ছবির ক্যাপশন:
ব্যবসার ফাঁদে ফেলে ২০ কোটি টাকা মূল্যের পণ্য হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে প্রতারণা মামলার আসামিদের পক্ষে পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণের অভিযোগ তোলা হয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধে। গতকাল রোববার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা চেম্বার অব কমার্স ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার, সদর থানার পরিদর্শকসহ কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলেন মামলার বাদী ইসমাইল হোসেন রতন ও লিটন কুমার আইচ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, দেড় বছর আগে সাতক্ষীরার মহাদেব চন্দ্র সাধু নামে একটি প্রতারক চক্রের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন রতন ও লিটন কুমার আইচের। পণ্য কেনাবেচার মাধ্যমে তাদের মধ্যে আর্থিক লেনদেনের সম্পর্ক তৈরি হয়। হঠাৎ করেই তাদের কাছ থেকে ২০ কোটি টাকার পণ্য গ্রহণ করার পর থেকে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন মহাদেব চন্দ্র সাধু। এরপর তাঁকে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে বোঝা যায় মহাদেব চন্দ্র সাধু প্রকৃত অর্থে কোনো ব্যবসায়ী না। তিনি একজন প্রতারক। কারণ তাঁর ভিজিটিং কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ঠিকানা সবই ছিল ভুয়া। এর মধ্যে মহাদেব চন্দ্র সাধু একটি ধর্ষণ মামলায় চুয়াডাঙ্গায় গ্রেপ্তার হন। তাঁর খোঁজ পেয়ে চুয়াডাঙ্গা আদালতে ২০ কোটি টাকার প্রতারণা মামলা করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা।
প্রতারণা মামলার বাদী ইসমাইল হোসেন রতন অভিযোগ করে বলেন, আদালতে দায়ের করা প্রতারণা মামলায় মহাদেব চন্দ্র সাধুসহ আরও ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিলেও পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার না করে পাল্টা সুবিধা দিয়ে আসছে। চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপারের কাছে বিষয়টি জানানোর পরও তিনি আসামিদের গ্রেপ্তারে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এমনকি সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হোসেন আলী, মুন্সি ফারুক হোসেন ও কোর্ট পুলিশের এসআই নুতন আলী আসামিদের কাছে বাদীর সকল প্রকার তথ্য সরবরাহ করে তাদেরকে গোপনে সুবিধা দিচ্ছে এবং পালিয়ে যেতে সহায়তা করছে। এ কারণে আসামিরা নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য প্রতারণা মামলার বাকি ৯ আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।
