০১৪৬৭(সার্কুলেশন)