ছবির ক্যাপশন:
সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ হিসেবে বশির উদ্দিন আহমেদ মাজমাদার ঝিনাইদহের একজন খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব এবং ঝিনাইদহের উন্নয়নের প্রথম কারিগর হিসেবে পরিচিত। ১৯৬২ সালে কনভেনশন মুসলিম লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং মন্ত্রীত্ব লাভ করেন বশির মাজমাদার। এটি ছিল ঝিনাইদহ হতে কোনো ব্যক্তির প্রথম মন্ত্রীত্ব লাভ। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক মন্ত্রীসভায় পূর্ত, সেচ, ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন তিনি।
তার হাত ধরেই ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ, কালীগঞ্জ সুগার মিল, যশোর শিক্ষাবোর্ড, ঢাকা মিরপুর দুই নাম্বারে বশির উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া রোড, ঝিনাইদহ শহর বিদ্যুতায়ন, ঝিনাইদহ কে.সি. কলেজকে ডিগ্রি কলেজে উন্নীতকরণ ও বিজ্ঞান বিভাগ খোলার জন্য সরকারি অনুদান প্রদান ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সংসদ ভবন ও এমপি হোস্টেল নির্মান, ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নতুন করে নির্মাণ, যশোর টিচার্স-ট্রেনিং কলেজ, যশোর পলিটেকনিক কলেজ, ঝিনাইদহ মহকুমা প্রশাসকের কার্যালয়, বিডি হল (বর্তমানে আরডি হল), নবগঙ্গা নদীর ওপর ব্রিজ নির্মানসহ হামদহ মোড় থেকে আরাপপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত পাকাকরণ প্রভৃতি কাজ সম্পন্ন হয়।
বশিরউদ্দিন আহমেদ মাজমাদারের সমাজসেবা ও জন্মভূমি ঝিনাইদহের প্রতি প্রগাঢ় ভালোবাসার নিদর্শন। তিনি ১৯৪২ ও ১৯৬০ সালে অনারারী ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত হন। তার সময়ে ঝিনাইদহে আরও একজন ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন, তিনি হলেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বংকিরা গ্রামের নিখিলেশর চন্দ্র বসু। ঝিনাইদহ শহরে মাওলানা ভাসানী সড়কে বশির মাজমাদারের দ্বিতল বাড়ি আছে। ১৯৭৫ সালের ৫ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নয়নের প্রথম কারিগর বশির ইন্তেকাল করেন।
তিনি শৈলকূপা উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত হুদামাইলমারি গ্রামের মাজমাদার পরিবারে ১৮৯৮ সালের আগস্ট মাসে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা নজীর উদ্দিন আহমেদ মাজমাদার ও মাতা সৈয়দা করিমন নেছা। তিনি ঝিনাইদহ মডেল হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন ১৯৩৪ সালে এবং কলিকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে আইএ ও অর্থনীতি বিষয়সহ স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। লেখাপড়া শেষে তিনি ইনকাম ট্যাক্স অফিসার হিসেবে ১৯৪৫ সালে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। এসময় মি. জিন্নাহর দ্বি-জাতি তত্ত্বে পাকিস্তান আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৫১ সালে তিনি চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি ভারতীয় মুসলিম লীগের সহকারী সম্পাদক পদে নিযুক্ত ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন বাকপটু ব্যক্তি। বাংলা ও ইংরেজিতে যথেষ্ট জ্ঞান ছিল। উভয় ভাষায় বক্তৃতা দিয়ে শ্রোতাদের আকৃষ্ট করার অদ্ভুত ক্ষমতা ছিল তাঁর। ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগের প্রার্থী বিজয়ের লক্ষে তাঁর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।
